বারনি
রোনাই- বৃটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর বিখ্যাত ক্রীড়াকলাম লেখক।
তার বেশির ভাগ কলাম ফুটবল নিয়ে। ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর অনলাইনে তার জন্য আছে
আলাদা একটি অংশ। যেখানে শুধু তার লেখাই পাওয়া যায়। এমন বিখ্যাত একজন
বিশ্লেষক এবার লিখলেন ক্রিকেট নিয়ে। আর সেটা বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর
রহমানের স্তুতি-কলামও বলা যেতে পারে। মুস্তাফিজের প্রতি তার প্রবল ভালোলাগা
ও মুগ্ধতার কথা সাবলীলভাবে তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে মুস্তাফিজের অবাক করা
প্রতিভা তাকেই অবাক করেছে। বাংলাদেশি এ পেসারকে নিয়ে তার মুগ্ধতা ও
প্রত্যাশা নিয়ে যা লিখেছেন তা সংক্ষিপ্ত আকরে নিচে তুলে ধরা হলো-
মুস্তাফিজুর রহমান কেমন? বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরা থেকে উঠে আসা লাজুক, হালকা-পাতলা গড়নের বাঁ হাতি বোলার। মাত্র আট মাস হলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার পদচারণা। কিন্তু আপনি তার পরিসংখ্যান দেখুন। দিনে দিনে তার ভক্ত সংখ্যা কীভাবে বাড়ছে সেটা দেখুন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা দিয়ে এখন পর্যন্ত সে ৮২৪ বল করেছে। এরমধ্যে অভিষেকে টানা দুই ওয়ানডেতে ৫ ও ৪ উইকেট নেয়া। তিন ফরমেটে ১৪ গড়ে তার উইকেট ৪৩। গত মাসে ভারতীয় প্রিমিয়ার লীগে নিলামে সানরাইজার্স হায়দারাবাদ দেড় লাখ পাউন্ডে তাকে দলে ভিড়িয়েছে। টি-টোয়েন্টির স্বপ্নের এ টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্তি মোটেও অবাক করার ব্যাপার নয়। তেঁতুলিয়ার এই ছেলেটিকে বাংলাদেশে গুগলে সবচেয়ে বেশি খোঁজা হয়। গত বছর ভারতের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি মুস্তাফিজের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। আমি এখন পর্যন্ত সরাসরি তার খেলা দেখিনি। টিভিতে দেখেছি। এছাড়া ইউটিউবে তার বেশ কয়েকটি সাক্ষাৎকার দেখেছি। কিন্তু কিছুই বুঝিনি। মুস্তাফিজের ভাষাটা না বুঝলেও তার আচরণ ও অঙ্গভঙ্গি বুঝি। উইকেট নেয়া ও সতীর্থদের সঙ্গে উল্লাস বৈ তার অন্য সময়ের কোনো দৃশ্য আমি দেখিনি। এত কিছু না জেনেও নিঃসন্দেহে এখন আমার ফেভারিট আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার সে। মুস্তাফিজ খুব বেশি গতিতে বল করে না। খুব বেশি সুইং কিংবা বাউন্স দেয় না। কিন্তু তার মিডিয়ার পেসে অন্যরকম একটা মোহময়ী রহস্য আছে। একই পজিশনে বল করেও বৈচিত্র্য বোলিংয়ের অদ্ভুত ক্ষমতা তার। বিশ্বমানের ব্যাটম্যানদের বিভ্রান্ত করার দারুণ সব অস্ত্র আছে তার ভাণ্ডারে। বোলিং স্টাইল ও শারীরিক ভারসম্যের কারণে বল ছাড়ার সময় বলে কিছু কাজ করে দেয় সে। যা যে কোনো ব্যাসম্যানের জন্য সামলানো দুরূহ। আপনি তার কাটারগুলো দেখতে পারেন। এই বলগুলো ব্যাট লাগানো মানে ব্যাটসম্যানের সাক্ষাৎ মৃত্যু।
ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে মাত্র সপ্তাহখানেক বাকি। কিন্তু এরই মধ্যে ইনজুরিতে পড়েছেন মুস্তাফিজ। এশিয়া কাপ চলাকালে সোমবার বাংলাদেশ জানিয়েছে, তাদের বোলিং সাইডের সেরা এ অস্ত্র ইনজুরিতে। আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য হলো, মুস্তাফিজকে বাংলাদেশ আটকে রাখতে চাইছে। না, দলের মধ্যের কোনো ইঙ্গিত কিংবা ফিসফাস শুনে আমি এ কথা বলছি না। তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে মুস্তাফিজকে পূর্ণ ফিট চাইছে তারা। আর মূল পর্বে তো আছেই। বাংলাদেশ সম্প্রতি যে নৈপুুণ্য দেখাচ্ছে তাতে ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভালো কিছু করে দেখানোর দারুণ সুযোগ তাদের। আর এমন গুরুত্বপূর্ণ বড় একটি টুর্নামেন্টের আগে তাদের ‘রহস্যময়ী’ সেরা বোলারকে নিয়ে কেন ঝুঁকি নেবে? ব্যক্তিগতভাবে আমি মুস্তাফিজকে ইনজুরি ও নরমাল দেখতে চাই না। আমি তাকে স্পেশাল হিসেবে দেখতে চাই। আমি তার খেলা আরও আগ্রহ নিয়ে দেখার অপেক্ষায় আছি। মুস্তাফিজ এখন আমার স্বপ্নের তারকা। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট আবির্ভাবের পর থেকেই আমি এমন একজন বোলারের অপেক্ষা করছিলাম। এমন একজন খেলোয়াড়কে সমর্থন করা এবং খেলা দেখার অপেক্ষায় ছিলাম আমি। মুস্তাফিজ এই মৌসুমে ইংলিশ কাউন্টির দল সাসেক্সে খেলবে। এর চেয়ে দারুণ দৃশ্য আর কী হতে পারে? এখানে নিজেকে আরও উচ্চে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তার। তবে ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে এখানকার পিচ ও পরিবেশ ভিন্ন হওয়ায় তাকে নতুন করে কিছু শিখতে হবে। ইংলিশ কাউন্টিকে মুস্তাফিজকে দেখার চেয়ে আনন্দের কিছু এই মুহূর্তে আমার নেই। আমার মনে হয়, মুস্তাফিজের এ উত্থান প্রাকৃতিক। তারসঙ্গে খেলার প্রতি প্রবল আগ্রহ। টেনিস বল খেলার কয়েক দিনের মধ্যেই বিশ্ব তারকা হয়ে ওঠার কাউকে যদি দেখতে চান তাহলে মুস্তাফিজকে দেখার বিকল্প নেই। ভাবতে পারেন, একটি ছেলে তার ভাইয়ের বাইকের পেছনে চড়ে প্রতিদিন ৩০ মাইল পথ পাড়ি দিয়েছেন শুধু একটি ম্যাচ খেলার জন্য! এটা চিন্তা করলে আমি অন্য রকম এক অনুভূতি পাবেন। একটু ভেবে দেখুন।
মুস্তাফিজুর রহমান কেমন? বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরা থেকে উঠে আসা লাজুক, হালকা-পাতলা গড়নের বাঁ হাতি বোলার। মাত্র আট মাস হলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার পদচারণা। কিন্তু আপনি তার পরিসংখ্যান দেখুন। দিনে দিনে তার ভক্ত সংখ্যা কীভাবে বাড়ছে সেটা দেখুন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা দিয়ে এখন পর্যন্ত সে ৮২৪ বল করেছে। এরমধ্যে অভিষেকে টানা দুই ওয়ানডেতে ৫ ও ৪ উইকেট নেয়া। তিন ফরমেটে ১৪ গড়ে তার উইকেট ৪৩। গত মাসে ভারতীয় প্রিমিয়ার লীগে নিলামে সানরাইজার্স হায়দারাবাদ দেড় লাখ পাউন্ডে তাকে দলে ভিড়িয়েছে। টি-টোয়েন্টির স্বপ্নের এ টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্তি মোটেও অবাক করার ব্যাপার নয়। তেঁতুলিয়ার এই ছেলেটিকে বাংলাদেশে গুগলে সবচেয়ে বেশি খোঁজা হয়। গত বছর ভারতের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি মুস্তাফিজের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। আমি এখন পর্যন্ত সরাসরি তার খেলা দেখিনি। টিভিতে দেখেছি। এছাড়া ইউটিউবে তার বেশ কয়েকটি