![]() |
| সেলিনা হোসেন |
আপনারা
যাঁরা শিশু নির্যাতন, শিশু হত্যায় উন্মত্ত হয়েছেন এই বাংলাদেশে, তাঁরা
নিজেরাই নিজেদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছেন। আপনাদের অমার্জনীয় অপরাধ নিয়ে মুখ
থুবড়ে পড়বে আগামী দিন। আপনারা ঠিকই জানেন, শিশু হত্যা মানে পরবর্তী
প্রজন্মকে বিনষ্ট করা। যাদের এই পৃথিবী থেকে বিদায় করে দিলেন, তাদের স্থান
শূন্য হয়ে গেল। যারা বেঁচে থাকল, তারা অপরাধী চক্রের ছায়ায় অনিশ্চিত
ভবিষ্যতের পথে পা রাখল। আপনারাই বলুন, আপনারা কি মানুষ? মনুষ্যত্বের
অবমাননায় ডুবে যাক এ সমাজ, শুভবোধসম্পন্ন কোনো মানুষেরই তা কাম্য নয়।
আপনাদের মতো এই সব অমানুষের কঠিন শাস্তি চাই। আজকের বাংলাদেশ শাস্তিহীনতার
বাংলাদেশ কখনোই হবে না। কোটি কণ্ঠে আমাদের এই প্রত্যাশার বাণী ধ্বনিত হোক
আমাদের শিশুদের হৃদয়ে, চিন্তায়, মননে এবং নিজেকে তৈরি করার আত্মবিশ্বাসে।
আপনারা হত্যাকারীরা, নির্যাতনকারীরা নিমজ্জিত হন অপরাধের পাঁকে। বিচারের
রায়ে দণ্ডিত হন। রায় কার্যকরের ভেতর দিয়ে নিজেদের পাপ ক্ষয়ের জায়গায় ডুবিয়ে
রাখুন মানবিক বোধহীন শরীর।
যাঁরা খুন করছেন, তাঁদের পড়া নেই অসাধারণ কবি কাহলিল জিবরানের কবিতা। তার চরণ এমন:
‘তোমাদের সন্তানেরা তোমাদের সন্তান নয়’,
তোমরা তাদের দিতে পার তোমাদের ভালোবাসা
কিন্তু তোমাদের ভাবনা নয়
কেননা তাদের রয়েছে তাদের নিজস্ব ভাবনা।
তোমরা তাদের শরীরকে আশ্রয় দিতে পার
বটে কিন্তু আত্মাকে নয়
কেননা তাদের আত্মা থাকে
আগামী দিনের ঘরে।
কবির কণ্ঠে এমনই উচ্চারণ যে এভাবে আজকের শিশু মানবজাতির ভবিষ্যৎ। আপনারা যাঁরা নিষ্ঠুরতায় নিজেদের মগজ ভরে রেখেছেন, যাঁরা অমানুষ আচরণে এমন ঘটনা ঘটাচ্ছেন, তাঁদের আমরা আমাদের সামনে দেখতে চাই না। পাশাপাশি চারপাশের মানুষকে সুস্থ বোধ নিয়ে চারদিকে তাকাতে বলি, যেন এমন অঘটন বারবার না ঘটে। আমাদের চারপাশে সেই সব মানুষ আছে, যাদের বোধের তীক্ষ্ণতায় উচ্চারিত হয় জাগরণের কথা। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘ভিক্ষা দাও। পুরবাসী ভিক্ষা দাও। তোমাদের একটি সোনার ছেলে ভিক্ষা দাও। আমাদের এমন একটি ছেলে দাও, যে বলবে আমি ঘরের নই, আমি পরের। আমি আমার নই, আমি দেশের।’
আমরা হত্যাকারী চাই না, সন্ত্রাসী চাই না। আমরা দেশে সোনার মানুষ চাই। আমরা চাই না বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে ডুবতে থাকুক দেশ।
নারী-পুরুষনির্বিশেষে হত্যাকারীকে জিজ্ঞেস করি, আপনি কাকে খুন করেছেন? আপনার শুভবোধকে? আপনার মানবিক চেতনাকে? মনুষ্যত্ববোধকে? এই অমানুষের সংখ্যা দেশের মাটিতে বাড়তে পারবে না। তাকে দমন করতে হবে।
যাঁরা দমন করার কর্তা, তাঁদের কাছে নিবেদন, আপনারা কঠোর হাতে ব্যবস্থা নিন। আমাদের ভবিষ্যৎ, আমাদের আগামী দিন জয়গানে মুখরিত হোক।
