![]() |
| রুদ্র মেলায় সংগীত পরিবেশন করছে সত্যেন সেন শিল্পী গোষ্ঠী |
‘আমাদের
শিল্প-সংস্কৃতি আন্দোলনমুখী। নানা ঘটনার প্রেক্ষিতে আমাদের কবিরা
প্রতিবাদী ও বিদ্রোহী। সব অশুভের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে এই দ্রোহ একটি
ধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে স্লোগান দিলে,
লিখলে বা গাইলে সাত বছরের জেল হতো যখন। তেমন পরিস্থিতিতে স্বৈরাচারবিরোধী
কবিতা লিখেছিলেন কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।’ কবির বন্ধু কামাল পাশা
চৌধুরী বন্ধুকে নিয়ে বলছিলেন কথাগুলো। মঞ্চের পেছনে কবির ছবি। যে ছবি
দিয়ে রুদ্রকে সব থেকে বেশি চেনা যায়। আজ শুক্রবার বেলা পৌনে এগারোটায়
রুদ্র সংসদের আয়োজনে চারুকলার বকুল তলায় শুরু হয়েছে ‘রুদ্রমেলা’। কবি
রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মৃত্যুর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা
অনুষদের বকুল তলায় এই মেলা শুরু করা হয়। ঢাকায় দীর্ঘ বিরতির পর এ বছর আবারও
মেলা শুরু হয়। তবে মিঠেখালিতে নিয়মিত এই মেলার আয়োজন করে আসছে রুদ্র
সংসদ। সকালে রুদ্রের জনপ্রিয় গান ‘ভালো আছি ভালো থেকো’ গেয়ে অনুষ্ঠান
শুরু করে কবির গানের দল ‘অন্তর বাজাও’। এ ছাড়া সারা দিনব্যাপী মেলায় থাকবে
গান, কবিতা, স্মৃতিচারণ। সারা দিনব্যাপী বকুলতলায় আসবেন রুদ্রের সহযোদ্ধা,
বন্ধুরা। রুদ্রের মৃত্যুর পর ১৯৯২ সালে এই বকুল তলাতেই এই মেলা শুরু হয়।
সেই মেলার উদ্বোধন করেছিলেন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান। ১৯৯৮ সাল
পর্যন্ত মেলা চলার পর মাঝে বেশ কয়েক বছর বন্ধ ছিল এই আয়োজন। এর আগে শেষবার
মেলায় আয়োজন করা হয় ২০১০ সালে। রুদ্রের সহচর ও বন্ধু নিশাত খানের
সভাপতিত্বে রুদ্রমেলার উদ্বোধন করেন সাংবাদিক আবেদ খান। এতে প্রধান অতিথি
ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। উদ্বোধনের সময়
আবেদ খান বলেন, ‘প্রথা না ভাঙলে নতুন কিছু সৃজন করা যায় না, বিপ্লব হয় না।
এখন নতুন প্রজন্মের রুদ্রদের জন্ম হচ্ছে, তারাও প্রত্যাখ্যান করতে শিখছে।’
গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘মানুষ, দেশ, মুক্তিযুদ্ধ, প্রেম ছিল তাঁর জীবনের এক
অভিন্ন বিষয়। এখনকার তরুণদেরও রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি
দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। দেশ, সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ হতে হলে ভোগবাদী
জীবন ত্যাগ করতে হবে।’ অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন
রুদ্রের ছোট ভাই সুবীর ওবায়েদ, বন্ধু শেখর বরণ, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের
সাধারণ সম্পাদক আহকাম উল্লাহ। অনুষ্ঠানে শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন রুদ্র
সংসদের সংগঠক ফয়জুল আলম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রুদ্র সংসদের
সাধারণ সম্পাদক কামাল পাশা চৌধুরী। উদ্বোধনের পর অনুষ্ঠানের প্রথম অংশে
গান পরিবেশন করে সত্যেন সেন শিল্পী গোষ্ঠী। তাঁরা গেয়ে শোনায় ‘আবার জমবে
মেলা’, ‘বৈশাখ মাসে আইসো বন্ধু’, ‘জনতার সংগ্রাম চলবেই’ গানগুলো। একক
আবৃত্তি করেন নাজমুল আহসান, দলীয় আবৃত্তি করে প্রকাশ সাহিত্য সাংস্কৃতিক
সংগঠন। এ ছাড়া আরও আবৃত্তি করেন তামান্না তিনি, ঝর্ণা মণ্ডল, জালাল উদ্দিন
হীরা, শ্রাবণী গুহ রায়, জি এম মোর্শেদ। সংগঠনগুলো মধ্যে ছিল প্রজন্ম
কণ্ঠ, সংবৃতা, চারুকণ্ঠ আবৃত্তি সংসদ, ত্রিলোক ও স্বরচিত্র।

No comments:
Post a Comment