Tuesday, April 12, 2016

কড়া নাড়ছে বৈশাখ

বাংলা সনের আরেকটি নতুন বছর দরজায় কড়া নাড়ছে। আর ক’দিন পরই আসছে পহেলা বৈশাখ। বাঙালির প্রাণের উৎসব নববর্ষ। পহেলা বৈশাখের আয়োজনে প্রাণের জোয়ারে জেগে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রাঙ্গণ। চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা মঙ্গল শোভাযাত্রাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান সফল করতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। এবারের মূল দায়িত্ব পালন করছে ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থীরা। এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো ‘অন্তরে মম বিকশিত কর, অন্তর তর হে’। এবারের প্রতিপাদ্যের মূল বিষয়বস্তু হলো ধর্ষণ, জঙ্গিবাদ, নারী নিপীড়ন, শিশু হত্যা, দুর্নীতি, নির্বিচারে মানুষ হত্যাসহ আরও যেসব অপকর্ম আছে এগুলো আসলে বিচার ব্যবস্থা দিয়ে পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব নয়। যদি না মানুষ নিজের বিবেককে জাগ্রত করতে পারে, যদি স্বশিক্ষিত না হয়। এবারের শোভাযাত্রার মূল কাঠামো মোট আটটি। এগুলোর মধ্যে ষাঁড় হলো শক্তির প্রতীক, পাখি হলো প্রকৃতির প্রতীক, নৌকা সমৃদ্ধির প্রতীক, মা ও শিশু যা আত্মিক সম্পর্কের প্রতীক। মূল কাঠামোর পাশাপাশি থাকছে মাছ, পেঁচা, ময়ূরসহ আরও অনেক কিছু। এ ছাড়া থাকছে বিভিন্ন মুখোশ, সরাচিত্র, খরগোশ, বিভিন্ন লোকজ পাখির পেপার কাটিং, পেপার ম্যাশসহ আরও অনেক কিছু। ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা গেল উৎসব-আমেজে চলছে বর্ষবরণের প্রস্তুতি। সেখানে চৈত্রের কাঠফাটা রোদ আমলে নেয়ার সময় নেই কারও। বিরামহীন কাজ চলছে। কেউ মুখোশ তৈরিতে ব্যস্ত, কেউ সরাচিত্র করছেন, আবার কেউ পেপার ম্যাশ তৈরিতে ব্যস্ত। এবারের মঙ্গলযাত্রার সার্বিক দায়িত্ব পালন করছেন রাজিব, রবিন, জনি, সোহেল, নির্মল অধিকারীসহ আরও অনেকে। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শোভাযাত্রার অর্থ সংস্থানের জন্য মূলত এসব মুখোশ ও অন্যান্য শিল্পকর্ম বিক্রি করা হয়। বৈশাখের আগে সুলভে এখান থেকে শিল্পকর্ম মুখোশ, পাখি, জলরঙের চিত্রকর্ম ও ঘর সাজানোর বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনা যাবে। ১৮ই মার্চ থেকে চলছে বৈশাখকে বরণ করার জন্য এবং মঙ্গল শোভাযাত্রা সফল করার জন্য পূর্বপ্রস্তুতি। এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হবে সকাল ১০টায়। এবারই প্রথম সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাষ্ট্র স্বীকৃতভাবে মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হবে। নির্মল অধিকারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় চলছে বর্ষবরণের প্রস্তুতি। উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সাল থেকে চারুকলা ইন্সটিটিউটের উদ্যোগে বর্ষবরণের বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়। বর্তমান সময়ে রমনার বটমুলে ছাযানটের আয়োজনের মতোই চারুকলা ইন্সটিটিউটের এ আয়োজন আবশ্যিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। পহেলা বৈশাখের প্রথম প্রভাতে এই  শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক  প্রদক্ষিণ করে পুনরায় চারুকলা ইনস্টিটিউটে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় সমকালীন নানা প্রসঙ্গের যেমন প্রতীকী উপস্থিতি থাকে তেমনি থাকে গ্রামীণ জীবন এবং আবহমান বাংলার নানা চিত্র। শোভাযাত্রায় সকল শ্রেণী-পেশার বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশগ্রহণ করে থাকে।
মোসাঃ হিরা খাতুন মৌসুমী জান্নাত

No comments:

Post a Comment