Tuesday, March 22, 2016

৮১ লাখ ডলার ঘুষ চেয়েছিলেন গো

মুখ বন্ধ রাখতে ৮১ লাখ ডলার ঘুষ চেয়েছিলেন অর্থ কেলেঙ্কারিতে জড়িত সন্দেহভাজন উইলিয়াম সো গো। রুদ্ধদ্বার শুনানিতে  
ফিলিপাইনের সিনেটরদের এ কথা বলেছেন মায়া সান্তোষ দেগুইতো। সোমবার এক সাক্ষাৎকারে সিনেটর তেওফিস্তো গুইনগোনা তৃতীয় এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘দেগুইতো বলেছেন, ৮১ মিলিয়ন ডলারের ১০ ভাগ (৮১ লাখ ডলার) তার কাছে চেয়েছিল গো।’ গোর আইনজীবী র‌্যামন এসগুয়েরা পালটা অভিযোগ করে বলেছেন, দেগুইতোই তাকে ১০ মিলিয়ন পেসো দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ফিলিপাইনের সংবাদ পোর্টাল র‌্যাপলারকে এ কথা বলেন র‌্যামন এসগুয়েরা। তিনি আরও বলেন, দেগুইতোর ওই প্রস্তাব গো ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। গো বরং দাবি জানিয়েছিলেন ওই ঝামেলায় যেন তার কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকে। বাংলাদেশের রাজকোষ কেলেঙ্কারিতে তাকে জড়ানোর জন্য গো আরসিবিসি ব্যাংকের জুপিটার শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক দেগুইতোর বিরুদ্ধে আরও মামলা করবেন বলে জানান এসগুয়েরা। উল্লেখ্য, ১৯শে মার্চ সিটি প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে দেগুইতো ও আরসিবিসির সিনিয়র কাস্টমার রিলেশন্স কর্মকর্তা অ্যাঞ্জেলা রুথ তোরেসের বিরুদ্ধে নথিপত্র জাল করার অভিযোগ করেন গো। অভিযোগ রয়েছে, চুরি যাওয়া অর্থের কিছু অংশ উইলিয়াম গোর অ্যাকাউন্ট দিয়ে পাচার হয়েছে। কিন্তু গো এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন। ফিলিপাইন সিনেটের ব্লু রিবন কমিটির শুনানিতে তিনি ওই অ্যাকাউন্টের মালিকানা অস্বীকার করেন।
সম্পৃক্ততা অস্বীকার ইস্ট ওয়েস্ট ব্যাংকের: এদিকে, বাংলাদেশের রাজকোষ কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে ফিলিপাইনের ইস্ট ওয়েস্ট ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংক থেকে ৮১ মিলিয়ন ডলার লোপাট হওয়ার ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা নেই। এক বিবৃতিতে এমন দাবি করেছে ইস্ট ওয়েস্ট ব্যাংকিং কর্প। এ খবর দিয়েছে ফিলিপাইনের নিউজ পোর্টাল ফিলস্টার। গত সপ্তাহে ফিলিপাইনের সিনেটে শুনানিতে ব্যবসায়ী উইলিয়াম গো দাবি করেছিলেন, ইস্ট ওয়েস্ট ফোর্ট বোনিফ্যাসিও শাখা ব্যবস্থাপক অ্যালান পেনালোসা তার সঙ্গে আরসিবিসি ব্যাংকের জুপিটার শাখা ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগুইতোর পরিচয় করিয়ে দেন। উল্লেখ্য, অর্থ কেলেঙ্কারিতে তোপের মুখে থাকা দেগুইতো আরসিবিসিতে যোগ দেয়ার আগে ইস্ট ওয়েস্ট ব্যাংকে কাজ করতেন। ইস্ট ওয়েস্ট প্রেসিডেন্ট ও সিইও টনি মোনকুপা জুনিয়র বলেন, অর্থ পাচার সংশ্লিষ্ট কোনো লেনদেন তার ব্যাংক করেনি। রোববার দেয়া এক বিবৃতিতে মনকুপা বলেন, ‘ইস্ট ওয়েস্ট ব্যাংক থেকে নিয়োগকৃত আরসিবি কর্মী ও অর্থ লোপাটে জড়িতদের প্রসঙ্গ উঠলেই আরসিবিসি প্রতিবার ইস্ট ওয়েস্টের নাম টানছে। এটা তারা কেন করছে আমি জানি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরিতে ব্যবহৃত ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোর সঙ্গে পেনালোসার সংশ্লিষ্টতার যে অভিযোগ রয়েছে সেটা তিনি ব্যক্তিগত এখতিয়ারে করেছেন।’
মনকুপা বিবৃতিতে বলেন, ব্যাংকে যখন ৬১১৮ জন কর্মী থাকে তখন তাদের কেউ কেউ ইস্ট ওয়েস্টের বাইরে নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনে কখনও কখনও দেওয়ানি দ্বন্দ্ব এমনটি ফৌজদারি অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অভিযোগে জড়িতে আরসিবিসি ব্যাংকের দুই কর্মচারী ইস্ট ওয়েস্টে থাকাকালীন দেগুইতোর সঙ্গে তার শাখায় কাজ করেননি। মনকুপা গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, সন্দেহভাজন অভিযুক্তরা ইস্ট ওয়েস্টে যতদিন কাজ করেছেন তার তুলনায় অনেক বেশি দিন আরসিবিসি ব্যাংকে রয়েছেন। ইস্ট ওয়েস্ট প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, এক ব্যাংকের থেকে অন্য ব্যাংকে কর্মী নিয়োগ স্বাভাবিক একটি বিষয়। গত সপ্তাহের শুনানিতে মনকুপাও উপস্থিত ছিলেন। সেদিন দেগুইতো রুদ্ধদ্বার শুনানির অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সিনেটররা একান্তে তার বক্তব্য শোনেন। দেগুইতো রুদ্ধদ্বার কক্ষে কি বলেছিলেন তার বিস্তারিত প্রকাশের জন্য দেগুইতোর সম্মতি চাওয়ার কথা বিবেচনা করছেন সিনেটররা। তবে দেগুইতোর বক্তব্যের কিছু অংশ প্রকাশ করেছেন তারা। সিনেটর সার্জ ওসমিনা জানিয়েছেন, দেগুইতো দাবি করেছেন ৮১ মিলিয়ন ডলার লেনদেন থেকে দেগুইতো কোনো অর্থ গ্রহণ করেননি। অপর সিনেটর টিওফিস্তো গুইংগোনা থ্রি বলেছেন, দেগুইতোর রুদ্ধদ্বার শুনানিতে আরসিবিসি ব্যাংকের আরও দুই কর্মকর্তার নাম বেরিয়ে এসেছে। শুনানিতে দেগুইতো আরও বলেছেন, এসব তথ্য প্রকাশ নিয়ে তিনি নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। তাকে রাজসাক্ষী বানিয়ে নিরাপত্তা দেয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন সিনেটররা। তবে অনেকে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তারা বলছেন, পুরোপুরি সত্যি বলার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে দেগুইতোকে। তিনি কতটুকু সংশ্লিষ্ট সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে। ওদিকে, ফিলিপাইনের বিচার বিভাগের সামনে ১২ ও ১৯শে এপ্রিল দেগুইতোর হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। এসব শুনানি থেকে বিচার বিভাগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে দেগুইতোর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করা হবে কি না।

No comments:

Post a Comment