Thursday, March 3, 2016

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর অ্যাকাউন্টে ১০০ কোটি ডলার

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ। এত বিশাল   অঙ্কের অর্থ কোথা থেকে এসেছে, কে দিয়েছে তা জানা যায়নি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে উদ্ধৃত করে লন্ডনের অনলাইন গার্ডিয়ান এ খবর দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আগে যে পরিমাণ অর্থ জমার কথা বলা হয়েছিল তার চেয়ে অনেক বেশি অর্থ জমা হয়েছে। এর পরিমাণ ‘হান্ড্রেডস অব মিলিয়ানস ডলার’। এর আগে অভিযোগ করা হয়েছিল, উন্নয়ন প্রকল্প ১ মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বেরহাদের (১এমডিবি) প্রায় ৭০ কোটি ডলার জমা হয়েছে নাজিব রাজাকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। তা নিয়ে তোলপাড় হয় মালয়েশিয়াসহ বিশ্বজুড়ে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল নতুন করে যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে তাতে এ অর্থ স্থানান্তরের বিষয় জানেন এমন অজ্ঞাত দুজন ও বিদেশে তদন্তে নিয়োজিত একজনকে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ২০১১ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে নাজিব রাজাকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার নয় তার চেয়ে অনেক বেশি অর্থাৎ ১০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ জমা পড়েছে। এতে বলা হয়, তদন্তে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যারা জড়িত তারা মনে করেন রাষ্ট্রীয় তহবিল ১এমডিবি থেকে এসব অর্থ স্থানান্তর হয়েছে। তবে বাড়তি এ অর্থ কোথা থেকে এসেছে এবং তা দিয়ে কী করা হয়েছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু বলা হয়নি। মালয়েশিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল আপান্দি আলী জানুয়ারিতে নাজিব রাজাককে এ ঘটনা থেকে দৃশ্যত দায়মুক্তি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নাজিব রাজাককে সৌদি আরবের রাজ পরিবারের এক সদস্য ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন। তবে এর বেশির ভাগই পরে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সর্বশেষ যে তথ্য দিচ্ছে তা অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যের বিরোধী। এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ২০১৩ সালে নাজিব রাজাকের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১এমডিবির ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার স্থানান্তর হয়। এ খবর প্রকাশিত হলে তার ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে বেশ কয়েক মাস ধরেই তীব্র সমালোচনার মুখে রয়েছেন তিনি। এমনকি তার পদত্যাগ দাবিও করা হয়েছে। তবে তিনি কোনো অন্যায় করেননি বলে জানিয়েছেন। বলেছেন, ওই তহবিল ছিল বৈধভাবে রাজনৈতিক দান। ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জনের জন্য তিনি কোনো অর্থ নেননি।

No comments:

Post a Comment