Thursday, March 10, 2016

বাণিজ্যিক ভবনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ভাঙচুর

ভেঙে ফেলা হয় বাটার শো রুমের সাইনবোর্ডও। ছবি: সৌরভ দাস
চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় হাইওয়ে প্লাজা নামের একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবনের অন্তত ১০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পরিচিতি ফলক (সাইনবোর্ড) ভাঙচুর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে আওয়ামী লীগের ২০-২৫ কর্মী এই ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকেরা।
হাইওয়ে প্লাজা শপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানান, লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব স্থাপনার সাইনবোর্ডসহ নামফলকগুলোতে ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি চিঠি দেয়। এতে সুপারিশ করেন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ এফ কবির আহমেদ।
অ্যাসোসিয়েশনের অন্তত তিনজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে ২০-২৫ যুবক রড, হাতুড়ি নিয়ে এসে অতর্কিতভাবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ভাঙচুর করে। তাঁরা হাইওয়ে প্লাজার নামফলকও ভেঙে ফেলে।
ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতরা লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুমের অনুসারী বলে জানান ব্যবসায়ী নেতারা। তাঁরা প্রথম আলোকে বলেন, দোকানের নামফলক ও সাইনবোর্ডে কী ভাষা ব্যবহার করা হবে, তা নির্ধারণ করবে সিটি করপোরেশন। কিন্তু ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতারা বারবার চাপ দিয়ে যাচ্ছে তা করার জন্য। তাঁদের এই এখতিয়ার নেই।
চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় হাইওয়ে প্লাজার
নামের কয়েক অক্ষর ভেঙে ফেলে দুর্বৃত্তরা। ছবি: সৌরভ দাশ
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিদারুল আলম মাসুম সন্ধ্যায় বলেন, ‘সাইনবোর্ড ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’ তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের স্থানীয় কাউন্সিলরের সুপারিশ নিয়েই তাঁরা চিঠি দিয়েছেন। তবে আজ সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, হাইওয়ে প্লাজার নিচতলার বাটা, ফ্যাশন অ্যান্ড ফাইন, টোটাল টেলিকম ও মাসুদ’স এন্টারটেইনমেন্ট সলিউনসহ চারতলাবিশিষ্ট বিপণিবিতানের অন্তত ১০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ভাঙচুর করা অবস্থায় পড়ে আছে।
ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ এই ধরনের চিঠি দিতে পারে না বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. ইলিয়াছ হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ এই ধরনের নোটিশ দিতে পারে।
সিটি করপোরেশনের লালখান বাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এ এফ কবির আহমেদ চিঠিতে সুপারিশ করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘সর্বত্র বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাউকে না কাউকে তো এগিয়ে আসতে হবে। মানুষের কল্যাণ হয়, এই রকম কাজ করতে বাধা কোথায়?’
এ দিকে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ভাঙচুরের কোনো অভিযোগ পাননি বলে জানান।

No comments:

Post a Comment