একবারে
নয়, তিন ধাপে জ্বালানি তেলের দাম কমাতে চায় সরকার। এই তিন ধাপে সময় নেওয়া
হতে পারে ছয় মাস পর্যন্ত। আর তিন ধাপ মিলিয়ে জ্বালানি তেলের (অকটেন, পেট্রল
ও ডিজেল) দাম কমতে পারে লিটারপ্রতি ২০ টাকার মতো। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও
খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এ খবর জানা গেছে। সূত্র জানায়, গত রোববার
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এভাবেই জ্বালানি তেলের দাম
কমানোর পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে। জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ
সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ গতকাল সোমবার তাঁর সচিবালয়ের কার্যালয়ে
বসে প্রথম আলোকে বলেন, তিন ধাপের মধ্যে প্রথম ধাপে দাম কমানোর ঘোষণা
দেওয়া হতে পারে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে। এরপর সড়ক ও নৌপরিবহন মালিকসহ
সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ধাপগুলোতে দাম কমানোর পদক্ষেপ
নেওয়া হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে ২০১৪ সালের
জুন থেকে। কিন্তু দেশে এখন পর্যন্ত দাম না কমানোয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম
করপোরেশন (বিপিসি) বিপুল অর্থ মুনাফা করেছে। এই অর্থ দিয়ে সব দায়দেনা
পরিশোধ করেও বিপিসির হাতে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা জমা হয়েছে বলে
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়। এই প্রেক্ষাপটে সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের
দাম ‘যৌক্তিক’ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে ফার্নেস
তেলের দাম কমিয়ে প্রতি লিটার ৬০ টাকার স্থলে ৪২ টাকা করা হয়। দেশে সর্বশেষ
২০১৩ সালের ৪ জানুয়ারি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়। তখন আন্তর্জাতিক
বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ১২০ ডলার। দেশে তখন দাম
বাড়িয়ে প্রতি লিটার অকটেন ৯৯ টাকা, পেট্রল ৯৬, ডিজেল ও কেরোসিন ৬৮ এবং
ফার্নেস তেল ৬০ টাকা করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান দাম (অপরিশোধিত
প্রতি ব্যারেল বা ১৫৯ লিটার) অনুযায়ী প্রতি লিটার ফার্নেস তেলের দাম এখন ৩০
টাকারও কম। আর দেশে প্রতি লিটার অকটেনের দাম পড়ছে ৫৫ টাকা, পেট্রল ৫০ এবং
ডিজেল ৩৮ টাকার মতো। সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম কমানোর পাশাপাশি
যানবাহনে ব্যবহৃত সিএনজির দাম বাড়ানোরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সিএনজির
দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্য জ্বালানি তেল ও সিএনজির দামের মধ্যে পার্থক্য আরও
কমিয়ে আনা, যাতে গ্রাহকেরা যানবাহনে সিএনজি ব্যবহারে আগ্রহ হারান এবং
আর্থিকভাবেও কারও কাছে বিষয়টি আকর্ষণীয় না থাকে। মন্ত্রণালয় সূত্র বলেন,
সিএনজির দাম ইউনিট প্রতি অন্তত পাঁচ টাকা বাড়ানো হতে পারে। তবে সিএনজির
দাম বাড়ানোর বিষয়টি প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বাড়ানোর সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং
এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) আওতাধীন হওয়ায় প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন
করতে কিছুটা সময় লাগবে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment