Sunday, March 27, 2016

ট্রাম্প বনাম হিলারি কে এগিয়ে?

তারা দুজনই আগামী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজ নিজ দলের শীর্ষ মনোনয়নপ্রত্যাশী। দলে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তুলনায় জনমত জরিপ ও প্রাইমারি নির্বাচনে বেশ খানিকটা ব্যবধানে এগিয়ে আছেন উভয়ে। তারা হলেন- রিপাবলিকান পার্টির ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্রেটিক পার্টির হিলারি ক্লিনটন। প্রাইমারি ও জনমত জরিপে এগিয়ে থাকলেও, তাদের কারোই মনোনয়ন প্রাপ্তি এখনও নিশ্চিত হয়নি।
সবচেয়ে বেশি ঝুলে আছেন ট্রাম্প। রিপাবলিকান পার্টির সমর্থকদের সমর্থন পেলেও, তিনি ঘরের নেতাদের সমর্থন পাচ্ছেন না। তার সমর্থনটাও একচেটিয়া নয়। ঘাড়ের কাছে না হলেও, একটু দূরেই শ্বাস-নিশ্বাস ফেলছেন রক্ষণশীল নেতা টেড ক্রুজ। আবার হিসাবের বাইরে হলেও, ‘কিংস মেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন জন কাসিচ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা কাসিচের সব সম্ভাবনা কার্যত গাণিতিকভাবে শেষ। কিন্তু তার সমর্থন ট্রাম্প ও ক্রুজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই সুযোগ বুঝে এখনও মাঠে চেষে বেড়াচ্ছেন কাসিচ। পর্দার পেছনে হয়তো তার সমর্থনের বিনিময়ে দরকষাকষি চলছে। তাই নিরঙ্কুশ বা পর্যাপ্ত পয়েন্ট পাচ্ছেন না ট্রাম্প। এমনটা হলে, রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন চলে যেতে পারে কনভেনশনে। আর তাতে ট্রাম্পের পা হড়কাতে পারে বলে অনেকের ধারণা।
অপরদিকে ডেমোক্রেটিক শিবিরে মাঠে আছেন দুই প্রার্থী- হিলারি ক্লিনটন ও বার্নি স্যান্ডার্স। এখন পর্যন্ত তিন শ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন হিলারি। কিন্তু পিছু হটার কোনো লক্ষণই দেখাচ্ছেন না স্যান্ডার্স। তিনি শেষ দেখতে চান। তার মতে, সুযোগ এখনও আছে। ফলে ট্রাম্প ও হিলারি- কারও মনোনয়নই এখনও নিশ্চিত নয়।
এসব কারণে ব্যাপক আলোচিত প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন রাজনীতির দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী খেলোয়াড়, সাবেক ফার্স্টলেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সরাসরি তুলনাটা করা যাচ্ছে না। তবে মার্কিন ভোটারদের এখনই প্রশ্ন করা হচ্ছে, দুজনের মাঝে একজনকে বেছে নিতে হলে তারা কী করবেন। আর তাতে যোজন যোজন ব্যবধানে এগিয়ে আছেন হিলারি।
ব্যবসায়ী থেকে নব্য রাজনীতিবিদ ট্রাম্পকে হটাতে খোদ রিপাবলিকান দলেরই আবেদনে কান দিচ্ছেন না দলীয় সমর্থকরা। আবার দলের প্রভাবশালী নেতারা মনে করছেন, ট্রাম্প হয়তো রক্ষণশীল রিপাবলিকানদের সমর্থন পাচ্ছেন, কিন্তু গোটা দেশের সমর্থন পাওয়ার উপযোগী তিনি নন। তাই ট্রাম্প দলের চূড়ান্ত প্রার্থী হলে, টানা তৃতীয়বারের মতো রিপাবলিকান দলের হোয়াইট হাউজ মিশন ব্যর্থ হবে। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদন মতে, খোদ রিপাবলিকান দলেরই অনেকে মনে করছেন, ট্রাম্পকে ঠেকানোর একমাত্র দাওয়াই হলেন হিলারি ক্লিনটন!
রিপাবলিকানদের এ উপলব্ধির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র জনমত জরিপের ফলাফলই কাজ করেছে, তা নয়। এখন পর্যন্ত নির্বাচনী বিতর্কে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সপ্রতিভ ছিলেন হিলারি। এমনকি এবার রিপাবলিকান দল থেকে অনেক উদীয়মান তারকা প্রার্থী হলেও, ট্রাম্পকে বিতর্কে দমাতে পারেননি পেশাদার বাক্যবাগীশরা। অথচ, প্রথম দিকে স্বয়ং ট্রাম্পই বিতর্কে অংশ নিতে রাজি ছিলেন না। তার ভাষায়, ‘সিংহের আখড়ায়’ যাওয়ার কোনো মানে হয় না! অথচ, মার্কো রুবিও, জেব বুশ, র‌্যন্ড পলদের মতো তুখোড় বিতার্কিকরা ব্যর্থ হয়েছেন। অন্যদিকে ডেমোক্রেটিক দলের বিতর্কে ট্রাম্পকে রীতিমতো ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন হিলারি। হিলারিকে রিপাবলিকানদের মধ্যে যার হারানোর সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা ছিল বলে মনে করা হতো, তিনি ছিলেন মার্কো রুবিও। কিন্তু ক’দিন আগেই রণে ভঙ্গ দিয়েছেন তিনি।
আবার ট্রাম্পের অতীতও এ ক্ষেত্রে অনেকখানি দায়ী। একসময় হিলারি ও তার স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের বড় ভক্ত ছিলেন ট্রাম্প। তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও ছিল এ ধনকুবেরের। ক্লিনটন ফাউন্ডেশনে বেশ মোটা অঙ্কের অনুদান দিয়েছিলেন তিনি। তাই খোদ হিলারির বিপক্ষে তার কার্যকরী রণকৌশল ঠিক করাটা খুব কঠিন। ক্লিনটন পরিবারের সঙ্গে ট্রাম্পের অতীত সম্পর্ক নিয়ে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা খোঁচা দিয়েছিলেন তাকে। এমনকি জেব বুশ একবার টুইটারে সন্দেহ প্রকাশ করে বসেন, ট্রাম্পকে খোদ ক্লিনটনরাই রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে পাঠিয়েছে কিনা! কিন্তু তাতে ট্রাম্পের সমর্থনে অবশ্য ভাটা পড়েনি।
সর্বশেষ সিএনএন/ওআরসি একটি জাতীয় জনমত জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেছে। তাতে বেশির ভাগ মানুষই মনে করেন, হিলারিই নভেম্বরের নির্বাচনে জয় পেতে পারেন। ভোটাররা মনে করেন, যে দিক থেকে ট্রাম্পকে ধুলিসাৎ করে দিতে পারবেন হিলারি, তা হলো, তার অভিজ্ঞতা। হিলারি যেখানে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন, সেখানে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে অনভিজ্ঞতা অনেক সময় লোকের হাসির খোরাকে পরিণত হয়েছে। তাই মানুষ ভাবতে পারে, আমেরিকার কমান্ডার ইন চিফে’র দায়িত্ব পালনের জন্য হিলারিই বেশি উপযুক্ত। ধনকুবের ট্রাম্পের চেয়ে রাজনীতিবিদ হিলারি আমেরিকার মধ্যবিত্ত শ্রেণির স্পন্দন বেশি বুঝতে সক্ষম হবেন বলেও মনে করেন ভোটাররা।
জরিপে অংশ নেয়া মোট ৫৬ শতাংশ আমেরিকান  মনে করছেন, দুই জনের লড়াইয়ে হিলারিই জয়ী হবেন। অপরদিকে মাত্র ৪২ শতাংশ মনে করেন ট্রাম্পই পরবেন জয়মাল্য। দুজনের মধ্যে দুই অঙ্কেরও বেশি পয়েন্টের এ ব্যবধান একটি রেকর্ড! ডেমোক্রেটিক ভোটারদের মধ্যে ৮৭ শতাংশ হিলারির জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। রিপাবলিকানদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ ট্রাম্পের জয় দেখতে পাচ্ছেন। আবার রিপাবলিকানদের মধ্যে যারা ট্রাম্পকে সমর্থন দিচ্ছেন না, তাদের ৪০ শতাংশ মনে করেন হিলারি জিতবেন। এর আগে পূর্বের একটি জরিপে দেখা গেছে, ৫৩ শতাংশ মানুষ হিলারির জয়ের পক্ষে, ৪১ শতাংশ ট্রাম্পের। এবার সে ব্যবধান আরও খানিকটা বাড়লো।

No comments:

Post a Comment