Monday, April 18, 2016

করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধির প্রস্তাব

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেমিনার কক্ষে গতকাল অনুষ্ঠিত
প্রাক্–বাজেট আলোচনায় সংস্থাটির চেয়ারম্যান নজিবুর
রহমানসহ বিভিন্ন চেম্বারের নেতারা
ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)। গতকাল রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে পৃথক তিনটি প্রাক্-বাজেট আলোচনায় এ তিনটি সংগঠন এ প্রস্তাব করেছে। এমসিসিআই ও বিসিআই বর্তমান আড়াই লাখ টাকার করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে তিন লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করেছে। আর ডিসিসিআইয়ের প্রস্তাব হলো সাড়ে তিন লাখ টাকা। এনবিআরের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআরের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। এমসিসিআইয়ের নির্বাহী কমিটির সদস্য আদিব এইচ খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল আলোচনায় অংশ নেয়। ডিসিসিআইয়ের সভাপতি হোসেন খালেদ ও বিসিআইয়ের সহসভাপতি শামসুর রহমান নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। এনবিআরের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান জানান, এসব ব্যবসায়ী সংগঠনের বাজেট প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রস্তাবগুলোর নির্যাস অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। বিসিআইয়ের সঙ্গে আলোচনায় এনবিআরের চেয়ারম্যান বলেন, ‘নববর্ষের হালখাতার মতো আমিও মাঠপর্যায়ে কার্যালয়গুলোকে হালখাতা তৈরির নির্দেশ দিয়েছি। কোন প্রতিষ্ঠানের কাছে কত বকেয়া রয়েছে, তা হিসাবের পাশাপাশি আদায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এমসিসিআই: এমসিসিআইয়ের বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সব নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে জীবন ধারণের ব্যয় বিপুল পরিমাণে বেড়েছে। এতে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ জন্য করমুক্ত সীমা তিন লাখ টাকায় উন্নীত করা প্রয়োজন। এ ছাড়া ব্যক্তিশ্রেণির সর্বোচ্চ কর হার ৩০ শতাংশের পরিবর্তে ২৫ শতাংশে নামানোর প্রস্তাব করেছে এমসিসিআই। এমসিসিআই বলছে, এতে করদাতারা প্রকৃত আয় প্রকাশে উৎসাহিত হবেন। সম্পদের ভিত্তিতে সারচার্জ আরোপের ন্যূনতম সীমা তিন কোটি টাকা পর্যন্ত করার সুপারিশ করেছে এমসিসিআই। এমসিসিআইয়ের প্রস্তাব হলো, ৩-৫ কোটি টাকা, ৫-১০ কোটি টাকা, ১০-২০ কোটি টাকা, ২০-৩০ কোটি টাকা এবং ৩০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকলে যথাক্রমে করের ৫ শতাংশ, সাড়ে ৭ শতাংশ, ১০ শতাংশ, সাড়ে ১২ শতাংশ এবং ১৫ শতাংশ সারচার্জ আরোপ। এ ছাড়া রপ্তানিমুখী বস্ত্রশিল্পের ১০ শতাংশ হ্রাসকৃত কর হার পুনঃপ্রবর্তনের প্রস্তাব করেছে এমসিসিআই। নতুন আইন অনুযায়ী, মূল্য সংযোজন করের (মূসক) একক হার সমর্থন করেছে এমসিসিআই। আগামী জুলাই মাস থেকে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া নতুন আইনে ১৫ শতাংশ মূসক আরোপ করা হয়েছে। তবে প্রস্তাবিত মূসক বিধিমালা চূড়ান্ত হওয়ার পর তা বাস্তবায়নের জন্য ছয় মাস সময় দেওয়ার প্রস্তাব করেছে এমসিসিআই। ডিসিসিআই: ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকায় উন্নীত করার পাশাপাশি এলাকাভেদে ন্যূনতম কর ৩ হাজার, ২ হাজার এবং ১ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে ডিসিসিআই। এ ছাড়া মার্চেন্ট ব্যাংকের করপোরেট কর সাড়ে ৩৭ শতাংশের পরিবর্তে ৩৫ শতাংশ এবং ব্রোকারেজ হাউসের কর হার ৩৫ থেকে কমিয়ে ৩০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ডিসিসিআই আরও বলছে, বর্তমানে দেশে তিন কোটি লোক করযোগ্য আয়সীমার মধ্যে থাকলেও মাত্র ১১ লাখ লোক নিয়মিত কর দেন। তাই যুক্তিসংগতভাবে কর হার বৃদ্ধির পাশাপাশি করদাতার আওতা বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে ডিসিসিআই। অন্যদিকে প্যাকেজ মূসক প্রথা ২০২১ সাল পর্যন্ত অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করেছে ডিসিসিআই। তবে বিদ্যমান প্যাকেজ মূসকের পরিমাণ প্রতিবছর ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধির প্রস্তাবও রয়েছে। এ ছাড়া এক কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভারে ২ শতাংশ হারে টার্নওভার কর আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। নতুন মূসক আইনে ৩ শতাংশ হারে টার্নওভার কর আরোপের কথা রয়েছে। বিসিআই: শুধু শিল্প খাতে অপ্রদর্শিত টাকা বিনিয়োগের সুযোগ থাকা উচিত বলে মনে করে বিসিআই। বিসিআইয়ের মতে, জমি কেনায় কালোটাকা ব্যবহার করা হলে জমির দাম বাড়বে, শিল্পায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। তবে একক হারে মূসক আরোপের বিরোধিতা করে আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ, মধ্যবর্তী পর্যায়ে ১২ শতাংশ এবং উৎপাদন পর্যায়ে ১০ শতাংশ মূসক আরোপের সুপারিশ করেছে বিসিআই। শুল্কহার পুনর্বিন্যাস করে আমদানি পর্যায়ে তৈরি ও বিলাস পণ্যে ২৫ শতাংশ; দেশে উৎপাদিত মধ্যবর্তী কাঁচামাল ও অতিপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যে ১০ শতাংশ; উৎপাদনে অপরিহার্য কিন্তু দেশে উৎপাদিত হয় না এমন পণ্যে ২ শতাংশ, রপ্তানিমুখী শিল্পের মূলধনি যন্ত্রপাতিতে শূন্য শুল্কহার আরোপে প্রস্তাব করা হয়েছে।

No comments:

Post a Comment