রাজধানীর
যাত্রাবাড়ীতে দনিয়া কলেজ। অর্নাস মাস্টার্স পর্যন্ত পড়ালেখা হয় সেখানে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাপমাত্র নেই। তাতে কী সাইনবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন, এমনকি
পত্রিকার বিজ্ঞাপনে দেদারসে ব্যবহার করছে দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। জাতীয়
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও কলেজের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শব্দটি
ব্যবহার করে যাচ্ছে কতিপয় কলেজ। শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এসব
প্রতারণার চালাচ্ছেন তারা। অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গত বছর নভেম্বর মাসে এক
প্রজ্ঞাপনে কলেজের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় যোগ করতে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
এতে বলা হয়, কোনো কলেজ যদি বিশ্ববিদ্যালয় শব্দ ব্যবহার করে তাহলে সংশোধিত
রেগুলেশন-২০১৫ এর ২৫ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এতে ওই কলেজের নানা
শাস্তির পাশাপাশি পাঠদানের স্বীকৃতি পর্যন্ত বাতিল হতে পারে। এ ব্যাপারে
দনিয়া কলেজের অধ্যক্ষ শাহাদাত হোসেন রানা মানবজমিনকে বলেন, হ্যাঁ এটি
সত্যি, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় শব্দটি ব্যবহার করি। তবে সেটি কোনো বিজ্ঞাপন বা
অফিসিয়াল কাগজ- কলমে নয়। শুধু ব্যানার, সাইনবোর্ড ইত্যাদি। জাতীয়
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিষেধাজ্ঞার পরও কেন করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, জাতীয়
বিশ্ববিদ্যালয় তো আমাদের বেতন দেয় না। আমাদের বেতন নিজেদের যোগাড় করতে হয়।
ছাত্র না থাকলে প্রতিষ্ঠান চলবে কী করে। তাই ছাত্র ও অভিভাবকদের দৃষ্টিগোচর
করতে আমরা এই শব্দটি ব্যবহার করে থাকি। এটা তো দোষের কিছু নয়। আর এটাকে
প্রতারণা বলা যাবে না।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সনদ পেলে তাতে সঠিকভাবে লেখা থাকছে কেবল কলেজ শব্দটি। কোথাও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থাকছে না। মূলত রাজধানীসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি কলেজগুলো বাণিজ্যিক উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ লিখছে বেশি। এতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি কলেজগুলোতে ভর্তি হতে না পেরে শিক্ষার্থীরা এসব বিশ্ববিদ্যালয় নামধারী কলেজে ভর্তি হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫ মাস পার হলেও একটি কলেজকে শাস্তি দূরের থাক, একটি শোকজ পর্যন্ত দেয়নি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। প্রজ্ঞাপন দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আর এই সুযোগে নাম ব্যবহার করে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে কিছু কলেজ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ পরির্দশক শামসুদ্দিন ইলিয়াসকে একাধিকবার ফোন করে পাওয়া যায়নি। একই শাখার একজন সহকারী কলেজ পরিদর্শক মানবজমিনকে বলেন, সারা দেশে এতো কলেজ মনিটরিং করার জন্য জনবল আমাদের নেই। তারপর একাধিক কলেজের সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত থাকেন। এজন্য অনেক সময় অ্যাকশন নেয়া সম্ভব হয়নি। উপ-কলেজ পরিদর্শক সোলায়মান শিকদার এই বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, কলেজ পরিদর্শন শাখার কর্মকর্তা নানা দুর্নীতি জড়িত। বিভিন্ন সময় কলেজ পরিদর্শন করতে গিয়ে নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ আছে। তারা মূলত এসব কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় শব্দ যোগ করতে উৎসাহিত করেন।
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, কোনো কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শব্দটি আইনি জায়গা থেকে হউক আর নৈতিক জায়গা থেকে হউক ব্যবহার করতে পারে না। তারপর অনেক কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শব্দটি ব্যবহার করছে। যা আমাদের নজরে এসেছে। অনেকেই আদেশ অনুসারে কাজ করছেন না। দ্রুত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাগিদ দেয়া হবে বিষয়টি কার্যকর করার জন্য।
