![]() |
| নতুন হেলমেট পরে খেলতে আপত্তি কুকের |
গত
সপ্তাহে হঠাৎই সংবাদ শিরোনাম হলেন অ্যালিস্টার কুক। তা শিরোনাম হতেই
পারেন, গ্লস্টারশায়ারের বিপক্ষে সেদিন ১০৫ রানের দারুণ ইনিংস খেলেছেন
ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক। কিন্তু ওই ইনিংসটা নয়, কুক আলোচনায় এলেন তাঁর
হেলমেট নিয়ে। ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) অননুমোদিত হেলমেট পরে মাঠে নেমে
হয়েছেন বোর্ডের চক্ষুশূল। ২০১৪ সালের ২৫ নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার শেফিল্ড
শিল্ডের এক ম্যাচে শন অ্যাবটের বাউন্সারে ঘাড়ে আঘাত পেয়ে মারা যান ফিল
হিউজ। হেলমেটের মূল অংশ ও গ্রিলের ফাঁক দিয়ে বল আঘাত করেছিল অস্ট্রেলিয়ান
ব্যাটসম্যানের ঘাড়ে। এরপর থেকেই ক্রিকেটারদের সুরক্ষা নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে
ক্রিকেট-বিশ্ব। অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডই বাড়তি
নিরাপত্তার জন্য ব্যাটসম্যানদের ঘাড় ঢাকা হেলমেট পরার নির্দেশনা দেয়।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তো গত বছরে ১ অক্টোবর থেকে নতুন নিয়ম করে দিয়েছে,
বোর্ড-নির্ধারিত ব্র্যান্ডের হেলমেট পরেই মাঠে নামতে হবে। খেলোয়াড়েরা
ব্যক্তিগতভাবে অন্য হেলমেট পরে নামতে চাইলেও সেটি হতে হবে বোর্ডের অনুমোদন
সাপেক্ষে। এবং সব হেলমেট তৈরি হতে হবে ‘ক্রিকেটারদের মাথা সুরক্ষার
নির্দেশনা’র ব্রিটিশ মানদণ্ড মেনে। কিন্তু এই মানদণ্ড মেনে বানানো হেলমেটে
স্বচ্ছন্দ নন ব্যাটসম্যানরা। তাঁদের দাবি, নতুন এই হেলমেটে বল দেখতে
সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মতো দেরি হয়ে যায়। ক্রিকেটে এই সময়টাই তো গড়ে দিতে
পারে অনেক বড় পার্থক্য। এই হেলমেট জীবন সুরক্ষা করবে ঠিকই, কিন্তু নেতিবাচক
প্রভাব ফেলবে ব্যাটিংয়ে। তাই এটা ব্যবহারে আপত্তি তাঁদের। কিন্তু এখন এই
প্রশ্ন উঠছে, জীবন বড়, নাকি রান? আবার এও তো সত্যি, নতুন হেলমেট পরে খেলতে
যদি অসুবিধা হয়, ব্যাটসম্যানরা আপত্তি তো জানাবেনই। রানও যে একজন
ব্যাটসম্যানের কাছে জীবনই। রান না পেলে ব্যাটসম্যানের আর মূল্যই-বা থাকল
কী! কুককে বোর্ড সতর্ক করে দেওয়ার পর ইংলিশ অলরাউন্ডার রবি বোপারা যেমন
বললেন, ‘এই হেলমেটগুলো ব্যবহার করা কঠিন। ক্ষণিকের জন্য হলেও আপনি বল
হারিয়ে ফেলেন এটি পরে। অনেক খেলোয়াড়ের খেলাতেই এটা প্রভাব ফেলতে পারে। কুক
কেন এটি করেছে, তা আমি বুঝতে পারছি, কিন্তু আপনাকে নিরাপত্তার ব্যাপারগুলোও
মানতে হবে।’ তবে যাঁর মৃত্যু খেলার মাঠের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবিয়ে তুলেছিল
সবাইকে, সেই হিউজের বন্ধু নিক কম্পটনের ভাষায়, ইসিবি একটু বেশি বাড়াবাড়িই
করে ফেলছে বিষয়টি নিয়ে। ইংলিশ এই ওপেনার বলছেন, ‘এখন অনেক বেশি নিয়মকানুন।
আমি সব সময় ফিলের কথা ভাবি, কিন্তু মনে রাখতে হবে সেটি ছিল অস্বাভাবিক এক
দুর্ঘটনা। ওই হেলমেট পরে অতীতে অসংখ্য ব্যাটসম্যান খেলেছেন এবং ভালোই
করেছেন। খেলা থেকে তো আপনি স্বাধীনতাই কেড়ে নিচ্ছেন, অথচ খেলাধুলার আসল
উদ্দেশ্য হলো নিয়মের বাইরে কিছু করা, আনন্দের জন্য খেলা!’ তবে কম্পটনের এমন
সমর্থনও সম্ভবত কুকের কাজে আসবে না। ইংলিশ অধিনায়ক নিজেও তা বুঝতে
পেরেছেন। সাসেক্সের সঙ্গে কাউন্টির পরবর্তী ম্যাচেই তাই নতুন হেলমেট পরে
নামার প্রস্তুতি নিয়েছেন এসেক্স ওপেনার। সবচেয়ে ভালো সমাধান বোধ হয় এটি,
এমন একটা হেলমেট বানানো হোক, যেটায় জীবন বাঁচবে, আবার রানও! সূত্র:
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

No comments:
Post a Comment