কক্সবাজার
সদরের ইসলামাবাদে আপন ভাইয়ের কিল-ঘুষিতে বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ৫
মার্চ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে টেকপাড়া এলাকায়। পুলিশ ঘটনাস্থল
পরিদর্শন পূর্বক লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের
অনুমতিক্রমে দাফন সম্পন্ন করেছে। নিহত কিশোরী ছেনুআরা বেগম (১৭) উক্ত
এলাকার আবদুল হাকিমের কন্যা। সরেজমিন এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়,
ছেনুআরা বেগমের ভাই মোঃ দিদারুল ইসলাম দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করছিল। সে
সময় বিদেশ থেকে স্বর্ণালঙ্কার, টাকা-পয়সা ও পরিবারের কাছে পাঠাত। সম্প্রতি
সে দেশে ফেরত এসে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা-পয়সার খোঁজখবর নেয়। বিদেশ থেকে
পাঠানো কিছু পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার বন্ধক দিয়েছে বলে জানালে ভাই দিদারুল
ইসলামের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। সে সময় দিদার ছেনুআরাকে উপর্যুপরী চড়,
কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে প্রতিবেশীরা
নিকটস্থ একটি কিনিকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সংঘটিত ঘটনা নিয়ে এলাকায় চলছে ব্যাপক কানাঘুষা। ঘটনা থেকে নিজেকে বাঁচাতে
ভাই দিদারুল ইসলাম নিহত ছেনুআরার মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে আত্মহত্যা করেছে মর্মে
এলাকায় প্রচার করে। পরে কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট থেকে
অনুমতি নিয়ে রাতারাতি লাশ দাফন করে ফেলে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, ছেনুআরাকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় কোন ধরণের
কিটনাশক দ্রব্যের আলামত দেখা যায়নি। হাসপাতাল থেকে বাসায় এনে এ নাটকটি
সাজিয়েছে। তারা অবিলম্বে ঘাটক দিদারুল ইসলামকে আটক পূর্বক ঘটনার মূল রহস্য
উদঘাটনের দাবী জানায়। এ ব্যাপারে অভিযোগ উঠা দিদারুল ইসলামের সাথে
একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অপরদিকে ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় এমইউপি আবুল কাশেমের সাথে
যোগাযোগ করা হলে তিনিও এ জাতীয় একটি ঘটনা শুনেছেন বলে জানান। তবে হত্যা না
আত্মহত্যা জানিনা। ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই লাশ উদ্ধারকারী
কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনিও আত্মহত্যা করেছে বলে
জানান।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment