গত
সোমবার চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারা ইউনিয়নে পুলিশের গুলিতে চারজন
গ্রামবাসীর প্রাণহানি সেখানে পরিকল্পিত বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজটিকে
কঠিন করে তুলবে। যাঁরা মারা গেছেন, তাঁরা সবাই সেখানে সেই বিদ্যুৎকেন্দ্র
নির্মাণের বিরোধিতা করে আসছিলেন। প্রতিবাদ সমাবেশ করতে গিয়েই তাঁদের প্রাণ
দিতে হলো। তাঁদের মৃত্যুর ফলে গ্রামবাসীর ক্ষোভ ও প্রতিবাদ তীব্রতর হবে।
এমন হলে ভবিষ্যতে পুলিশ কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবে, বিদ্যুৎকেন্দ্র
নির্মাণের কাজ কীভাবে চলবে—এসব প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল। একই সঙ্গে
সরকারের নীতিনির্ধারকদের ভাবতে হবে যে এ ধরনের ক্ষোভ–বিক্ষোভের পরিস্থিতি
সামাল দেওয়ার একমাত্র পথ চূড়ান্ত বলপ্রয়োগ কি না? স্থানীয় পুলিশ বলছে,
বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিরোধিতাকারীরা পুলিশের গাড়িবহরের ওপর গুলি
চালিয়েছিলেন, পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে তাঁদের চারজন নিহত হয়েছেন। খবরে
প্রকাশ, বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পক্ষেও এলাকাবাসীর একটি অংশ দাঁড়িয়ে গেছে
এবং পক্ষের ও বিপক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে, যেখানে যোগ দিয়েছে
পুলিশ। কিন্তু নিহত হয়েছেন শুধু বিপক্ষের লোকজন। কেন? বাঁশখালীতে
বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ৪ চারজন মানুষের প্রাণহানি কি
অনিবার্য ছিল? দেশের উন্নয়নের জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ নানা ধরনের শিল্প ও
স্থাপনা গড়ে তুলতে হবে—এ নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। কিন্তু কোনো এলাকায়
বিপুলসংখ্যক মানুষের জমি অধিগ্রহণ করে কোনো স্থাপনা গড়ে তুলতে গেলে
জবরদস্তি করে তা করা সম্ভব নয়। ঢাকার অদূরে বিক্রমপুর এলাকার আড়িয়ল বিলে
বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়েছে এলাকাবাসীর প্রবল
প্রতিবাদের কারণে। বাঁশখালীর গণ্ডামারা ইউনিয়নে দেশি-বিদেশি যৌথ উদ্যোগে
বড় আকারের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে
হলে স্থানীয় জনসাধারণের সমর্থন পেতে হবে। বলপ্রয়োগের মাধ্যমে কিছু করতে
যাওয়া উচিত নয়, কারণ তাতে প্রতিরোধ আরও তীব্র হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী
বাহিনীর দায়িত্ব শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করা; কোথাও সেটা বিঘ্নিত হলে
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য গুলি চালানো সবচেয়ে সহজ পন্থা, কিন্তু
অতিমাত্রায় বিপজ্জনক পন্থা, যার ফল অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উল্টো হয়ে থাকে। মনে
রাখা উচিত, মানুষের প্রাণের চেয়ে বেশি মূল্য আর কোনো কিছুরই নয়।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment