সম্প্রতি
সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর অনলাইনে জরিপ চালায় বাংলাদেশ
বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)। সেখানে দেখানো
হয়েছে বাংলাদেশ গত ৩৩ বছরে মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা
বেড়েছে ১৬ হাজার ৯১০টি। প্রতিষ্ঠান বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে শিক্ষার্থীর
সংখ্যাও। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়ার সঙ্গে মান সেভাবে বাড়েনি। গত সপ্তাহ
রাজধানীর নীলক্ষেত ব্যানবেইস ভবনে ‘বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০১৫’
প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, ১৯৮২ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত
মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বৃদ্ধির একটি তালিকা
প্রকাশ করে। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা।
১৯৮২ সালে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯৩টি বেড়ে ২০১৫ সালে তা
দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২২৭টিতে। ৩৩ বছরে মাধ্যমিক স্কুল ৮ হাজার ৯৬০ থেকে বেড়ে
হয়েছে ১৯ হাজার ৭২৬, কলেজ ৫০৯টি থেকে বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার ১১৩টি। পাবলিক
বিশ্ববিদ্যালয় সাতটি থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৮টি। ১৯৯০ সালের আগে প্রাইভেট
বিশ্ববিদ্যালয় না থাকলেও এখন দেশে ৯১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। তবে
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওপর ব্যানবেইস জরিপ পরিচালনা না করার কারণে প্রাথমিক
বিদ্যালয়ের তথ্য প্রতিষ্ঠানটি দিতে পারেনি।
এ বিষয়ে ব্যানবেইসে পরিচালক পরিচালক মো. ফসিউল্লাহ বলেন, চাহিদার সঙ্গে সবকিছুর জোগান বাড়বে সেটিই স্বাভাবিক। ১৯৮২ সালের পর থেকে বাংলাদেশ জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে শিক্ষা দিতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তা এগিয়ে এসেছে। চাহিদার আলোকেই এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেড়েছে মনে করেন তিনি। তিনি জানান, যে পরিমাণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেড়েছে সে পরিমাণ মানসম্মত শিক্ষক বাড়েনি। একই সঙ্গে শিক্ষার মানও বাড়েনি।
শিক্ষা রিপোর্টে দেখা যায়, শিক্ষার বিভিন্নস্তরের মধ্যে সরকারি কলেজগুলোতে ছাত্র-শিক্ষকের অনুপাতের বৈষম্য সবচেয়ে বেশি। সরকারি কলেজে ১০৫ জন ছাত্রের জন্য শিক্ষক রয়েছেন একজন, অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে অনুপাত ১:১০৫। ৩০২টি সরকারি কলেজে শিক্ষার্থী ১৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৬২ ও শিক্ষক ১২ হাজার ৯২৬ জন। বেসরকারির চেয়ে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকের তুলনায় ছাত্রের সংখ্যা অনেক বেশি। প্রাথমিক সরকারি বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষকের বিপরীতে ছাত্র ৪৩, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষকের বিপরীতে শিক্ষার্থী ৪১, মাদরাসায় একজন শিক্ষকের বিপরীতে ছাত্র ৮৪ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক একজন। অথচ ২০১০ সালে জাতীয় শিক্ষানীতিতে ৩০ ছাত্রের জন্য একজন শিক্ষক নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে মাধ্যমিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত দিন দিন বেড়েই চলছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক স্তরে ২০১১ সালে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত ছিল ১:৩০, ২০১২ সালে ১:৩৬, ২০১৩ সালে ১:৩৭ ও ২০১৪ সালে এসে দাঁড়ায় ১:৩৯।
তবে গত এক দশকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০১০ সালে ৫৯ দশমিক ২১ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কম্পিউটার থাকলেও ২০১৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সেখানে ৮২ দশমিক ২১ শতাংশ বিদ্যালয়ে এ সুবিধা রয়েছে। কম্পিউটার সুবিধা ২০১১ সালে ৬৫ দশমিক ০৬, ২০১২ সালে ৭০ দশমিক ৩ থেকে বেড়ে ২০১৪ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। ২০১০ সালে মাধ্যমিকের ১৮ দশমিক ১৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেও গত বছর তা ৭২ দশমিক ৯৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০১২ সাল থেকে মাধ্যমিক স্কুলে মাল্টিমিডিয়া সুবিধা অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। বর্তমানে ৭১ দশমিক ৯০ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ রয়েছে।
