Tuesday, April 26, 2016

‘বিপজ্জনক রকম’ অতিরিক্ত ক্ষমতা কাটছাঁট করুন

রাদ আল হুসেন
থাইল্যান্ডের সামরিক শাসকদের সমালোচনা করলেন জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক হাইকমিশনার জায়েদ রাদ আল হুসেন। বেশ কিছুদিন ধরে অস্থিতিশীল দেশটির ক্ষমতা দখলকারী সেনাবাহিনীকে ‘বিপজ্জনক রকম অতিরিক্ত ক্ষমতা’ কিছুটা ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। জায়েদ রাদ গত শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে থাইল্যান্ডের বেসামরিক প্রশাসনকে কুক্ষিগত করা এবং ভিন্নমতের বিরুদ্ধে কঠোর আচরণের জন্যও সেনাবাহিনীর সমালোচনা করেন। থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী তাদের তৈরি খসড়া সংবিধানের বিষয়ে একটি গণভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের তরফে এই বিবৃতি এল। আগামী ৭ আগস্ট অনুষ্ঠেয় ওই গণভোটের বিরুদ্ধে কোনো রকম প্রচারণাকেও নিষিদ্ধ করেছে সেনাবাহিনী। দেশটির দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যে এই খসড়া সংবিধানকে প্রত্যাখ্যান করেছে। থাইল্যান্ডের প্রস্তাবিত সংবিধান নিয়ে জায়েদ রাদ বলেন, খসড়া সংবিধান নিয়ে মুক্ত এবং খোলামেলা বিতর্ক দেশের জাতীয় একতা সুসংহত করতে সহায়তা করবে। বিতর্ক হলে এর বৈধতা আরও বৃদ্ধি পাবে। মানুষ এর সঙ্গে একাত্ম হবে। ইতিমধ্যে এই সংবিধান নিয়ে কথা বলায় থাইল্যান্ডে অনেক মানুষকে নির্বিচারে গ্রেপ্তার বা হেনস্তা করা হয়েছে বলে মানবাধিকার-বিষয়ক হাইকমিশনার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন। ২০১৪ সালের মে মাসে থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে। এরপর থেকে সেনাবাহিনী বিরুদ্ধ মতকে ক্রমবর্ধমানভাবে প্রবল চাপের মধ্যে রাখছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ক্ষমতা দখলের পক্ষে সাফাই গেয়ে বারবারই বলা হচ্ছে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার অব্যাহত সংঘাত বন্ধ করতে এবং দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থেই তারা ক্ষমতা নিতে বাধ্য হয়েছে। গত মার্চ মাসে খসড়া সংবিধানটি প্রকাশ করা হয়। এতে রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর প্রবেশের পথ সুগম করা হয়েছে। প্রস্তাবিত সংবিধানে থাইল্যান্ডের সিনেটে সদস্য নিয়োগে সেনাবাহিনীকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সংবিধানে সেনা সদস্যদের লোকজনকে নির্বিচার আটকের ক্ষমতাকেও বৈধতা দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী প্রাভিত অংশুবান প্রস্তাবিত গণভোটের বিরুদ্ধে কোনো প্রচারণার বিষয়ে সরকারের কঠোর মনোভাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আপনি এ গণভোট পছন্দ করুন বা না-ই করুন, তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা যাবে না।’ জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক হাইকমিশনার বিবৃতিতে বলেন, সেনাবাহিনীর ক্ষমতা বৃদ্ধি করা থাইল্যান্ডের গণতন্ত্রের পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার চিহ্ন হতে পারে না। দেশটিতে অত্যন্ত সুদক্ষ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আইনের শাসন নিশ্চিত করতে এসব প্রতিষ্ঠানই যথেষ্ট।

No comments:

Post a Comment