![]() |
| প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাহুল রাজ সিং |
ভারতীয়
টেলিভিশনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘বালিকা বধূ’র পরিচিত মুখ বাঙালি অভিনেত্রী
প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ২৪ লাখ রুপি উত্তোলন
করা হয়েছে। গত বছরের নভেম্বর থেকে প্রত্যুষার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই অর্থ
তোলা হয়। পুলিশের ধারণা, তাঁর প্রেমিক অভিনেতা-প্রযোজক রাহুল রাজ সিং এই
অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের। আজ শুক্রবার ওই
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রত্যুষার মা–বাবা বাঙ্গুর নগর পুলিশের কাছে লিখিত
অভিযোগ করেছেন যে প্রত্যুষার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খালি। কে এত টাকা কীভাবে
খরচ করল, তার কিছুই তাঁরা জানেন না। এরপরই তদন্ত শুরু করে বাঙ্গুর নগর
থানার পুলিশ। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, প্রত্যুষার ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড
রাহুলই ব্যবহার করতেন। গত নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত ২৪ লাখ রুপি তোলা
হয়েছে প্রত্যুষার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে। পুলিশের ধারণা, এই টাকা বিগ বস ও
পাওয়ার কাপলসহ বিভিন্ন রিয়্যালিটি শো থেকে পেয়েছিলেন প্রত্যুষা। আর
রাহুলই হয়তো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে তা তুলে নিয়েছেন। এ ছাড়া প্রত্যুষা ও
তাঁর মায়ের একটি যৌথ অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে, যা তাঁর
মা জানেন না। পুলিশ প্রত্যুষার অ্যাকাউন্ট থাকা বিভিন্ন ব্যাংকে এ বিষয়ে
জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। এদিকে গত রোববার থেকে রাহুল এখনো কান্দিভালির শ্রী
সাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তাঁর ‘বিষণ্নতা ও আত্মহত্যার প্রবণতা’
রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। পুলিশ রাহুলের মেডিকেল রিপোর্ট জে
জে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। জে জে হাসপাতালের চিকিৎসকদের অনুমতি পেলেই রাহুলকে
জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। আজ জে জে হাসপাতাল পুলিশকে এ বিষয়টি নিশ্চিত
করার কথা রয়েছে। পুলিশ কালিনা ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির (এফএসএল)
কাছে প্রত্যুষা ও রাহুলের মোবাইল ফোন উদ্ধার করে পাঠিয়ে দিয়েছে। মোবাইলে
ডিলিট করা বার্তাগুলো উদ্ধারের আবেদন করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগের
ওয়েবসাইট এবং প্রত্যুষা ও রাহুলের ই–মেইল অ্যাকাউন্টও খতিয়ে দেখার আবেদন
করেছে পুলিশ। এ ছাড়া মৃত্যুর সময় প্রত্যুষার পোশাক ও যে ওড়না দিয়ে তিনি
আত্মহত্যা করেছিলেন বলে বলা হচ্ছে, তা-ও এফএসএলের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর
আগে গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রত্যুষার মা সোমা বন্দ্যোপাধ্যায়
অভিযোগ করেছিলেন, ‘রাহুল প্রত্যুষার মাথা খেয়েছিল। সে প্রত্যুষাকে বিশ্বাস
করাতে পেরেছিল যে আমি তাঁর শত্রু।’ তিনি বলেন, ৩১ মার্চ প্রত্যুষার সঙ্গে
তাঁদের শেষবারের মতো ফোনে কথা হয়। তখন তাঁকে খুব অসহায় ও ভীত মনে
হয়েছিল। এর আগে রাহুল রাজ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছিলেন, ২০১৫ সালের
নভেম্বর মাস থেকে তিনি প্রত্যুষার সঙ্গে অভিসারে যান। তিনি তাঁকে বিয়ে
করতে চেয়েছিলেন। তিনি এখনো বিশ্বাস করেন, প্রত্যুষা তাঁর স্ত্রী। ঘটনার
দিন যদি তিনি বাসা থেকে বাইরে না যেতেন, তাহলে হয়তো প্রত্যুষা বেঁচে
যেতেন। তবে রাহুলের পরিবারের দাবি, প্রত্যুষা চরম আর্থিক সংকটে ছিলেন। তাঁর
আত্মহত্যার পেছনে এটা একটা কারণ হতে পারে।
![]() |
| প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায় |
১ এপ্রিল শুক্রবার মুম্বাইয়ের বাড়ি থেকে প্রত্যুষার গলায় ফাঁস দেওয়া
ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ অনুমান করেছিল, প্রত্যুষা
আত্মহত্যা করেছেন। পরে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানানো হয়,
শ্বাসরোধে প্রত্যুষার মৃত্যু হয়েছে। প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর তোলপাড় শুরু হয়েছে বলিউডে। ‘বালিকা বধূ’র ‘আনন্দী’
কি আত্মঘাতী হলেন, নাকি তাঁকে পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে? কলকাতার
জামশেদপুরের মেয়ে প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায় বেশ কয়েকটি জনপ্রিয়
ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনীত শেষ সম্প্রচারিত ধারাবাহিক
‘শ্বশুরাল সিমার কি’। রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস ৭’-এ দেখা গেছে তাঁকে।


No comments:
Post a Comment