Saturday, April 2, 2016

এবার প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৭ শতাংশ

চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। এমন পূর্বাভাস দিয়েছে দাতা প্রতিষ্ঠান এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বা এডিবি। যদিও এ অর্থবছরে সরকার ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি ও হালনাগাদ তথ্য পর্যালোচনা করে এডিবি গতকাল বুধবার ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক-২০১৬’ শীর্ষক যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে এ পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়েছে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে সংস্থাটি বাংলাদেশের অর্থনীতির হালনাগাদ যে প্রতিবেদন দিয়েছিল, তাতেও চলতি অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণ করা হয়েছিল ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। এখন এসেও সংস্থাটি একই প্রক্ষেপণ করছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে গতকাল দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে এডিবির পক্ষ থেকে আউটলুকটি প্রকাশ করা হয়। এ সময় বাংলাদেশের অর্থনীতির বিভিন্ন দিক ও খাতভিত্তিক অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথে কিছু বাধা বা চ্যালেঞ্জও তুলে ধরা হয়। এডিবি বলছে, প্রবৃদ্ধির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে হলে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের সক্রিয় পরিবেশ দরকার। এ ছাড়া নতুন মূসক বা ভ্যাট আইন কার্যকর, ভূমি রেকর্ড ও ভূমির হাতবদল ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন, রপ্তানির বাধা দূর, তেল ও বিদ্যুতের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা শক্তিশালী করার দিকে অধিক মনোযোগী হতে হবে বলেও মনে করে সংস্থাটি। অর্থনীতির উন্নয়নের স্বার্থে মধ্যমেয়াদি করণীয় হিসেবেও বেশ কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেছে এডিবি। সংস্থাটি বলছে, মধ্য মেয়াদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি বাণিজ্য অবকাঠামো ঘাটতি দূর করতে হবে। এডিবির পক্ষে গতকাল আউটলুকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সংস্থাটির বাংলাদেশ মিশনের টিম লিডার (দলপ্রধান) মোহাম্মদ পারভেজ ইমদাদ। স্বাগত বক্তব্য দেন এডিবির বাংলাদেশ প্রধান বা কান্ট্রি ডিরেক্টর কাজুহিকো হিগুচি। কাজুহিকো হিগুচি তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, স্বল্প মেয়াদে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রায় সবগুলো সূচক ইতিবাচক রয়েছে। উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা সমুন্নত রেখেছে তৈরি পোশাক রপ্তানি ও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার চাহিদা। ব্যবসার পরিবেশের উন্নতি, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) অগ্রগতি এবং সরকারের প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতা বাড়ায় অভ্যন্তরীণ বাজার চাহিদায়ও যথেষ্ট গতি সঞ্চার হয়েছে। চলতি অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরেরও প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণ করেছে এডিবি। সংস্থাটির মতে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়াবে ৬ দশমিক ৯ শতাংশে। প্রবৃদ্ধির এই গতি ধরে রাখতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা লাগবে। কারণ অভ্যন্তরীণ শান্ত রাজনৈতিক পরিবেশ ভোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করে। প্রবৃদ্ধি বাড়ার পাশাপাশি চলতি অর্থবছর শেষে মূল্যস্ফীতি আরও কমে আসবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি। সংস্থাটির প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, চলতি অর্থবছর শেষে মূল্যস্ফীতি নেমে আসবে ৬ দশমিক ২ শতাংশে। গত অর্থবছর শেষে মূল্যস্ফীতি ছিল ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও ভোগ্যপণ্যের দাম কম থাকায় মূল্যস্ফীতি আরও কমবে বলে মনে করছে এডিবি। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাটি তাদের পূর্বাভাসে আরও বলেছে, চলতি অর্থবছর শেষে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হবে ৮ শতাংশ। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা আরও বেড়ে দাঁড়াবে ৯ শতাংশে। এই সময়ের মধ্যে ইউরো অঞ্চল ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে, যা বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে বড় সহায়ক হবে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসাব অনুযায়ী, গত ২০১৪-১৫ অর্থবছর শেষে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছর শেষে যদি ৮ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়, তাহলে তা হবে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে সাড়ে ৪ শতাংশ বা দ্বিগুণেরও বেশি। রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের মজুরি, নিরাপত্তা ও শ্রমিক অধিকারের বিষয়ে উন্নতি হয়েছে। বড় বড় ক্রেতার চাহিদার ভিত্তিতে পোশাকশিল্প খাতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ক্রেতাদের আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে, যা রপ্তানি বাড়াতে সহায়তা করবে। এদিকে, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে প্রবাসী-আয় কমলেও বছর শেষে প্রবাসী-আয়ে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলেও মনে করছে এডিবি। আর আগামী অর্থবছর তা বেড়ে দাঁড়াবে ৭ শতাংশে।

No comments:

Post a Comment