আবাসন
খাত চাঙা করতে তৃতীয়বারের মতো ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য বিনা শর্তে কালোটাকা বা
অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ চায় রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং
অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। ৫-১০ বছরের জন্য সুবিধাটি চায়
সংগঠনটি। বর্তমানে শর্ত সাপেক্ষে আবাসন খাতে কালোটাকা বিনিয়োগের সুযোগ আছে।
এ ছাড়া আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে গৃহঋণের জন্য ২০ হাজার কোটি
টাকার বিশেষ তহবিল, সেকেন্ডারি বাজার প্রচলন, কর অবকাশ, নিবন্ধন কর কমানোসহ
১৮টি দাবি জানিয়েছে রিহ্যাব। সরকারের কাছে দাবিগুলো তুলে ধরতে দেশের
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ে প্রস্তাবটি পাঠিয়েছে রিহ্যাব। এ ছাড়া
কাল বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বাজেট আলোচনায় নিজেদের
দাবিদাওয়া নিয়ে কথা বলবেন রিহ্যাব নেতারা। কালোটাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কেনার
সুযোগ দিয়ে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বাজেটে অর্থ আইন, ২০১৩-এর মাধ্যমে আয়কর
অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এ ১৯ বিবিবিবিবি নামের একটি নতুন ধারা সংযোজন করা হয়। এতে
বলা হয়, নির্ধারিত কর দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করা যাবে। অবৈধ ও অপরাধ
সংঘটন করে অর্জিত কোনো অর্থ বিনিয়োগ করা যাবে না। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীকে
অর্থের উৎস উল্লেখ করতে হবে। মূলত এখানেই আপত্তি রিহ্যাবের। সংগঠনটি বলছে,
যাঁরা ফ্ল্যাট কিনবেন, তাঁদের আয়ের উৎস না খোঁজার বিষয়টি উল্লেখ করে আয়কর
অধ্যাদেশের ১৯ (বিবিবিবিবি) ধারা পুনঃপ্রবর্তন করতে হবে। ২০১১ সালে এটি
রহিত করা হয়। বিনা শর্তে কালোটাকা বিনিয়োগের সুযোগের পক্ষে রিহ্যাব যুক্তি
দেখিয়েছে, আইনটি পুনঃপ্রবর্তন করা না হলে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার
হয়ে যাবে। এ ছাড়া অপ্রদর্শিত অর্থ দেশে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে
ওই বিনিয়োগকারীরা করজালের মধ্যে আসবে। তাতে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি
পাবে। বাজেট প্রস্তাবে রিহ্যাব দাবি করেছে, বিভিন্ন কারণে আবাসনশিল্পের
বিক্রয় ৬০ শতাংশ কমে গেছে। শিল্পকে বাঁচাতে শিগগিরই গৃহঋণের নামে ২০ হাজার
কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা প্রয়োজন। সেই তহবিল থেকে ঢাকার আশপাশে
দেড় হাজার বা তার ছোট ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য ন্যূনতম ৫ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়ার
দাবি করেছে সংগঠনটি। কয়েক বছর ধরেই রিহ্যাব এই তহবিল গঠনের দাবি জানিয়ে
আসছে। গত ডিসেম্বরে রিহ্যাবের শীতকালীন মেলা উদ্বোধনের সময় গৃহায়ণ ও
গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেনও আবাসন খাতের জন্য সরকারকে ২০-৫০ হাজার কোটি
টাকার একটি তহবিল করার অনুরোধ করেন। বর্তমানে ফ্ল্যাট ও প্লট নিবন্ধনের সময়
১৪ শতাংশ কর ও ফি দিতে হয়। এর মধ্যে ৪ শতাংশ করে গেইন ট্যাক্স, স্ট্যাম্প
ফি ৩ শতাংশ, নিবন্ধন ফি ২ শতাংশ, স্থানীয় সরকার কর ২ শতাংশ ও ৩ শতাংশ মূল্য
সংযোজন কর (মূসক) দিতে হয়। এই অত্যধিক ব্যয়ে ক্রেতারা নিবন্ধনের আগ্রহ
হারিয়ে ফেলছেন। এমন বিবেচনায় সংগঠনটির প্রস্তাব, সব মিলিয়ে
নিবন্ধন-সংশ্লিষ্ট কর ও ফি ৭ শতাংশ করা হোক। এর মধ্যে ২ শতাংশ গেইন
ট্যাক্স; স্ট্যাম্প ডিউটি ও মূসক দেড় শতাংশ, নিবন্ধন ফি ও স্থানীয় সরকার কর
১ শতাংশ। অবশ্য চলতি অর্থবছরের বাজেটের আগে একই দাবি করলেও বিবেচনায় নেয়নি
এনবিআর। জমি ও নির্মাণসামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে আবাসন
ব্যবসায়ীদের মুনাফা হ্রাস পেয়েছে। এমন যুক্তিতে আগামী বাজেটে আয়কর যৌক্তিক
পর্যায়ে নিয়ে আসার দাবি করছে রিহ্যাব। এ ছাড়া নামমাত্র নিবন্ধন নির্ধারণ
করে সেকেন্ডারি বাজারব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি। এ ক্ষেত্রে
তাদের প্রস্তাব-নিবন্ধন-সংশ্লিষ্ট কর ও ফি কমিয়ে সাড়ে ৩ শতাংশ নির্ধারণ করে
ফ্ল্যাট ও প্লট বিক্রির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এমনটি হলে একই সম্পত্তি
একাধিকবার হাত বদল হবে, সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। এদিকে পরিবেশবান্ধব আবাসন
নির্মাণে কর রেয়াত সুবিধা চায় রিহ্যাব। এমন সুযোগ দিলে উদ্যোক্তারা
পরিবেশবান্ধব প্রকল্প নিয়ে আগ্রহী হবেন বলে মনে করে সংগঠনটি।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment