![]() |
| দেখে বোঝার উপায় নেই এটি খাল। আবর্জনা জমে ভরাট হয়ে গেছে চট্টগ্রাম নগরের মরিয়ম বিবি খালটি। এ দৃশ্য খালের পাথরঘাটা এলাকার। ছবি -জুয়েল শীল |
খালের
ভেতরে জন্মেছে অসংখ্য কচুগাছ। আগাছায় ঢাকা পড়েছে ওপরের স্তর। বছর দু-এক
আগে উত্তোলন করা মাটি এখনো সরানো হয়নি খালের পাশ থেকে। খালে ফেলা হচ্ছে
দুই পাশের বাসাবাড়ির গৃহস্থালি বর্জ্য। ময়লা-আবর্জনা ও আগাছায় কোথাও
কোথাও খাল ভরাট হয়ে গেছে। কোথাও খালের গভীরতা কমতে কমতে প্রায় শূন্যের
কোঠায় চলে এসেছে।
এ অবস্থা চট্টগ্রাম নগরের পাথরঘাটা এলাকার মরিয়ম বিবি খালের। নিয়মিত সংস্কার ও খননের অভাবে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ৪০ থেকে ৫০ ফুট প্রশস্ত এই খাল নগরের পাথরঘাটার নজু মিয়া লেন থেকে শুরু হয়ে কর্ণফুলী নদীতে মিশেছে।
স্থানীয় লোকজন বলেন, একসময় প্রায় ১৫ ফুট গভীর ছিল খালটি। তখন খালে নৌকা ও সাম্পান চলাচল করত। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পাথরঘাটা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইসমাইলও একই কথা বলেছেন। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, এখন নৌকা-সাম্পান দূরের কথা, খাল দিয়ে পানিপ্রবাহের সুযোগও কমে গেছে।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, অবৈধ দখলদারদের কারণে একসময় সংকুচিত হয়ে পড়েছিল খালটি। ২০১৪ সালের ২৭ জানুয়ারি অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে নজুমিয়া লেনের ৪ নম্বর গলিতে দেখা যায়, খালের মধ্যে কচুগাছ ও আগাছা জন্মেছে। দুই পাশের বাসাবাড়ির বর্জ্য ফেলা হচ্ছে খালের ভেতরে। ময়লা-আবর্জনা ও আগাছায় খালের এই অংশ পুরো ভরাট হয়ে গেছে।
নজু মিয়া লেনের ইসলাম সওদাগর কলোনির বাসিন্দা জয়া চৌধুরী বলেন, বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানি খাল উপচে প্রায় সময় ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়ে। তখন ঘরের গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে খালের এই অংশ পরিষ্কার করা হয়নি।
নজু মিয়া লেন থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে পাথরঘাটার ব্রিকফিল্ড সড়কে গিয়েও একই চিত্র দেখা যায়। খালের ওপর নির্মিত সেতুর দুই পাশে বর্জ্য ফেলছে লোকজন। আগাছা, কচুরিপানা ও বর্জ্যে খাল ভরাট হয়ে গেছে।
ব্রিকফিল্ড সড়কের ভাসমান চা দোকানি আমেনা বেগম বলেন, ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে পুরো খাল ভরাট হয়ে গেছে।
নগরের ব্রিকফিল্ড সড়ক এলাকায় রয়েছে পাথরঘাটা মহিলা কলেজ, পাথরঘাটা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, রবীন্দ্র-নজরুল একাডেমি, পাথরঘাটা সওজ কলোনি আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাথরঘাটা সিটি করপোরেশন বালক উচ্চবিদ্যালয়। এই পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন্তত আড়াই হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানিতে ঢুকে যায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে। তখন শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
পাথরঘাটা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ফরহাদুর রহমান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, খালের গভীরতা কমে যাওয়ায় জোয়ারের পানি সহজে নামতে পারে না। জোয়ারের পানির সঙ্গে নালা-নর্দমার ময়লা-আবর্জনাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলে আসে। তখন এক অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়। তাই জোয়ার আসার আগেই বাধ্য হয়ে ছুটি দিয়ে দিতে হয়। খালটি খনন করলে এ সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
পাথরঘাটার আশরাফ আলী সড়কে সরেজমিনে দেখা যায়, খালের এই অংশ থেকে দুই বছর আগে উত্তোলন করা মাটি এখনো সরিয়ে নেওয়া হয়নি। এই মাটির একটি অংশ রাখা হয়েছে খালের মধ্যে ও কিছু আছে পাশের রাস্তায়। এখানে পাশের নির্মাণাধীন ভবনের পরিত্যক্ত সামগ্রীও ফেলা হয়েছে।
আশরাফ আলী সড়কের দুই ব্যবসায়ী বলেন, খালটি নিয়মিত সংস্কার ও খনন করার জন্য সিটি করপোরেশনকে একাধিকবার বলা হয়েছে। কিন্তু এ ব্যাপারে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। এখন জোয়ারের পানিতে প্রতিবছরই দোকান তলিয়ে যায়।
মরিয়ম বিবি খালটি নিয়মিত সংস্কার ও খনন না হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে পাথরঘাটা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইসমাইল প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৪ সালে উদ্যোগ নিয়েও খননকাজ পুরোপুরি শেষ করা যায়নি। তবে এবার ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে আবার খালটি খনন করা হবে।
এ অবস্থা চট্টগ্রাম নগরের পাথরঘাটা এলাকার মরিয়ম বিবি খালের। নিয়মিত সংস্কার ও খননের অভাবে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ৪০ থেকে ৫০ ফুট প্রশস্ত এই খাল নগরের পাথরঘাটার নজু মিয়া লেন থেকে শুরু হয়ে কর্ণফুলী নদীতে মিশেছে।
স্থানীয় লোকজন বলেন, একসময় প্রায় ১৫ ফুট গভীর ছিল খালটি। তখন খালে নৌকা ও সাম্পান চলাচল করত। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পাথরঘাটা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইসমাইলও একই কথা বলেছেন। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, এখন নৌকা-সাম্পান দূরের কথা, খাল দিয়ে পানিপ্রবাহের সুযোগও কমে গেছে।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, অবৈধ দখলদারদের কারণে একসময় সংকুচিত হয়ে পড়েছিল খালটি। ২০১৪ সালের ২৭ জানুয়ারি অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে নজুমিয়া লেনের ৪ নম্বর গলিতে দেখা যায়, খালের মধ্যে কচুগাছ ও আগাছা জন্মেছে। দুই পাশের বাসাবাড়ির বর্জ্য ফেলা হচ্ছে খালের ভেতরে। ময়লা-আবর্জনা ও আগাছায় খালের এই অংশ পুরো ভরাট হয়ে গেছে।
নজু মিয়া লেনের ইসলাম সওদাগর কলোনির বাসিন্দা জয়া চৌধুরী বলেন, বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানি খাল উপচে প্রায় সময় ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়ে। তখন ঘরের গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে খালের এই অংশ পরিষ্কার করা হয়নি।
নজু মিয়া লেন থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে পাথরঘাটার ব্রিকফিল্ড সড়কে গিয়েও একই চিত্র দেখা যায়। খালের ওপর নির্মিত সেতুর দুই পাশে বর্জ্য ফেলছে লোকজন। আগাছা, কচুরিপানা ও বর্জ্যে খাল ভরাট হয়ে গেছে।
ব্রিকফিল্ড সড়কের ভাসমান চা দোকানি আমেনা বেগম বলেন, ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে পুরো খাল ভরাট হয়ে গেছে।
নগরের ব্রিকফিল্ড সড়ক এলাকায় রয়েছে পাথরঘাটা মহিলা কলেজ, পাথরঘাটা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, রবীন্দ্র-নজরুল একাডেমি, পাথরঘাটা সওজ কলোনি আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাথরঘাটা সিটি করপোরেশন বালক উচ্চবিদ্যালয়। এই পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন্তত আড়াই হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানিতে ঢুকে যায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে। তখন শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
পাথরঘাটা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ফরহাদুর রহমান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, খালের গভীরতা কমে যাওয়ায় জোয়ারের পানি সহজে নামতে পারে না। জোয়ারের পানির সঙ্গে নালা-নর্দমার ময়লা-আবর্জনাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলে আসে। তখন এক অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়। তাই জোয়ার আসার আগেই বাধ্য হয়ে ছুটি দিয়ে দিতে হয়। খালটি খনন করলে এ সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
পাথরঘাটার আশরাফ আলী সড়কে সরেজমিনে দেখা যায়, খালের এই অংশ থেকে দুই বছর আগে উত্তোলন করা মাটি এখনো সরিয়ে নেওয়া হয়নি। এই মাটির একটি অংশ রাখা হয়েছে খালের মধ্যে ও কিছু আছে পাশের রাস্তায়। এখানে পাশের নির্মাণাধীন ভবনের পরিত্যক্ত সামগ্রীও ফেলা হয়েছে।
আশরাফ আলী সড়কের দুই ব্যবসায়ী বলেন, খালটি নিয়মিত সংস্কার ও খনন করার জন্য সিটি করপোরেশনকে একাধিকবার বলা হয়েছে। কিন্তু এ ব্যাপারে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। এখন জোয়ারের পানিতে প্রতিবছরই দোকান তলিয়ে যায়।
মরিয়ম বিবি খালটি নিয়মিত সংস্কার ও খনন না হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে পাথরঘাটা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইসমাইল প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৪ সালে উদ্যোগ নিয়েও খননকাজ পুরোপুরি শেষ করা যায়নি। তবে এবার ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে আবার খালটি খনন করা হবে।

No comments:
Post a Comment