Saturday, March 19, 2016

‘আমরা এখন রিফিউজি’

বিস্ফোরণের পর ভবনে আগুন লাগলে বাসিন্দারা বেরিয়ে যান।
এরপর গতকাল দিনের বেলা অনেকেই বিধ্বস্ত ভবনে ফিরে আসেন।
তাঁরা নিজ নিজ বাসার অবস্থার খোঁজ নেনl ছবি: প্রথম আলো
‘আমরা এখন রিফিউজি। ফ্ল্যাট ছেড়ে দিচ্ছি, আশ্রয় আপাতত আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি। এই ভবনে কবে উঠতে পারব, জানি না। আদৌ উঠতে পারব কি না, সেটাও বলতে পারি না।’
আজ শনিবার কথাগুলো বলছিলেন বনানী ২৩ নম্বর রোডে বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত নয় নম্বর বাড়ির অন্যতম মালিক শামসুল আলম। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে এই ছয়তলা ভবনটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
ভবনটির বাসিন্দাদের অভিযোগ, তিতাস গ্যাসের পাইপলাইন থেকে গ্যাস ঢুকেই এই বাসায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
শামসুল আলম বলেন, ‘আপাতত আমরা আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে থাকছি। জরুরি জিনিসপত্র ও কাগজ ভবনটি থেকে আপাতত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’ তিনি বলেন, এ ভবনটিকে গতকাল শুক্রবার বুয়েট ও রাজউক বসবাসের অনুপযোগী ঘোষণা করেছে। এরপরও তাঁরা এই ভবনটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাসেট ডেভেলপারকে চিঠি দেবেন। চিঠিতে ভবনটি পরীক্ষা করার কথা বলা হবে। তারা যদি মনে করে যে ভবনটি ভাঙার প্রয়োজন আছে, তাহলে পুরো ভবনটিই ভেঙে ফেলা হবে। ভবনটিতে মোট ২০টি ফ্ল্যাট রয়েছে।
ভবনটির বাসিন্দা শামীম আনোয়ারুল হক বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনায় এখনো তাঁরা শিউরে উঠছেন। এখনো আতঙ্ক কাটেনি। তিনি বলেন, ভবনটিতে বিকট শব্দে যখন বিস্ফোরণ ঘটে, তখন পাশের ফ্ল্যাটের এসির আউটডোর তাঁর ঘরের জানালার কাচ ও গ্রিল ভেঙে ঘরে ঢুকে যায়। এ সময় ওই ঘরে দুজন ঘুমিয়ে ছিলেন। এ ঘটনায় এই ভবনে বাস করা প্রায় ৫০ জন বাসিন্দার বেঁচে যাওয়াকে তিনি সৌভাগ্য বলে মনে করেন। তিনি বলেন, ভবনটির পূর্ব পাশের অংশই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভবনের পশ্চিম পাশের বি-১ নম্বর ফ্ল্যাটের বাসিন্দা নাসের মোহাম্মদ খান বলেন, এখন তিনি বনানী ছয় নম্বরে এক আত্মীয়ের বাসায় থাকবেন। তাঁর দাবি, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ যেন তাঁদের আপাতত থাকার ব্যবস্থাটা করে দেন। কারণ তাঁরা আজ রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন। রাতে আত্মীয়ের বাসায় থাকবেন। আত্মীয়ের বাসায় বেশি দিন থাকাটাও বোঝা হয়ে যায়। তিনি বলেন, বিস্ফোরণে তাঁর ঘরের দরজা-জানালা দুমড়ে মুচড়ে গেছে। তবে কাঠামোতে তেমন ক্ষতি হয়নি। সুযোগ দিলে তাঁরা তাঁদের ফ্ল্যাটটি ঠিকঠাক করে থাকতে পারবেন।
বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন খান বলেন, ভবনটির মালিকপক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। এ কারণে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়নি। নিজেরা বসে সব ঠিকঠাক করার পর থানায় অভিযোগ করার কথা রয়েছে মালিকপক্ষের।
বনানীর এই ছয়তলা বাড়িতে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হঠাৎ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে ভবনে আগুন ধরে যায় এবং ভবনটির চারটি তলার বিভিন্ন অংশের দেয়াল ধসে পড়ে। এতে সাতজন আহত হয়েছেন। ভবনের সব বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বাড়ির বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং তিতাস গ্যাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সিটি করপোরেশনের খোঁড়াখুঁড়ির কাজে পাশের রাস্তার গ্যাস সরবরাহ পাইপে ফুটো হওয়ার কারণে গ্যাস নিঃসরিত হয়ে ভবনে ঢুকে পড়ার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র বলেছেন, তিতাস কোনোভাবেই এ ঘটনার দায় এড়াতে পারে না। অন্যদিকে তিতাস বলছে, সিটি করপোরেশনের খোঁড়াখুঁড়ির কারণেই ঘটনাটি ঘটেছে।

No comments:

Post a Comment