শাস্তিতে দণ্ডিত হোক অপরাধীরা। নিশ্চিহ্ন হোক ওরা। আর একজন মানুষও যেন নিজেদের এমন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করতে সাহস না করে।
আসুন, সমবেত শক্তি নিয়ে শিশুদের পাশে দাঁড়াই আমরা। আমাদের অপারগতায় ওদের অসহায় নির্মম মৃত্যু যেন আমাদের অন্ধ করে দেয়। আমাদের ব্যর্থতা যেন আমাদের কশাঘাত করে। ওদের শাস্তির কাঠগড়া যেন এ দেশের মানুষের সমবেত ধিক্কারে ভূলুণ্ঠিত হয়।
জয় হোক শিশুদের। জয় হোক মানবতার।
কথাসাহিত্যিক এবং চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ শিশু একাডেমী
যাঁরা খুন করছেন, তাঁদের পড়া নেই অসাধারণ কবি কাহলিল জিবরানের কবিতা। তার চরণ এমন:
‘তোমাদের সন্তানেরা তোমাদের সন্তান নয়’,
তোমরা তাদের দিতে পার তোমাদের ভালোবাসা
কিন্তু তোমাদের ভাবনা নয়
কেননা তাদের রয়েছে তাদের নিজস্ব ভাবনা।
তোমরা তাদের শরীরকে আশ্রয় দিতে পার
বটে কিন্তু আত্মাকে নয়
কেননা তাদের আত্মা থাকে
আগামী দিনের ঘরে।
কবির কণ্ঠে এমনই উচ্চারণ যে এভাবে আজকের শিশু মানবজাতির ভবিষ্যৎ। আপনারা যাঁরা নিষ্ঠুরতায় নিজেদের মগজ ভরে রেখেছেন, যাঁরা অমানুষ আচরণে এমন ঘটনা ঘটাচ্ছেন, তাঁদের আমরা আমাদের সামনে দেখতে চাই না। পাশাপাশি চারপাশের মানুষকে সুস্থ বোধ নিয়ে চারদিকে তাকাতে বলি, যেন এমন অঘটন বারবার না ঘটে। আমাদের চারপাশে সেই সব মানুষ আছে, যাদের বোধের তীক্ষ্ণতায় উচ্চারিত হয় জাগরণের কথা। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘ভিক্ষা দাও। পুরবাসী ভিক্ষা দাও। তোমাদের একটি সোনার ছেলে ভিক্ষা দাও। আমাদের এমন একটি ছেলে দাও, যে বলবে আমি ঘরের নই, আমি পরের। আমি আমার নই, আমি দেশের।’
আমরা হত্যাকারী চাই না, সন্ত্রাসী চাই না। আমরা দেশে সোনার মানুষ চাই। আমরা চাই না বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে ডুবতে থাকুক দেশ।
নারী-পুরুষনির্বিশেষে হত্যাকারীকে জিজ্ঞেস করি, আপনি কাকে খুন করেছেন? আপনার শুভবোধকে? আপনার মানবিক চেতনাকে? মনুষ্যত্ববোধকে? এই অমানুষের সংখ্যা দেশের মাটিতে বাড়তে পারবে না। তাকে দমন করতে হবে।
যাঁরা দমন করার কর্তা, তাঁদের কাছে নিবেদন, আপনারা কঠোর হাতে ব্যবস্থা নিন। আমাদের ভবিষ্যৎ, আমাদের আগামী দিন জয়গানে মুখরিত হোক।
শাস্তিতে দণ্ডিত হোক অপরাধীরা। নিশ্চিহ্ন হোক ওরা। আর একজন মানুষও যেন নিজেদের এমন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করতে সাহস না করে।
আসুন, সমবেত শক্তি নিয়ে শিশুদের পাশে দাঁড়াই আমরা। আমাদের অপারগতায় ওদের অসহায় নির্মম মৃত্যু যেন আমাদের অন্ধ করে দেয়। আমাদের ব্যর্থতা যেন আমাদের কশাঘাত করে। ওদের শাস্তির কাঠগড়া যেন এ দেশের মানুষের সমবেত ধিক্কারে ভূলুণ্ঠিত হয়।
জয় হোক শিশুদের। জয় হোক মানবতার।
কথাসাহিত্যিক এবং চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ শিশু একাডেমী

No comments:
Post a Comment