Saturday, April 16, 2016

নতুন বছরে গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা খালেদা জিয়ার

নতুন বছরে দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে- এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা আশা করছি নববর্ষ বাংলাদেশের মানুষের জন্য সত্যিকারের সুদিন বয়ে আনবে, শুভ হবে। নতুন বছরে আমরা এ দেশে গণতন্ত্র পাবো, দেশের উন্নয়ন হবে, শান্তি আসবে, জনগণের কল্যাণ হবে। গুম, হত্যা, নির্যাতন থেকে মানুষ মুক্ত হবে। দেশে প্রতিটি মানুষের দাবি প্রতিষ্ঠিত হবে। গত বছর অনেক দুঃখ-বেদনা ছিল। সামনে নিশ্চয় শুভ দিন আসবে। তিনি বলেন, এখন দেশে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা। আসুন নববর্ষে সবাই ঐক্যবদ্ধ হই; শপথ নেই। বিভেদ নয় ঐক্য গড়ে জাতিকে অগ্রগতির পথে নিয়ে যাই। হাতে হাত, কাঁধে কাঁধ রেখে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। অনেক যন্ত্রণা আছে, বেদনা আছে, পেছনের কষ্ট-বেদনা ভুলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বৃহস্পতিবার জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত বাংলা নববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে দেয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। একুশে ফেব্রুয়ারির আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ভাষা শহীদরা ভাষার জন্য যেভাবে রক্ত দিয়ে ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছেন, সারা বিশ্বে আজ বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ঠিক তেমনিভাবে এ নববর্ষে আমরা শপথ নিই- বাংলাদেশকে সারা পৃথিবীর বুকে শান্তি, উন্নয়ন ও কল্যাণের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করব ইনশাআল্লাহ। কোনো রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে খালেদা জিয়া বলেন, আমি বিএনপির পক্ষ থেকে প্রত্যেক রাজনৈতিক দল ও নেতৃবৃন্দকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাই। দেশবাসী, বিশ্ববাসী, প্রবাসীসহ, শিশু, মহিলা, সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান তিনি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নতুন সূর্য উদয়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন স্বপ্ন দেখতে হবে। তাহলেই হতাশা, ব্যর্থতা কেটে যাবে। গণতান্ত্রিক, রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত জীবনে আমরা সবাই নির্যাতিত ও নিপীড়িত হচ্ছি। গণতন্ত্র হরণ করা হয়েছে। হারানো গণতন্ত্র সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফিরিয়ে আনতে হবে। আমাদের সংগ্রাম গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই হারানো গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবোই। এদিকে বর্ষবরণের এ অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট সময়ে আগে থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপি ও তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে ভিড় জমাতে শুরু করে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সে ভিড় বেড়ে জনস্রোতে পরিণত হয়। জাসাস শিল্পীদের গান পরিবেশনার মাধ্যমে দুপুর আড়াইটায় অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। বিকাল সোয়া ৪টায় অনুষ্ঠানে পৌঁছেন খালেদা জিয়া। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে তাদের প্রিয় নেত্রীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। বিএনপি নেত্রীও হাত নেড়ে নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের অভিনন্দনের জবাব দেন। ক্রিম কালারের লাল পাড়ের সুতির শাড়ি পরা খালেদা জিয়া নববর্ষের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। জাতীয় সংগীত, দলীয় সংগীতের পর বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠানে জাসাস শিল্পীরা বর্ষবরণের নানা গান পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে বেবী নাজনীন, হাসান চৌধুরী, পিয়াল হাসান, মনির খান, পলি শারমীন, ?শুভ্র আসাদ, শাহজাদী কোহিনুর পাঁপড়ি, মুন, রেখাসহ সংগঠনের শিল্পীরা ভাটিয়ালি, দেশাত্মবোধক ও মুক্তিযুদ্ধের গান পরিবেশন করেন। বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, আইনবিষয়ক সম্পাদক নিতাই রায় চৌধুরী, অর্থবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক আবুল খায়ের ভূঁইয়া, গণশিক্ষা সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া, সহ-দপ্তর আবদুল লতিফ জনি, মহিলা দল সভানেত্রী নূরে আরা সাফা, মহিলা দল সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু, ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, সহসভাপতি মামুনুর রশীদ মামুনসহ বিএনপি ও তার অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। জাসাস সভাপতি এম এ মালেকের সভাপতিত্বে ও জাসাসের সাধারণ সম্পাদক কণ্ঠশিল্পী মনির খান অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

No comments:

Post a Comment