![]() |
| ফার্মগেটে এক নারীর বাসের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা। সেখানে আছেন আরও কয়েকজন নারী। |
পুরান
ঢাকা থেকে ফার্মগেটে নিয়মিত কোচিং করতে আসেন ফারজানা। প্রতিদিন প্রায় এক
ঘণ্টা চেষ্টা করেও তিনি বাসে উঠতে পারেন না। খুব ভিড় থাকলে তিনি প
রের
বাসের জন্য অপেক্ষা করেন। এভাবে অনেক সময় বাসে উঠতেই ঘণ্টা পার হয়ে যায়।
দুর্ভোগের কথা বলতে গিয়ে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘অফিস আওয়ারে’ অনেক সময়
বাস পাওয়ার জন্য এক থেকে দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। ফারজানার মতো
রাজধানীতে অনেক নারী আছেন, যাঁদের প্রতিদিন বাসে উঠতেই অনেক সময় লেগে যায়।
![]() |
| বাসের চালক-হেলপারের দিকে হাত তুলে থামানোর চেষ্টা করছেন।অপেক্ষা আরও কিছুক্ষণ। |
এ ছাড়া বাসে উঠতে-নামতে, বসতে আরও নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাঁদের। নিয়মিত
বাসে চলাচল করেন—এমন কয়েকজন নারী বললেন, রাজধানীর গণপরিবহনে চড়তে তাঁদের
চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। প্রতিদিন অসংখ্য নারী এ ধরনের ভোগান্তির শিকার
হচ্ছেন। ‘সিট খালি নেই, মহিলা উইঠেন না, মহিলা
তুলবেন
না, প্রাইভেট কারে চড়বেন’—এ ধরনের অসংখ্য কথাবার্তা কর্মজীবী নারী ও
ছাত্রীদের শুনতে হয়। ঢাকায় বসবাসরত মানুষের তুলনায় গণপরিবহনের সংখ্যা অনেক
কম। অন্যদিকে সময়ের সঙ্গে কর্মজীবী নারীর সংখ্যাও বেড়েছে। এখন অনেক নারীকে
প্রতিদিন কাজের জন্য বাইরে যেতে হয়। কিন্তু গণপরিবহনে চলতে গেলে কর্মজীবী
নারী ও শিক্ষার্থীরা নানা অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন প্রতিনিয়তই। গন্তব্যে
যেতে তাঁদের পুরুষদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বাসে চড়তে হচ্ছে। লিমা
রোজারিওয়ের কর্মস্থল বনানীতে। ফার্মগেটে বাসের জন্য অপেক্ষার সময় জানান,
বাসে ওঠাই কষ্টের। হেলপাররা প্রায় সময় দরজায় হাত দিয়ে রাখে। মহিলা উঠাতে
চায় না। কোনো কোনো দিন ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও আসে
উঠতে না পেরে শেষমেশ তাঁকে সিএনজি অটোরিকশায় করে অফিসে যেতে হয়। লিমা বলেন,
‘প্রতিদিন বাস পেতে দেরি হবে জেনে প্রায় এক ঘণ্টা সময় হাতে নিয়ে বের হই।
এর পরও সবদিন বাস পাই না।’ তিনি বলেন, ‘ভাড়া বেশি হওয়ার কারণে সিএনজিতেও
পোষাতে পারি না। সপ্তাহের একটা দিনও বাসের সিটে বসে যেতে পারি কি না,
সন্দেহ। সব সময় দাঁড়িয়েই যেতে হয়।’ দেখা যায়, যেসব নারী বাস রুটের মাঝামাঝি
কোনো বাসস্টপেজ থেকে ওঠেন, তাঁদের সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয়। কারওয়ান
বাজার ও বাংলামোটরে নারীদের দুর্ভোগ অনেক বেশি দেখা যায়। এখানে বাসগুলো
অনেকটা চলন্ত অবস্থায় যাত্রী তোলে। এসব স্থানে যাত্রী নামেনও কম। এতে
নারীদের এসব স্থানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। বসুন্ধরা সিটিতে
একটি দোকানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করেন শারমিন আক্তার। সকাল ১০টা থেকে
সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দোকানে থাকেন তিনি।
![]() |
| ভিড়ের কারণে উঠতে পারলেন না। পুরুষ যাত্রীরা ঝুলে চলে গেল। ওই নারী চললেন অন্য কোনো বাসে উঠতে। |
এরপর বের হয়েই ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাঁকে। কাজীপাড়ায় যেতে বাসের জন্য দীর্ঘ
সময় অপেক্ষা করতে হয় তাঁকে। শারমিন জানালেন, ওই সময় অফিস ছুটি হয়।
যাত্রীদের চাপ থাকে বেশি। এ কারণে বাসে ওঠা কঠিন হয়। তিনি বলেন, ‘এখন একটু
দেরিতে বের হই, মানুষের চাপ কমবে ভেবে। অবশ্য এতে তেমন কাজ হয় না।’ শুভ্রা
দত্ত ফার্মগেটে বিসিএস কোচিং করেন। থাকেন বাড্ডায়। অনেক সময় বাসে উঠতে না
পেরে তাঁকে পুরোটা পথ ভেঙে ভেঙে যেতে হয়। একটু রিকশায়, একটু হেঁটে আবার
একটু বাসে চড়ে বাসায় ফিরতে হয় তাঁকে। ঢাকা মহানগর পরিবহন কমিটি ২০০৮ সালে
ঢাকায় বড় বাসে নয়টি এবং মিনিবাসে ছয়টি আসন সংরক্ষণের নির্দেশ দিলেও তা
মানছেন না অনেকেই। ইটিসি বাসে দেখা গেল, চালকের পাশে মহিলাদের জন্য
সংরক্ষিত আসনের লম্বা সিটে দুজন পুরুষ এবং দুজন নারী গাদাগাদি করে বসে
আছেন। একজনকে জিজ্ঞেস করা হলে বলেন, গুলিস্তান যাবেন। ফাঁকা নেই তাই
সংরক্ষিত সিটে বসে পড়েছেন। নারীদের জন্য বিআরটিসির বাসের ব্যবস্থা থাকলেও
এই বাস দেখা যায় না বললেই চলে। বাসগুলো নির্দিষ্ট সময় মেনে চলে না,
নির্দিষ্ট রুটও থাকে না। মিরপুরবাসী সানজিদার অভিযোগ, বিআরটিসির মহিলা বাসে
কোনো সময়সূচি মানা হয় না, ফলে বাসে প্রচুর সময় নষ্ট হয়। তিনি আরও বলেন,
ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এই বাসে চড়া হয় না। এমন অনেক নারী আছেন, যাঁরা
বিআরটিসির এই সার্ভিসের কথা জানেনও না। অবশ্য বিআরটিএর চেয়ারম্যান নজরুল
ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নারীদের জন্য বাসে সিট রিজার্ভ রাখা হয়। কিন্তু
এটাও ঠিক যে অনেক বাসে সেটা মানা হয় না। তিনি বলেন, বিআরটিএ মোবাইল কোর্ট
পরিচালনা করে। তখন এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ধরনের ক্ষেত্রে কেউ
কোনো বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালে বিআরটিএ অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে।



No comments:
Post a Comment