![]() |
| বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে মঙ্গলবারের হামলার পর গতকাল সেখানকার জাভেনতেম বিমানবন্দরে যাত্রীদের নিরাপত্তায় সেনা মোতায়েন করা হয় |
বেলজিয়ামের
রাজধানী ব্রাসেলসে মঙ্গলবার যে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হয়ে গেল, সন্দেহ নেই
তা সবাইকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। তবে কয়েক বছর ধরে যাঁরা শহরটির
ঘটনাপ্রবাহের দিকে নজর রেখেছেন, তাঁদের কাছে এই হামলা অবাক করে দেওয়ার মতো
কিছু নয়। একটু বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যাবে, ব্রাসেলসে এ ধরনের হামলা হওয়া
অনেকটাই স্বাভাবিক ছিল। একসময় ব্রাসেলসের পরিচিতি ছিল ইউরোপীয় সংস্কৃতি ও
রাজনীতির কেন্দ্রস্থল হিসেবে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সন্ত্রাস ও
উগ্রবাদ-সংশ্লিষ্টতার জন্যই যেন এ শহরের নাম উচ্চারিত হচ্ছে বেশি।
প্যারিস হামলার পলাতক সন্দেহভাজন সালাহ আবদেসালামকে গত সপ্তাহে ব্রাসেলসের মুসলিমপ্রধান মলেনবিক মহল্লা থেকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই একটা আশঙ্কা জনমনে দানা বাঁধছিল। মরক্কোর বংশোদ্ভূত আবদেসালাম ফরাসি নাগরিক। তবে তিনি তাঁর ভাই ব্রাহিম আবদেসালামের সঙ্গে প্রতিবেশী বেলজিয়ামের মলেনবিকে থাকতেন। প্যারিস হামলার সময় নিজেকে বোমায় উড়িয়ে দিয়েছিলেন ব্রাহিম। প্যারিস হামলার সময় ভাবা হয়েছিল, এর সঙ্গে জড়িত চক্র খুব বড় নয়। কিন্তু মঙ্গলবারের হামলা সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে। প্যারিস হামলার মূল হোতা আবদুলহামিদ আবাউদ ছিলেন বেলজিয়ামের নাগরিক। প্যারিস হামলার পাঁচ দিন পর তিনি পুলিশের গুলিতে মারা যান।
ব্রাসেলসের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত মলেনবিক এলাকায় লাখ খানেক মানুষের বাস। বিভিন্ন কারণে সেখানে ইসলামি চরমপন্থার বিস্তার হয়েছে। এই এলাকাটি বেলজিয়ামে এখন বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী প্যারিস হামলার পর মলেনবিককে ‘বিরাট সমস্যা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।
অথচ ব্রাসেলসের ফ্যাশনদুরস্ত এলাকাগুলো থেকে মলেনবিকের দূরত্ব খুবই সামান্য। অর্ধশতাব্দী আগে এখানে প্রথমে তুরস্ক ও পরে মরক্কোর অভিবাসীরা বসতি গড়ে। এরা মূলত মুসলিম। সাম্প্রতিক সময়ে এখানে বেশ কিছু পুনর্গঠন ও সচ্ছল মধ্যবিত্তের বসতি গড়ে উঠলেও এলাকাটি আশপাশের উন্নত মহল্লার চেয়ে পিছিয়েই রয়েছে।
মলেনবিকের ৪০ শতাংশের বেশি মানুষ বেকার। পুরো এলাকাটিই হতশ্রী দোকানপাটে ভরা। যেসব অভিবাসী এখানে বাস করতে আসে, তাদের বেশির ভাগই হয় শুধু আরবি কিংবা ফরাসি ভাষা জানে। কিন্তু ব্রাসেলসের অভিজাত এলাকায় কাজ পেতে ফরাসি, ফ্লেমিশ, ডাচ কিংবা ইংরেজি জানতে হয়।
বেলজিয়ামের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইতিনেরা ইনস্টিটিউটের গবেষক বিলাল বেনিয়াইশ ওয়াশিংটন পোস্টকে গত বছর বলেছিলেন, সত্তরের দশকে সৌদি আরব ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ধনী দেশগুলো এই এলাকায় প্রচুর তহবিল সরবরাহ করেছে। সেই অর্থে এখানে মাদ্রাসা গড়ে তোলা হয়েছে। এসব ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পশ্চিমাবিরোধী মনোভাব উদ্রেক করে এমন শিক্ষা দেওয়া হতো। এমনিতেই এখানকার লোকজন চাকরিবাকরিতে পিছিয়ে থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুব্ধ। বিলাল ওয়াশিংটন পোস্টকে তখন আরও বলেছিলেন, সন্ত্রাসের ঘটনায় তিনি বিস্মিত নন, কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেলজিয়ামে চরমপন্থী ও রাজনৈতিক ইসলামের বিস্তার ভালোভাবেই হয়েছে।
সাম্প্রতিক কয়েক বছরে আইএসের উত্থান ব্রাসেলসের পিছিয়ে থাকা মুসলিমদের সেই ক্ষোভকে আরও চড়িয়ে দেয়। বেলজিয়ামের গোয়েন্দা তথ্যমতে ছোট এ দেশটি থেকেই প্রায় ৫০০ মুসলিম আইএসের পক্ষে লড়াই করতে সিরিয়া ও ইরাকে গেছে। এদের অনেকে লড়াইয়ে মারা গেছে। অনেকে এখনো লড়ছে। আবার অনেকে প্রশিক্ষিত হয়ে ফিরে এসেছে।
