![]() |
| হিলারি ক্লিনটন ও বার্নি স্যান্ডার্স |
নিউইয়র্ক
অঙ্গরাজ্যে আগামী মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বাছাইপর্ব। এর
চার দিন আগে গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রুকলিনে নবম ও সম্ভবত শেষবারের মতো
মুখোমুখি বিতর্কে অংশ নিলেন ডেমোক্রেটিক পার্টির দুই প্রেসিডেন্ট
পদপ্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও বার্নি স্যান্ডার্স। একে অন্যের প্রতি
ক্রুদ্ধ, বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য ও সমালোচনার জন্যই দুই ঘণ্টা স্থায়ী এই
বিতর্ক সবার নজর কাড়ে। এ কারণে ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকা এই বিতর্কের নাম
দেয় ‘হাড্ডাহাড্ডি লড়াই’। দুজনের জন্যই এই বিতর্ক ছিল অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, মঙ্গলবারের নির্বাচনে এই রাজ্যের ২৯১ জন ডেলিগেটের
বেশির ভাগকে আয়ত্তে আনতে পারলে দলীয় মনোনয়নের লড়াইতে এগিয়ে যাওয়া সহজ
হবে। বিতর্কের শুরুতেই স্যান্ডার্স বলেন, তিনি মার্কিন নাগরিকদের কাছে
সত্য তুলে ধরেছেন। এর আগে কেউ এমন করেননি। কথা শেষ হতে না হতেই
স্যান্ডার্সের প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন হিলারি। তিনি
মনে করিয়ে দেন, গত সপ্তাহে নিউইয়র্কের ডেইলি নিউজ পত্রিকাকে দেওয়া এক
সাক্ষাৎকারে স্যান্ডার্স বড় ব্যাংকগুলোকে কয়েক খণ্ডে ভাগ করার প্রস্তাব
দেন। কিন্তু সেটি কীভাবে অর্জিত হবে, সে কথা ভালোভাবে ব্যাখ্যা করেননি।
তিনি ইঙ্গিত দেন, স্যান্ডার্স এখনো প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য প্রস্তুত নন।
হল–ভর্তি দর্শকদের সামনে অনুষ্ঠিত এই বিতর্কে তাঁরা দুজনই একে অন্যের
দুর্বল দিকগুলোকে আক্রমণ করেন। আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে
স্যান্ডার্সের একসময়ের অনাগ্রহের কথা বারবার মনে করিয়ে দেন হিলারি।
অন্যদিকে স্যান্ডার্সের দাবি, হিলারি বড় ব্যাংকগুলো থেকে ভাষণ দিয়ে মোটা
অর্থ কামিয়েছেন এবং ওয়ালস্ট্রিটের ধনকুবেরদের কাছ থেকে লাখ লাখ ডলার
চাঁদা তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, ওয়ালস্ট্রিটের সঙ্গে হিলারির ঘনিষ্ঠ
সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু এ কারণে সিনেটর থাকাকালে হিলারি বড় ব্যাংকের
স্বার্থরক্ষা করে এমন কোনো আইন সুপারিশ করেছেন কি না, এর উদাহরণ দিতে
ব্যর্থ হন। এতে হিলারি সোল্লাসে বলেন, স্যান্ডার্স কোনো উদাহরণ দেখাতে
পারছেন না, কারণ তেমন কোনো উদাহরণই নেই। স্যান্ডার্স ইরাক যুদ্ধের পক্ষে
হিলারির ভোট ও লিবিয়া অভিযানের সময় তাঁর বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে তীব্র
আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, হিলারি মার্কিন শ্রমিক স্বার্থবিরোধী আন্তর্জাতিক
বাণিজ্য চুক্তি সমর্থন করেন। কিন্তু ঘণ্টাপ্রতি ১৫ ডলার বেতনের প্রস্তাব
সমর্থন করতে রাজি নন। এসব কথা বলে স্যান্ডার্স নিউইয়র্কের বামঘেঁষা
ডেমোক্রেটিক সমর্থকদের মনে হিলারির প্রার্থিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা
করেন। অন্যদিকে হিলারি দর্শকদের মনে করিয়ে দেন, নারীর সমানাধিকার প্রশ্নে
স্যান্ডার্স শক্ত অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন
গর্ভপাতের জন্য নারীর শাস্তি হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন, স্যান্ডার্স সে
কথার কঠোর সমালোচনা না করে পুরো ব্যাপারটি হালকাভাবে নিয়েছিলেন। দর্শকদের
মধ্যে উপস্থিত উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী এ সময়ে হিলারিকে তালি দিয়ে সমর্থন
জানান। বৈদেশিক নীতি প্রশ্নে ইরাক ও লিবিয়ায় মার্কিন অভিযান ছাড়াও
ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে এই দুই প্রার্থী তর্ক শুরু
করেন। হিলারি ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ সম্পর্কের জোর সমর্থক।
অন্যদিকে স্যান্ডার্স ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলি ব্যবহারের সমালোচনা
করে বলেন, সে দেশের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যে সব সময় ঠিক নন, সে কথা
তাঁকে সময়-সময় জানিয়ে দেওয়া উচিত। হিলারি বারবার মনে করিয়ে দেন,
স্যান্ডার্স শুধু ভালো ভালো প্রস্তাব তুলেছেন। কিন্তু সেগুলোর বাস্তবায়ন
বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সমস্যার কারণ চিহ্নিত করা সোজা বলে তিনি যুক্তি দেখান।
তিনি এও বলেন, সমস্যার সমাধান তত সহজ নয়। তুমুল বিতর্কের পরও হিলারি ও
স্যান্ডার্স কেউই একে অন্যকে নকআউট বা ধরাশায়ী করতে পারেননি। বিতর্কের ফলে
তাঁদের সমর্থকদের অবস্থান পরিবর্তিত হয়েছে, সে কথাও বলা যাবে না। সর্বশেষ
জনমত জরিপে নিউইয়র্কে স্যান্ডার্সের চেয়ে হিলারি ১৩ পয়েন্টে এগিয়ে
রয়েছেন। নিউইয়র্কের প্রাইমারিতে ভালো ফল পাওয়া দুই প্রার্থীর জন্যই
জরুরি। গত নয়টি আটটি জয় ছিনিয়ে নিয়ে হিলারি শিবিরে কাঁপন ধরিয়ে
দিয়েছেন স্যান্ডার্স। এখন হিলারি তাঁর নিজের রাজ্য নিউইয়র্কে ভালো ফল
দেখিয়ে স্যান্ডার্সের বিজয়রথ থামিয়ে দিতে চান। দলীয় প্রার্থী হিসেবে
মনোনয়ন পেতে একজন প্রার্থীর ২ হাজার ৩৮৩ ডেলিগেট প্রয়োজন। এ পর্যন্ত
হিলারি সংগ্রহ করেছেন ১ হাজার ২৮৯ ডেলিগেট। স্যান্ডার্সের রয়েছে ১ হাজার
৩৮। এ ছাড়া দলীয় নেতা ও নির্বাচিত প্রতিনিধি যারা ‘সুপার ডেলিগেট’ হিসেবে
দলীয় কনভেনশনে নিজের পছন্দমতো ভোট দিতে সক্ষম, তাদের ৪৬৯ জন হিলারির
পক্ষে অনুমোদন ঘোষণা করেছেন। সুপার ডেলিগেটদের মাত্র ৩১ জন স্যান্ডার্সের
পক্ষে।

No comments:
Post a Comment