ব্যানবেইসের পরিসংখ্যানে আরও দেখানো হয়, দেশের মোট ২৬ হাজার ৭৬টি প্রতিষ্ঠানের ৪ লাখ ৭৯ হাজার ২৮৫ শিক্ষক-কর্মচারী এমপিও (সরকারি বেতন-ভাতার অংশ) পাচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্কুল ১৬ হাজার ১০২, মাদরাসা ৭ হাজার ৬১১ ও কলেজ রয়েছে ২ হাজার ৩৬৩টি। এমপিওপ্রাপ্তদের মধ্যে শিক্ষক তিন লাখ ৭৭ হাজার ৫৬৮ জন ও কর্মচারী এক লাখ এক হাজার ৭১৭ জন।
এ বিষয়ে ব্যানবেইসে পরিচালক পরিচালক মো. ফসিউল্লাহ বলেন, চাহিদার সঙ্গে সবকিছুর জোগান বাড়বে সেটিই স্বাভাবিক। ১৯৮২ সালের পর থেকে বাংলাদেশ জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে শিক্ষা দিতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তা এগিয়ে এসেছে। চাহিদার আলোকেই এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেড়েছে মনে করেন তিনি। তিনি জানান, যে পরিমাণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেড়েছে সে পরিমাণ মানসম্মত শিক্ষক বাড়েনি। একই সঙ্গে শিক্ষার মানও বাড়েনি।
শিক্ষা রিপোর্টে দেখা যায়, শিক্ষার বিভিন্নস্তরের মধ্যে সরকারি কলেজগুলোতে ছাত্র-শিক্ষকের অনুপাতের বৈষম্য সবচেয়ে বেশি। সরকারি কলেজে ১০৫ জন ছাত্রের জন্য শিক্ষক রয়েছেন একজন, অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে অনুপাত ১:১০৫। ৩০২টি সরকারি কলেজে শিক্ষার্থী ১৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৬২ ও শিক্ষক ১২ হাজার ৯২৬ জন। বেসরকারির চেয়ে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকের তুলনায় ছাত্রের সংখ্যা অনেক বেশি। প্রাথমিক সরকারি বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষকের বিপরীতে ছাত্র ৪৩, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষকের বিপরীতে শিক্ষার্থী ৪১, মাদরাসায় একজন শিক্ষকের বিপরীতে ছাত্র ৮৪ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক একজন। অথচ ২০১০ সালে জাতীয় শিক্ষানীতিতে ৩০ ছাত্রের জন্য একজন শিক্ষক নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে মাধ্যমিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত দিন দিন বেড়েই চলছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক স্তরে ২০১১ সালে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত ছিল ১:৩০, ২০১২ সালে ১:৩৬, ২০১৩ সালে ১:৩৭ ও ২০১৪ সালে এসে দাঁড়ায় ১:৩৯।
তবে গত এক দশকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০১০ সালে ৫৯ দশমিক ২১ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কম্পিউটার থাকলেও ২০১৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সেখানে ৮২ দশমিক ২১ শতাংশ বিদ্যালয়ে এ সুবিধা রয়েছে। কম্পিউটার সুবিধা ২০১১ সালে ৬৫ দশমিক ০৬, ২০১২ সালে ৭০ দশমিক ৩ থেকে বেড়ে ২০১৪ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। ২০১০ সালে মাধ্যমিকের ১৮ দশমিক ১৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেও গত বছর তা ৭২ দশমিক ৯৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০১২ সাল থেকে মাধ্যমিক স্কুলে মাল্টিমিডিয়া সুবিধা অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। বর্তমানে ৭১ দশমিক ৯০ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ রয়েছে।
ব্যানবেইসের পরিসংখ্যানে আরও দেখানো হয়, দেশের মোট ২৬ হাজার ৭৬টি প্রতিষ্ঠানের ৪ লাখ ৭৯ হাজার ২৮৫ শিক্ষক-কর্মচারী এমপিও (সরকারি বেতন-ভাতার অংশ) পাচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্কুল ১৬ হাজার ১০২, মাদরাসা ৭ হাজার ৬১১ ও কলেজ রয়েছে ২ হাজার ৩৬৩টি। এমপিওপ্রাপ্তদের মধ্যে শিক্ষক তিন লাখ ৭৭ হাজার ৫৬৮ জন ও কর্মচারী এক লাখ এক হাজার ৭১৭ জন।

No comments:
Post a Comment