Wednesday, April 6, 2016

‘বালিকা বধূ’ প্রত্যুষাকে আত্মহত্যার প্ররোচনায় প্রেমিক আটক

প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাহুল রাজ সিং।
প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়
ভারতীয় টেলিভিশনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘বালিকা বধূ’র পরিচিত মুখ বাঙালি অভিনেত্রী প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে তাঁর প্রেমিক অভিনেতা-প্রযোজক রাহুল রাজ সিংকে আটক করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার এনডিটিভি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে রাহুল রাজ শারীরিক অসুস্থতার জন্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক খবরে বলা হয়েছে, প্রত্যুষার মা সোমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের ভিত্তিতেই বাঙ্গুর নগর থানার পুলিশ রাহুলকে আটক করে। তবে এই মুহূর্তে রাহুল হাতপাতালে চিকিৎসাধীন। এখন তিনি পুলিশ পাহারায়। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হবে। রাহুল রাজের আইনজীবী নীরাজ গুপ্ত বলেন, গত রোববার বুকের ব্যথা ও নিম্ন রক্তচাপের কারণে রাহুলকে কান্দিভালির শ্রী সাই হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। এখন তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা এই মুহূর্তে ভালো নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাহুল ও প্রত্যুষার কয়েকজন বন্ধু জানিয়েছেন, তাঁরা ১৪ এপ্রিল বিয়ে করার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। গতকাল সোমবার প্রত্যুষার বন্ধু কাম্য পাঞ্জাবি ও বিকাশ গুপ্ত মুম্বাইতে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা জানান, প্রত্যুষা ও রাহুলের সম্পর্কের মধ্যে অনেক ঝামেলা ছিল। তাঁদের অভিযোগ, প্রত্যুষা বিশ্বাস করত যে, রাহুল তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং জনসমক্ষে রাহুল তাঁকে চড় মেরেছে। এ ছাড়া রাহুলের সাবেক প্রেমিকা সালোনি শর্মাও প্রত্যুষাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন।  পুলিশ প্রত্যুষা ও রাহুলের বন্ধুদের সঙ্গে এ বিষয়ে জানতে চাইবে। মুম্বাইয়ের আইনজীবী ফাল্গুনী ব্রাহ্মভাট বলেন, প্রত্যুষার ১০ জন সহকর্মী বন্ধু পুলিশের তদন্তে সহায়তা করতে চায়। তিনি বলেন, ‘গতকাল আমি বাঙ্গুর নগর থানায় ১০ জনের নাম দিয়েছি। আজ তাঁদের বক্তব্য জানানোর কথা। এই ১০ জনের নাম এই মুহূর্তে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’  এর আগে রাহুল রাজ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছিলেন, ২০১৫ সালের নভেম্বর মাস থেকে তিনি প্রত্যুষার সঙ্গে অভিসারে যান। তিনি তাঁকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। তিনি এখনো বিশ্বাস করেন, প্রত্যুষা তাঁর স্ত্রী। যদি তিনি শুক্রবার বাসা থেকে বাইরে না যেতেন তাহলে হয়তো প্রত্যুষা বেঁচে যেত। তবে রাহুলের পরিবারের দাবি, প্রত্যুষা চরম আর্থিক সংকটে ছিলেন। তাঁর আত্মহত্যার পেছনে এটা একটা কারণ হতে পারে। গত শুক্রবার মুম্বাইয়ের বাড়ি থেকে প্রত্যুষার গলায় ফাঁস দেওয়া ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান করেছিল, প্রত্যুষা আত্মহত্যা করেছেন। পরে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানানো হয়, শ্বাসরোধে প্রত্যুষার মৃত্যু হয়েছে। প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর তোলপাড় শুরু হয়েছে বলিউডে। বালিকা বধূর ‘আনন্দী’ কি আত্মঘাতী হলেন? নাকি তাঁকে পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে? কলকাতার জামশেদপুরের মেয়ে প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায় বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনীত শেষ সম্প্রচারিত ধারাবাহিক ‘শ্বশুরাল সিমার কি’। রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস ৭’-এ দেখা গেছে তাঁকে।

No comments:

Post a Comment