Thursday, April 28, 2016

সাগরে পরমাণুকেন্দ্র ভাসাবে চীন?

দক্ষিণ চীন সাগরের ৯০ ভাগ নিজের বলে দাবি করে বেশ আগে থেকেই আঞ্চলিক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে চীন। বিতর্কিত কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণ করে সে উত্তেজনাকে আরও উসকে দিয়েছে দেশটি। এবার পরিস্থিতি আরও জটিল করতেই হয়তো সাগরে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র ভাসানোর পরিকল্পনা করছে শি জিনপিং সরকার। সাগরপথে বিশ্বে যে পরিমাণ পণ্য পরিবহন হয়, তার এক-তৃতীয়াংশ হয় ৩৫ লাখ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দক্ষিণ চীন সাগরের ওপর দিয়ে। যার আর্থিক পরিমাণ বছরে সাড়ে তিন ট্রিলিয়ন ডলার। সেই সঙ্গে এর গর্ভে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তীরবর্তী ব্রুনেই, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, তাইওয়ান ও ভিয়েতনামের দাবি উপেক্ষা করে সাগরটির প্রায় পুরো অংশই নিজের বলে দাবি করে চীন। আর এ ইস্যুতে ‘বঞ্চিত’ দেশগুলোর পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও ভারতের অবস্থান বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অনেক সামরিক বিশেষজ্ঞ তো মনে করেন, দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুতেই একসময় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা ঘটবে। চীনের তৈরি কৃত্রিম দ্বীপের আশপাশে কয়েক দফায় যুদ্ধজাহাজ ও ড্রোন পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে বুঝিয়ে দিয়েছে, ইস্যুটি কোনোমতেই আঞ্চলিক নয়। তবে সব চোখ রাঙানি আর আশঙ্কাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সাগরে নিজের কর্তৃত্ব সুসংহত করতে চীন একপ্রকার গায়ের জোরেই দ্বীপটি নির্মাণ করেছে বা করছে বলে বিরোধীদের দাবি। এ ক্ষেত্রে অবশ্য সব কটি পক্ষকে আশ্বস্ত করতে বেইজিং বরাবরই বলে আসছে, সাগরে চলাচলকারী জাহাজগুলোর গতি আর দিক ঠিক রাখতেই কৃত্রিম দ্বীপটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে একটি বাতিঘর থাকবে, যা এ রুটে নৌযানগুলোকে পথ দেখাবে। তবে চীনের সরকারি সংবাদপত্র দ্য গ্লোবাল টাইমস-এর প্রতিবেদন ভিন্ন কথাই জানাচ্ছে। এর খবরে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ চীন সাগরে একটি পরমাণুকেন্দ্র ভাসানোর পরিকল্পনা করছে বেইজিং। কৃত্রিম দ্বীপে নিরবচ্ছিন্ন শক্তির জোগান দিতেই এ পরিকল্পনা। সরকার নিয়ন্ত্রিত চীনা শিপ বিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন এ ভাসমান বিদ্যুৎকেন্দ্রটি তৈরি করবে। গত জানুয়ারিতে চীনের পরমাণু নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান শু দাজহে জানিয়েছেন, ভাসমান বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাটি এখনো চিন্তাভাবনার মধ্যেই রয়েছে। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বাতিঘর নির্মাণে এত কর্মযজ্ঞ কিছুতেই মানানসই নয়। তার ওপর গত জানুয়ারিতে চীনের দুটি সরকারি জ্বালানি উৎপাদক সংস্থার মধ্যে সাগরে তেল ও গ্যাস উৎপাদন বিষয়ে চুক্তি হয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে। এসব খবরের অর্থ, কৃত্রিম দ্বীপটিকে ঘিরে আরও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে চীনের। হয়তো সেখানে বসানো হচ্ছে সামরিক স্থাপনা। এ ছাড়া বিমানবন্দর ও নৌবন্দর থাকার সম্ভাবনাও কম নয়। তবে সব ছাপিয়ে এখন ভাসমান পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সফলতা নিয়েই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

No comments:

Post a Comment