Monday, April 18, 2016

রিজার্ভ চুরি নিয়ে মুক্ত আলোচনা দাবি

ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে
বক্তব্য দেন সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় জাতীয় সংসদে আলোচনার দাবি তুলেছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, এ ধরনের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটিতে উন্মুক্ত আলোচনা হওয়া উচিত। সেই সঙ্গে পরবর্তী সংসদে এটিকে বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় নিয়ে আসা দরকার। আসন্ন জাতীয় বাজেট সামনে রেখে গতকাল রোববার সকালে সিপিডির পক্ষ থেকে বাজেটবিষয়ক বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দেবপ্রিয় এসব কথা বলেন। দেবপ্রিয় বলেন, ‘বাংলাদেশে এ রকম একটি ঘটনা ঘটেছে, সেটি সম্পর্কে আমরা সবচেয়ে বেশি জেনেছি ফিলিপাইনের সংসদের প্রকাশ্য শুনানির মাধ্যমে। সারা বিশ্বে এ নিয়ে এত কিছু হচ্ছে অথচ আমাদের মন্ত্রিসভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, তা আমরা জানি না। ফিলিপাইনের সংসদ প্রকাশ্য শুনানি করছে কিন্তু আমাদের অর্থ মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি কোথায়? আমাদের সংসদীয় কমিটি এ নিয়ে একটি সভাও তো ডাকল না, কোনো আলোচনাও করল না।’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকেরা জানতে চান আগামী অর্থবছরের (২০১৬-১৭) বাজেট কেমন হওয়া উচিত? জবাবে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আগামী বাজেট হওয়া উচিত দরিদ্র ও দুস্থবান্ধব, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানমুখী, বৈশ্বিক পরিস্থিতিসচেতন ও সংস্কারমূলক। সিপিডির লিখিত সুপারিশগুলো তুলে ধরেন সংস্থাটির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান। আরও বক্তব্য দেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান ও অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। সিপিডি বলছে, বাজেটের আকারের চেয়ে গুণগত মান বাড়ানো জরুরি। চলতি অর্থবছরে প্রায় ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের যে দাবি সরকার করছে, সেটিকে টেকসই রূপ দিতে হবে। বাজেট বাস্তবায়ন ও প্রাক্কলনের মধ্যে ঘাটতি ক্রমেই বাড়ছে। তাই বাজেটের প্রাক্কলনের ভিত্তি হওয়া উচিত বাস্তবায়নের সক্ষমতা ও পরিস্থিতির নিরিখে। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, একদিকে মানুষের আয় বাড়ছে আবার মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে, অথচ আয়কর আদায় প্রবৃদ্ধি গত ১৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এতে একধরনের বৈপরীত্য আছে। ফলে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। সিপিডি মনে করে, এ বছর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির প্রভাব জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ জন্য চলতি অর্থবছর জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের বেশি হবে বলে বলা হচ্ছে। কিন্তু বেতন বৃদ্ধির প্রভাব সব সময় একই রকম থাকবে না। তাই প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়িয়ে ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধিকে টেকসই রূপ দিতে হবে। সিপিডি বলেছে, চলতি অর্থবছর শেষে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি দাঁড়াবে। এ ছাড়া কর্মসংস্থান তৈরিতে জাতীয় প্রবৃদ্ধির যথাযথ প্রতিফলন ঘটছে না। সামরিক বাজেট বা অর্থনীতির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে সিপিডি। সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশের অর্থনীতির সঙ্গে বিভিন্নভাবে সামরিক অর্থনীতি জড়িত হয়ে গেছে। তাই সামরিক অর্থনীতিতে আধুনিকায়ন ও জাতীয় প্রয়োজনের স্বার্থে কী ধরনের বিনিয়োগ করব—এ সম্পর্কে স্বচ্ছ আলোচনার সময় হয়েছে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সংবেদনশীলতাকে বজায় রেখেই এ কাজটি করতে হবে। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, পৃথিবীর বুকে সর্বোচ্চ সংখ্যক শান্তিরক্ষী বাহিনী এখন বাংলাদেশ দিয়ে থাকে। বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নকাজের সঙ্গে প্রতিরক্ষা বা সামরিক বাহিনী যুক্ত। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় তারা প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে। বড় ধরনের সমুদ্রসীমা সম্প্রসারিত হওয়ায় ভবিষ্যতে সেখানে নৌবাহিনীর বড় ভূমিকা থাকবে। আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ও পরিসংখ্যান ব্যুরোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে স্বাধীন আর্থিক খাত সংস্কার কমিশন ও পরিসংখ্যান কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা আবার তুলে ধরেছে সিপিডি। সিপিডি আরও যেসব সুপারিশ করেছে–বিপিসিসহ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়, ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত, ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্টের বাস্তবায়ন, নতুন ভ্যাট আইন কার্যকরে অনুকূল পরিবেশ তৈরি প্রভৃতি।

No comments:

Post a Comment