Saturday, March 26, 2016

দেশে থেকে যাওয়া যুদ্ধশিশুদের পরিণতি জানা যায় না -গবেষক মুস্তফা চৌধুরী by মানসুরা হোসাইন

মুস্তফা চৌধুরী
একাত্তরের যুদ্ধশিশুদের অনেকেই বেড়ে উঠেছেন পশ্চিমের কোনো দেশে, দত্তক সন্তান হিসেবে। গবেষকদের অনুসন্ধানে তাঁদের কথা উঠে আসতে শুরু করেছে একে একে। কিন্তু দেশের মাটিতে বেড়ে ওঠা যুদ্ধশিশুদের কী পরিণতি হলো, তা আর জানা যায় না। তাঁরা যেন হারিয়ে গেছেন ইতিহাসের অন্ধকার গুহামুখে। এত বছর পর কেন তাঁরা নিজেদের পরিচয় দিতে পারছেন না? এ প্রশ্ন করেন গবেষক মুস্তফা চৌধুরী।
মুস্তফা চৌধুরী ১৯৭২ সালে কানাডায় দত্তক পিতামাতার পরিবারে বেড়ে ওঠা ১৫ যুদ্ধশিশুকে নিয়ে গবেষণা করেছেন। একাডেমিক প্রেস অ্যান্ড পাবলিশার্স লাইব্রেরি থেকে গত বছর প্রকাশিত হয় তাঁর বই ৭১-এর যুদ্ধশিশু: অবিদিত ইতিহাস। এটি একাত্তরের যুদ্ধশিশুদের অনালোকিত অধ্যায়ের কয়েকটি পৃষ্ঠা মাত্র। যুদ্ধশিশুদের পশ্চাৎপট, শিশুদের দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে তখন বাংলাদেশ ও কানাডার প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা, দত্তক বাবা-মায়েদের কথা, যুদ্ধশিশুদের মানসিক টানাপোড়েন উঠে এসেছে বইটিতে। এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় বইটির একটি ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। এ উপলক্ষে দেশে আসেন কানাডাপ্রবাসী এ গবেষক।
১৫ মার্চ প্রথম আলোর পক্ষ থেকে কথা হয় মুস্তফা চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বলেন, কানাডায় বড় হওয়া যুদ্ধশিশুরা ‘ভালো আছে’ কথাটি যতটা জোর দিয়ে তিনি বলতে পেরেছেন, দেশে থেকে যাওয়া যুদ্ধশিশুদের সম্পর্কে তিনি সেটা বলতে পারছেন না। তাঁদের সম্পর্কে কোনো তথ্য-উপাত্তই নেই।
গবেষক তাঁর ৭১-এর যুদ্ধশিশু: অবিদিত ইতিহাস গ্রন্থের শেষ দিকে এক জায়গায় বলেছেন, ‘সামাজিক নিশ্চুপতা বাংলাদেশের ঘুণে ধরা সমাজে যুদ্ধশিশুরা যে আজও নিগৃহীত, তারই ইঙ্গিত বহন করে।...যে যুদ্ধশিশুরা মানবিক বিবেচনার দুগ্ধধারা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল, তারা যে মর্মবিদারী দুঃখ পেয়েছিল, তার খবর কেউ জানে না। কেউ সে বিষয়ে জানার ইচ্ছা পোষণ করে কি না, সে প্রশ্নের উত্তরও আমাদের জানা নেই।’ মুস্তফা চৌধুরী বলেন, যুদ্ধশিশুদের বলা হতো ‘শত্রু সন্তান’, ‘বেআইনি শিশু’, ‘মিশ্র রক্তের শিশু’, ‘পরিত্যক্ত শিশু’।
প্রথম আলো কার্যালয়ে সাক্ষাৎকারে মুস্তফা চৌধুরী বলেন, প্রয়াত বড় ভাইয়ের ছেলেকে দত্তক নিয়ে কানাডায় নিয়ে যাওয়ার সময় আইনি জটিলতায় আবর্তে পড়ে প্রথমবারের মতো একাত্তরের যুদ্ধশিশুদের কানাডায় দত্তক নেওয়ার বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি এ বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত, দলিল সংগ্রহ করেন।
মুস্তফা চৌধুরী বলেন, ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ সাক্ষ্য দিয়েছেন একজন যুদ্ধশিশু ও তাঁর বীরাঙ্গনা মা। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত মোহাম্মদ কায়সারের বিরুদ্ধে যে রায়টি দিয়েছেন, তাতে তিনি বীরাঙ্গনা ও তাঁদের গর্ভে জন্ম নেওয়া যুদ্ধশিশুদের জাতির ‘শ্রেষ্ঠ সন্তান’ বলে আখ্যায়িত করেন।

No comments:

Post a Comment