জানা গেছে, অনার্স ও মাস্টার্স পড়ানো হয় রাজধানীর এমন সরকারি কলেজগুলোর সরকারি কাগজপত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ না লেখা হলেও কলেজ গেটে, ছাত্রাবাসগুলোতে বা শিক্ষার্থীদের পরিবহনে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ লেখা থাকে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর আবুজর গিফারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, শেখ বোরহানউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, হাবীবুল্লাহ বাহার ইউনিভার্সিটি কলেজ, ড. মালিকা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, মির্জা আব্বাস মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, খিলগাঁও মডেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, তেজগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, মোহাম্মদপুর মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ধানমন্ডি নিউ মডেল বিশ্ববিদ্যালয় (ডিগ্রি) কলেজ, শহীদ জিয়া মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, উত্তরা টাউন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সনদ পেলে তাতে সঠিকভাবে লেখা থাকছে কেবল কলেজ শব্দটি। কোথাও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থাকছে না। মূলত রাজধানীসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি কলেজগুলো বাণিজ্যিক উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ লিখছে বেশি। এতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি কলেজগুলোতে ভর্তি হতে না পেরে শিক্ষার্থীরা এসব বিশ্ববিদ্যালয় নামধারী কলেজে ভর্তি হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫ মাস পার হলেও একটি কলেজকে শাস্তি দূরের থাক, একটি শোকজ পর্যন্ত দেয়নি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। প্রজ্ঞাপন দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আর এই সুযোগে নাম ব্যবহার করে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে কিছু কলেজ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ পরির্দশক শামসুদ্দিন ইলিয়াসকে একাধিকবার ফোন করে পাওয়া যায়নি। একই শাখার একজন সহকারী কলেজ পরিদর্শক মানবজমিনকে বলেন, সারা দেশে এতো কলেজ মনিটরিং করার জন্য জনবল আমাদের নেই। তারপর একাধিক কলেজের সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত থাকেন। এজন্য অনেক সময় অ্যাকশন নেয়া সম্ভব হয়নি। উপ-কলেজ পরিদর্শক সোলায়মান শিকদার এই বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, কলেজ পরিদর্শন শাখার কর্মকর্তা নানা দুর্নীতি জড়িত। বিভিন্ন সময় কলেজ পরিদর্শন করতে গিয়ে নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ আছে। তারা মূলত এসব কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় শব্দ যোগ করতে উৎসাহিত করেন।
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, কোনো কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শব্দটি আইনি জায়গা থেকে হউক আর নৈতিক জায়গা থেকে হউক ব্যবহার করতে পারে না। তারপর অনেক কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শব্দটি ব্যবহার করছে। যা আমাদের নজরে এসেছে। অনেকেই আদেশ অনুসারে কাজ করছেন না। দ্রুত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাগিদ দেয়া হবে বিষয়টি কার্যকর করার জন্য।
জানা গেছে, অনার্স ও মাস্টার্স পড়ানো হয় রাজধানীর এমন সরকারি কলেজগুলোর সরকারি কাগজপত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ না লেখা হলেও কলেজ গেটে, ছাত্রাবাসগুলোতে বা শিক্ষার্থীদের পরিবহনে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ লেখা থাকে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর আবুজর গিফারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, শেখ বোরহানউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, হাবীবুল্লাহ বাহার ইউনিভার্সিটি কলেজ, ড. মালিকা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, মির্জা আব্বাস মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, খিলগাঁও মডেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, তেজগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, মোহাম্মদপুর মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ধানমন্ডি নিউ মডেল বিশ্ববিদ্যালয় (ডিগ্রি) কলেজ, শহীদ জিয়া মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, উত্তরা টাউন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান।

No comments:
Post a Comment