![]() |
| পুরান ঢাকার আরমানিটোলা মাঠ সংস্কারে নিষেধাজ্ঞা থাকায় মাঠের চারপাশে লাগানো গাছগুলোর যত্ন নিতে পারছে না আরমানিটোলা সমাজকল্যাণ সংসদ৷ ফলে মাঠের প্রায় ৪০টি গাছ মরে গেছে৷ |
স্যার
সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের নিষেধাজ্ঞায় আরমানিটোলা খেলার মাঠের সংস্কারকাজ
চার মাস ধরে বন্ধ। এ কারণে মাঠের চারপাশে লাগানো মেহগনিগাছগুলোর যত্ন
নেওয়াও বন্ধ। ফলে ইতিমধ্যে প্রায় ৪০টি চারা গাছ মারা গেছে। অথচ মেডিকেল
কলেজ কর্তৃপক্ষও মাঠটির সংস্কার করছে না। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের
মালিকানাধীন এই খেলার মাঠ। দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় থাকা মাঠটি
সংস্কার করেছিল আরমানিটোলা সমাজকল্যাণ সংসদ এবং গাছগুলো লাগিয়েছিল। গত ১০
মার্চ ‘আরমানিটোলা মাঠের সংস্কারকাজ বন্ধ’ শিরোনামে প্রথম আলোয় একটি
প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। গতকাল বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, খেলার মাঠের
চারপাশে নতুন সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। উত্তর-পূর্ব ও
পশ্চিম-দক্ষিণ পাশে নতুন করে লাগানো হয়েছে দুটি লোহার ফটক৷ মাঠের চারপাশে
আছে প্রায় ১৫০টি মেহগনিগাছ, মরা গাছ আছে প্রায় ৪০টি। মাঠে খেলাধুলা করছে
মহল্লার শিশু-কিশোরেরা। মাঠের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে আগের মতোই পড়ে আছে দুটি
গোলবার৷ পশ্চিম পাশের ফটকে একটি নোটিশ টাঙিয়ে রেখেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। তাতে
লেখা ‘মাঠে কোনো প্রকার স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা হইতে বিরত থাকার অনুরোধ
জানানো হলো’। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের নজরদারির
বাইরে থাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাঠটি অরক্ষিত হয়ে পড়ে ছিল। ফলে পুরো মাঠে ছিল
ময়লা-আবর্জনা। দিনের বেলাতেও চলত মাদক সেবন। রাতে হতো অসামাজিক কার্যকলাপ।
পরে গত বছরের অক্টোবর মাসে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়ে
সংস্কার শুরু করেছিল আরমানিটোলা সমাজকল্যাণ সংসদ। তারা মাঠের আবর্জনা সরিয়ে
মাটি ফেলে মাঠটি সংস্কার করে। চারপাশে ১ হাজার ১০০ ফুট সীমানাপ্রাচীর
নির্মাণ, হাঁটার জন্য ৮০০ ফুট পথ, ২০০টি মেহগনিগাছ ও ৪৪টি বাতি লাগানো হয়।
সংস্কার চলাকালে মাঠের ভেতর একটি কাঁচা ঘরে অস্থায়ীভাবে বসবাস করা কলেজের
এক নারী কর্মচারীকে উচ্ছেদ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা৷ এ নিয়ে স্থানীয়দের
সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষের মতবিরোধ দেখা দেয়। পরে সংস্কার পুরো শেষ না হতেই
কাজ বন্ধ রাখতে নোটিশ দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। আরমানিটোলা সমাজকল্যাণ সংসদের
সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের মৌখিক
অনুমতি নিয়ে স্থানীয় সহযোগিতায় মাঠটি সংস্কার শুরু করা হয়েছিল। এ কাজে
ইতিমধ্যে প্রায় ৩০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আরও প্রায় ২৫০ ফুট হাঁটার পথ
নির্মাণ বাকি আছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ নিষেধ করায় তা সম্পন্ন করা যাচ্ছে না।
গোল বার দুটি বসাতে না পারায় মহল্লার ছেলেরা ফুটবল খেলতে পারছে না৷ গাছের
যত্নও নেওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, মাঠের কর্তৃত্ব নেওয়ার কোনো ইচ্ছা
তাঁদের নেই। তাঁরা চান, মাঠটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হোক। জানতে চাইলে
গতকাল রাতে মুঠোফোনে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ বিল্লাল আলম
ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে এ বিষয়ে কথা বলেননি। তবে গত ৬ মার্চ তিনি প্রথম
আলোকে বলেছিলেন, সরকারি সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের কর্তৃত্ব
কোনোভাবেই সরকার ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের নেওয়ার সুযোগ নেই। মন্ত্রণালয় অর্থ
বরাদ্দ দিলে মাঠ সংস্কার করা হবে।

No comments:
Post a Comment