চট্টগ্রামের
থানাগুলো থেকে টাউট ও দালালদের প্রবেশ ঠেকাতে সিসি ক্যামেরা বসানোর ঘোষণা
দিয়েছেন নতুন পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার। বলেছেন, সবকটি থানায় সিসি
ক্যামেরা বসিয়ে আমি মনিটরিং করবো ভেতরে কি হচ্ছে। কারা কারা আসছে যাচ্ছে।
তবে একদিনে আমি সবকিছু করে ফেলবো তা কখনো বলবো না। গতকাল বিকালে
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। জননিরাপত্তাকে গুরুত্ব
দিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরের ৬০ লাখ নগরবাসীর আস্থার জায়গায় যেতে চান বলেও
মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, জনগণের কাছে একটা বার্তা পৌঁছাতে চাই। আমরা
আপনাদের জন্য আছি। আমরা আপনাদের জন্য কাজ করছি। চট্টগ্রাম মহানগরের ৬০ লাখ
মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়াই আমার প্রথম কাজ। নগরবাসীর সেবা করাই আমাদের ব্রত।
৬০ লাখ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যা যা করা দরকার আমি সব করবো।
নতুন কমিশনার বলেন সড়ক, ভবন কিংবা মোড়ে মোড়ে সিসি ক্যামেরা বসানোর আগে
থানার অভ্যন্তরে সিসি ক্যামেরা লাগানো হবে। একইসঙ্গে মাঠপর্যায়ে কর্মরত
পুলিশ সদস্যদের নীতিবহির্ভূত কাজ কঠোর হস্তে দমন করা হবে। আমি পরিষ্কারভাবে
বলছি পুলিশের সেবা নেয়ার অন্যতম জায়গা হচ্ছে থানা। থানা সম্পর্কে মানুষের
ধারণা যদি না পাল্টায় তাহলে পুলিশ সম্পর্কেও ধারণা পাল্টাবে না। তিনি আরও
বলেন, আমার সঙ্গে হয়ত সারা দিনে ৫০ জন লোক যোগাযোগ করে। আর ১৬ থানায় যদি
প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার দুই শ’ লোক যায়। সেই তিন হাজার দুইশ লোক যদি বলে যে
পুলিশ ভালো না তাহলে আমরা উপরে বসে যত ভালোই করি কিছুই হবে না। সেদিক
বিবেচনায় নিয়ে আমি একটা কাজ, বলছি না যে এই মুহূর্তে করে ফেলব, আমি বলতে
চাই আমি চেষ্টা করবো। পুলিশ কমিশনার বলেন, আমরা থানা চত্বর ও ভেতরে কি
হচ্ছে সেটা যেন আমি অফিসে বসে দেখতে পাই। যদি সিসিটিভির আওতায় আমি থানা
আনতে পারি থানার ভিতরে টাউট-বাটপারের যাতায়াত অবশ্যই রোধ হবে। আমাদের
অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার বিষয়ে আমাদের নীতি নৈতিকতা ও কাজের বিষয়ে যেন স্বচ্ছতা
থাকে। তিনি সাবধান করে দিয়ে বলেন, কোনো অনৈতিক কাজে যেন কোনো পুলিশ সদস্য
নিয়োজিত হতে না পারে সেজন্য আমরা তৎপর থাকব। আমার কোনো সদস্য যদি কোনো
অপরাধমূলক কাজ করে বা জড়িত হয় বিষয়টিকে আমরা কঠোর দৃষ্টিতেই দেখব। দায়ীদের
বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব। থানায় ঘুষের ব্যাপারে তিনি বলেন, অর্থের
বিনিময়ে যেসব পুলিশ সেবা প্রদান করতে চায় তারা যেন সেটা করতে না পারে সেই
ব্যাপারে আমি সচেষ্ট থাকব। আমি একেবারে বন্ধ করে ফেলব একথা বলছি না কিন্তু
তারা যেন সেটা করতে না পারে অন্তত সহনীয় পর্যায়ে যাতে থাকে। কেউ যেন কোনো
অভিযোগ করার সুযোগ না পায় আমি সে ব্যাপারে সচেষ্ট থাকব। সাধারণ ডায়েরি করতে
যেন কোনো অর্থ না লাগে সেই পদ্ধতি চালু করতে চাই।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment