Saturday, March 12, 2016

‘বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ হ্যাক নয়, চুরি হয়েছে’ -গয়েশ্বর

বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ হ্যাক নয়, চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেছেন, যাদের হাতে ব্যাংকের চাবিকাঠি, তারা ছাড়া এই টাকা লুট হওয়া সম্ভব নয়। আর সরকারি দলের কারও সঙ্গে যোগসাজশ ছাড়া এত টাকা লুট করার সাহসও কারও নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে টাকা চুরির সঙ্গে ব্যাংক ও সরকারি দলের লোকজন জড়িত। সঠিকভাবে ঘটনার তদন্ত হলে এর প্রমাণ পাওয়া যাবে। জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। গয়েশ্বর রায় বলেন, গণতন্ত্র হ্যাকড অনেক আগেই হয়েছে, এখন দেশটা হ্যাকড হওয়ার বাকি আছে। দলীয় প্রতীকের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ‘বোগাস ও রাবিশ’ আখ্যায়িত করে গয়েশ্বর রায় বলেন, যারা বিনা ভোটে এমপি হয় সেই দলের নেতা-কর্মীরা বিনা ভোটে চেয়ারম্যান হবেন, এটাই স্বাভাবিক। এটাই তাদের কাছে গণতন্ত্র। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, গণতান্ত্রিক শক্তি নিয়ে অগ্রসর হলে জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি মিলবে। যার কোনটাই আওয়ামী লীগের আমলে হয়নি। রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তিনি বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক শাসন নেই, স্বৈরতান্ত্রিক শাসন চলছে। অস্থিরতা-আস্থাহীনতায় সুযোগ এলেও বিনিয়োগ হবে না। বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থান হবে না। অর্থনৈতিক অবস্থা অবনতির দিকে চলে যাবে। এজন্য গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। ২০দলীয় জোটের শরিক দল জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বলেন, ভারতের মাটিতে তাসকিন ও আরাফাত সানির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে, ভারত কি চাচ্ছে জানি না। তবে তাসকিন-সানির সামান্য অবমাননা হলে বাংলাদেশের তরুণরা বাঘের গর্জন দিয়ে জবাব দেবে। কর্মজীবী দলের সভাপতি মো. লিটনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, বিএনপি নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেন, কর্মজীবী দলের সহ-সভাপতি তৌফিক এলাহী কবির, এসএম নুরুল হক ও সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন সরদার বক্তব্য দেন।
এদিকে সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় আয়োজিত মিলাদ মাহফিলে গয়েশ্বর রায় বলেন,  বিএনপির আসন্ন ৬ষ্ঠ কাউন্সিল নেতা বানানোর জায়গা নয়, বর্তমান অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জাতির আকাক্সক্ষাকে বাস্তবায়ন করার মঞ্চ। দেশ কিভাবে চলবে- আগামী কাউন্সিল থেকে সে প্রতিশ্রুতি আসবে। বিএনপি রাজনৈতিক দল হিসেবে থাকবে। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১০ম কারাবন্দি দিবস উপলক্ষে যুবদল মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।  তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নেতৃত্ব নির্বাচন করতে অতীতে ভুল করেননি, এখনও করবেন না। বিএনপির বিগত দিনের কর্মসূচিতে যারা সরকারের নির্যাতন স্বীকার করেও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন তারাই এ কাউন্সিলে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসবেন। আশা করি আন্দোলন-সংগ্রামে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন নেত্রী তাদেরকে যথাযথ মূল্যায়ন করবেন। গয়েশ্বর রায় বলেন, দলে অনেকে আছেন যারা বড় বড় চেয়ার দখল করে আছেন, তারা চেয়ার ছাড়তে চান না। অনেকে চান ওই চেয়ার থেকে আরও ওপরে উঠতে। নেতা-কর্মীরা আশা করছেন, দলের চেয়ারপারসন যোগ্যদের দায়িত্ব দেবেন। চাটুকার, মোসাহেব ও ধান্ধাবাজদের পদ দেবেন না। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে নিষ্ক্রিয় থাকা ও চাটুকারেরা নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার জন্য এখন অনেক বেশি সক্রিয়। এরা কখনও দলের বন্ধু হতে পারে না। এরা দলের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। এদেরকে হাই এন্টিবায়োটিক দিতে হবে। সুতরাং অকর্মণ্য, অকার্যকর ব্যক্তির দিকে মানবিক দৃষ্টিতে তাকানোর সুযোগ নেই। বিএনপি স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, খালেদা জিয়ার সামনে এখন যারা প্রতিদিন চেহারা দেখাচ্ছেন, ধারণা দিচ্ছেন বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেননি। যার দলের জন্য নিজ নিজ অবস্থান থেকে সঠিক দায়িত্ব পালন করেন তারা নেতানেত্রীর সামনে গিয়ে চেহারা দেখানো ও ধারণা দেখানোর সময় পান না। আশা করি আন্দোলন- সংগ্রামে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন নেত্রী তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করবেন। তারেক রহমানকে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়ে গয়েশ্বর রায় বলেন, চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতেই সাধারণত সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করে থাকেন। খালেদা জিয়া বিএনপি চেয়ারপারসন হিসেবে তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে যাচ্ছেন। তারেক রহমানের বাংলাদেশে আসার পরিবেশ নেই। তারপরও তারেক রহমানকে দলের পক্ষ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দেয়া হোক। যেটি তিনি পালন করবেন। তাতে দলের নেতাকর্মীরা আরও উৎসাহিত হবে। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুস সালাম আজাদ বক্তব্য দেন।

No comments:

Post a Comment