কর্তৃপক্ষ মনে করে, আবাউদের মতো প্রায় ১০০ জন আইএসের কাছে প্রশিক্ষণ নিয়ে বেলজিয়াম ফিরে এসেছে। তারাই এখন পুরো ইউরোপকে অস্থির করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এর জন্য অপেক্ষাকৃত নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্রাসেলসকেই বেছে নিচ্ছে তারা।
প্যারিস হামলার পলাতক সন্দেহভাজন সালাহ আবদেসালামকে গত সপ্তাহে ব্রাসেলসের মুসলিমপ্রধান মলেনবিক মহল্লা থেকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই একটা আশঙ্কা জনমনে দানা বাঁধছিল। মরক্কোর বংশোদ্ভূত আবদেসালাম ফরাসি নাগরিক। তবে তিনি তাঁর ভাই ব্রাহিম আবদেসালামের সঙ্গে প্রতিবেশী বেলজিয়ামের মলেনবিকে থাকতেন। প্যারিস হামলার সময় নিজেকে বোমায় উড়িয়ে দিয়েছিলেন ব্রাহিম। প্যারিস হামলার সময় ভাবা হয়েছিল, এর সঙ্গে জড়িত চক্র খুব বড় নয়। কিন্তু মঙ্গলবারের হামলা সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে। প্যারিস হামলার মূল হোতা আবদুলহামিদ আবাউদ ছিলেন বেলজিয়ামের নাগরিক। প্যারিস হামলার পাঁচ দিন পর তিনি পুলিশের গুলিতে মারা যান।
ব্রাসেলসের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত মলেনবিক এলাকায় লাখ খানেক মানুষের বাস। বিভিন্ন কারণে সেখানে ইসলামি চরমপন্থার বিস্তার হয়েছে। এই এলাকাটি বেলজিয়ামে এখন বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী প্যারিস হামলার পর মলেনবিককে ‘বিরাট সমস্যা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।
অথচ ব্রাসেলসের ফ্যাশনদুরস্ত এলাকাগুলো থেকে মলেনবিকের দূরত্ব খুবই সামান্য। অর্ধশতাব্দী আগে এখানে প্রথমে তুরস্ক ও পরে মরক্কোর অভিবাসীরা বসতি গড়ে। এরা মূলত মুসলিম। সাম্প্রতিক সময়ে এখানে বেশ কিছু পুনর্গঠন ও সচ্ছল মধ্যবিত্তের বসতি গড়ে উঠলেও এলাকাটি আশপাশের উন্নত মহল্লার চেয়ে পিছিয়েই রয়েছে।
মলেনবিকের ৪০ শতাংশের বেশি মানুষ বেকার। পুরো এলাকাটিই হতশ্রী দোকানপাটে ভরা। যেসব অভিবাসী এখানে বাস করতে আসে, তাদের বেশির ভাগই হয় শুধু আরবি কিংবা ফরাসি ভাষা জানে। কিন্তু ব্রাসেলসের অভিজাত এলাকায় কাজ পেতে ফরাসি, ফ্লেমিশ, ডাচ কিংবা ইংরেজি জানতে হয়।
বেলজিয়ামের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইতিনেরা ইনস্টিটিউটের গবেষক বিলাল বেনিয়াইশ ওয়াশিংটন পোস্টকে গত বছর বলেছিলেন, সত্তরের দশকে সৌদি আরব ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ধনী দেশগুলো এই এলাকায় প্রচুর তহবিল সরবরাহ করেছে। সেই অর্থে এখানে মাদ্রাসা গড়ে তোলা হয়েছে। এসব ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পশ্চিমাবিরোধী মনোভাব উদ্রেক করে এমন শিক্ষা দেওয়া হতো। এমনিতেই এখানকার লোকজন চাকরিবাকরিতে পিছিয়ে থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুব্ধ। বিলাল ওয়াশিংটন পোস্টকে তখন আরও বলেছিলেন, সন্ত্রাসের ঘটনায় তিনি বিস্মিত নন, কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেলজিয়ামে চরমপন্থী ও রাজনৈতিক ইসলামের বিস্তার ভালোভাবেই হয়েছে।
সাম্প্রতিক কয়েক বছরে আইএসের উত্থান ব্রাসেলসের পিছিয়ে থাকা মুসলিমদের সেই ক্ষোভকে আরও চড়িয়ে দেয়। বেলজিয়ামের গোয়েন্দা তথ্যমতে ছোট এ দেশটি থেকেই প্রায় ৫০০ মুসলিম আইএসের পক্ষে লড়াই করতে সিরিয়া ও ইরাকে গেছে। এদের অনেকে লড়াইয়ে মারা গেছে। অনেকে এখনো লড়ছে। আবার অনেকে প্রশিক্ষিত হয়ে ফিরে এসেছে।
কর্তৃপক্ষ মনে করে, আবাউদের মতো প্রায় ১০০ জন আইএসের কাছে প্রশিক্ষণ নিয়ে বেলজিয়াম ফিরে এসেছে। তারাই এখন পুরো ইউরোপকে অস্থির করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এর জন্য অপেক্ষাকৃত নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্রাসেলসকেই বেছে নিচ্ছে তারা।

No comments:
Post a Comment