Wednesday, April 27, 2016

সালমান খান সাইক্লিস্ট, কুস্তিগির, ভারোত্তোলক ও সাঁতারু!

সালমান খান
অভিনেতা সালমান খানকে রিও অলিম্পিকে ভারতীয় দলের শুভেচ্ছাদূত বানানো নিয়ে দেশটির ক্রীড়াঙ্গন এখন রীতিমতো বিভক্ত। কিংবদন্তি অ্যাথলেট মিলখা সিং, কুস্তিগির যোগেশ্বর দত্তসহ ভারতীয় ক্রীড়াঙ্গনের অনেক পরিচিত মুখই সালমান খানকে শুভেচ্ছাদূত বানানোর কড়া সমালোচনা করেছেন। এমনকি এ নিয়ে খোলা অনলাইন পিটিশনে সই করেছেন বলিউডেরও অনেকে। মিলখা সিং তো বলেই দিয়েছেন, যে মানুষটি খেলাধুলার সঙ্গে জড়িত নন, তাঁকে ভারতীয় অলিম্পিক কমিটি কীভাবে শুভেচ্ছাদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়। এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী এই ভারতীয় অ্যাথলেট ক্ষোভের সঙ্গেই বলেছেন, যদি জনপ্রিয়তাই এই পদের মূল বিষয় হয়, তাহলে অলিম্পিকে ক্রীড়াবিদের জায়গায় বলিউডের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পাঠিয়ে দিলেই তো হয়! সালমান খানের বাবা সেলিম খান অবশ্য তাঁর ছেলের পক্ষে। তিনি বলেছেন, সালমান অভিনেতা হলে কী হবে, তাঁর ক্রীড়া প্রতিভাও কম নয়। তাঁর পুত্র নাকি একাধারে একজন সাঁতারু, সাইক্লিস্ট, কুস্তিগির ও ভারোত্তোলক! এতগুলো খেলায় যাঁর অংশগ্রহণ ছিল, তিনি অলিম্পিকে শুভেচ্ছাদূত হওয়ার অধিকার পেতেই পারেন। সেলিম টুইটারে রীতিমতো পাল্টা তিরই ছুড়লেন মিলখা সিংয়ের উদ্দেশে। কিছুদিন আগে ফারহান আখতারের ‘ভাগ মিলখা ভাগ’ ছবির কথা সবাইকে মনে করিয়ে দিয়ে বলেছেন, বলিউডই কিন্তু মিলখা সিংকে বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করেছে। ফলে ‘বলিউড’কে এতটা অবজ্ঞা না করলেও পারতেন মিলখা। এদিকে ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কার সালমান খানকে অলিম্পিকের শুভেচ্ছাদূত নিয়োগে কোনো সমস্যা দেখেন না। তিনি আইপিএলের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যদি শাহরুখ খান, প্রীতি জিনতার মতো বলিউড অভিনেতা-অভিনেত্রীরা আইপিএলে আসতে পারেন, সালমান কেন অলিম্পিকের শুভেচ্ছাদূত হতে পারবেন না! অনেক সময় অন্য পেশার মানুষও একটা নির্দিষ্ট জায়গায় মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজে আসতে পারেন, যদি তাঁর পরিচিতিটা ব্যাপক থাকে। সালমান খানের শুভেচ্ছাদূত হওয়াটা অলিম্পিকের খেলাগুলোর জন্য ভালোই হবে। বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন সালমানও। তিনি বরং খুশি এসব নিয়ে এত কথা হচ্ছে। কারণ, তাঁকে দূত হওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্যই ছিল অলিম্পিক নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে আগ্রহ জাগানো, সেটা তো এক অর্থে সফল। এবারের মতো ভারতে আর কোনোবারই অলিম্পিক নিয়ে এত শোরগোল হয়নি! দূত হিসেবে সালমানের আরেকটি কাজ ভারতের অলিম্পিক দলকে উজ্জীবিত রাখা। এ কারণেই তিনি মনে করেন না, খেলোয়াড় হলেই কেবল দূত হওয়া যাবে।

No comments:

Post a Comment