সাক্ষাৎকার দেখেছি। কিন্তু কিছুই বুঝিনি। মুস্তাফিজের ভাষাটা না বুঝলেও তার আচরণ ও অঙ্গভঙ্গি বুঝি। উইকেট নেয়া ও সতীর্থদের সঙ্গে উল্লাস বৈ তার অন্য সময়ের কোনো দৃশ্য আমি দেখিনি। এত কিছু না জেনেও নিঃসন্দেহে এখন আমার ফেভারিট আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার সে। মুস্তাফিজ খুব বেশি গতিতে বল করে না। খুব বেশি সুইং কিংবা বাউন্স দেয় না। কিন্তু তার মিডিয়ার পেসে অন্যরকম একটা মোহময়ী রহস্য আছে। একই পজিশনে বল করেও বৈচিত্র্য বোলিংয়ের অদ্ভুত ক্ষমতা তার। বিশ্বমানের ব্যাটম্যানদের বিভ্রান্ত করার দারুণ সব অস্ত্র আছে তার ভাণ্ডারে। বোলিং স্টাইল ও শারীরিক ভারসম্যের কারণে বল ছাড়ার সময় বলে কিছু কাজ করে দেয় সে। যা যে কোনো ব্যাসম্যানের জন্য সামলানো দুরূহ। আপনি তার কাটারগুলো দেখতে পারেন। এই বলগুলো ব্যাট লাগানো মানে ব্যাটসম্যানের সাক্ষাৎ মৃত্যু।
ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে মাত্র সপ্তাহখানেক বাকি। কিন্তু এরই মধ্যে ইনজুরিতে পড়েছেন মুস্তাফিজ। এশিয়া কাপ চলাকালে সোমবার বাংলাদেশ জানিয়েছে, তাদের বোলিং সাইডের সেরা এ অস্ত্র ইনজুরিতে। আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য হলো, মুস্তাফিজকে বাংলাদেশ আটকে রাখতে চাইছে। না, দলের মধ্যের কোনো ইঙ্গিত কিংবা ফিসফাস শুনে আমি এ কথা বলছি না। তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে মুস্তাফিজকে পূর্ণ ফিট চাইছে তারা। আর মূল পর্বে তো আছেই। বাংলাদেশ সম্প্রতি যে নৈপুুণ্য দেখাচ্ছে তাতে ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভালো কিছু করে দেখানোর দারুণ সুযোগ তাদের। আর এমন গুরুত্বপূর্ণ বড় একটি টুর্নামেন্টের আগে তাদের ‘রহস্যময়ী’ সেরা বোলারকে নিয়ে কেন ঝুঁকি নেবে? ব্যক্তিগতভাবে আমি মুস্তাফিজকে ইনজুরি ও নরমাল দেখতে চাই না। আমি তাকে স্পেশাল হিসেবে দেখতে চাই। আমি তার খেলা আরও আগ্রহ নিয়ে দেখার অপেক্ষায় আছি। মুস্তাফিজ এখন আমার স্বপ্নের তারকা। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট আবির্ভাবের পর থেকেই আমি এমন একজন বোলারের অপেক্ষা করছিলাম। এমন একজন খেলোয়াড়কে সমর্থন করা এবং খেলা দেখার অপেক্ষায় ছিলাম আমি। মুস্তাফিজ এই মৌসুমে ইংলিশ কাউন্টির দল সাসেক্সে খেলবে। এর চেয়ে দারুণ দৃশ্য আর কী হতে পারে? এখানে নিজেকে আরও উচ্চে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তার। তবে ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে এখানকার পিচ ও পরিবেশ ভিন্ন হওয়ায় তাকে নতুন করে কিছু শিখতে হবে। ইংলিশ কাউন্টিকে মুস্তাফিজকে দেখার চেয়ে আনন্দের কিছু এই মুহূর্তে আমার নেই। আমার মনে হয়, মুস্তাফিজের এ উত্থান প্রাকৃতিক। তারসঙ্গে খেলার প্রতি প্রবল আগ্রহ। টেনিস বল খেলার কয়েক দিনের মধ্যেই বিশ্ব তারকা হয়ে ওঠার কাউকে যদি দেখতে চান তাহলে মুস্তাফিজকে দেখার বিকল্প নেই। ভাবতে পারেন, একটি ছেলে তার ভাইয়ের বাইকের পেছনে চড়ে প্রতিদিন ৩০ মাইল পথ পাড়ি দিয়েছেন শুধু একটি ম্যাচ খেলার জন্য! এটা চিন্তা করলে আমি অন্য রকম এক অনুভূতি পাবেন। একটু ভেবে দেখুন।

No comments:
Post a Comment