‘আমি
সোহাগী জাহান তনু বলছি, চোখে অশ্রু আর এক বুক যন্ত্রণা নিয়ে লিখছি। কখনো
ভাবিনি এভাবে চলে যেতে হবে। তবুও পৃথিবীর মায়ার বন্ধন ছিন্ন করে না ফেরার
দেশে চলে যেতে হয়েছে। ওরা আমাকে বাঁচতে দেয়নি। আমার মুখের ভাষা কেড়ে
নিয়েছে। খুব নির্মমভাবে ওরা আমাকে হত্যা করেছে। জীবন বাঁচাতে ডাক-চিৎকার
দিয়ে আকুতি মিনতি করেছিলাম ওদের কাছে। আমার চিৎকার তখন ওদের কানেই
পৌঁছেনি। পাষণ্ডরা আমাকে নির্মমভাবে যন্ত্রণা দিয়ে দিয়ে হত্যা করেছে।
আমিতো নারী। আমার মতো কোনো না কোনো নারী ওদের মা কিংবা বোন। একটিবারের
জন্যও কি ওদের এই কথাটি মনে পড়েনি।
পড়ালেখা ও নাচ-গানের মধ্যে নিজের জীবন গড়েছিলম। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলাম। পাশাপাশি নাচ-গান শিখতাম ও নাট্যমঞ্চে অভিনয় করতাম। সহপাঠী ও এলাকার লোকজন কেউ কোনো দিন বলেনি তনু খারাপ। কিন্তু আমার অবর্তমানে আমাকে নিয়ে নানা কথা বলা হচ্ছে। দুষ্ট লোকের কুনজরের দূরে থাকতে নিজেকে হিজাবের আড়ালে রাখতাম। কিন্তু আমার হিজাব নিয়েও আজেবাজে কথা বলা হচ্ছে। তোমরা বিশ্বাস করো আমি খারাপ মেয়ে নই।
মা-বাবাকে বলছি, তোমাদের ছেড়ে থাকতে ভালো লাগছে না। তবুও নিয়তির নিয়ম মানতেই হবে। আমি সবসময়ই তোমাদের সাথে আছি। তোমরা আর এক ফোঁটাও চোখের অশ্রু ফেল না। তোমার এক মেয়েকে পৃথিবী থেকে বিদায় করে দিয়েছে ওরা। আজ তোমাদের হাজার হাজার ছেলেমেয়ে এর প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছে। উত্তাল হয়ে উঠেছে সরা দেশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত, গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে ৬৪ জেলায় মানবন্ধন, রাজপথ অবরোধ, প্রতিবাদ সভা-সমাবেশ করছে তোমাদের সন্তানেরা। আমি নেই তাতে কি! তোমাদের হাজার হাজার সন্তান বাংলার মাটিতে আছে। ভেবে নিও ওদের মাঝেই আমি বেঁচে আছি।
আমার হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা কেউ রেহাই পাবে না। পৃথিবীর এই আদালত আমাকে বিচার দিতে পারুক বা নাই পারুক। আমি জানি আমার হত্যার বিচার একটি আদালতে হবেই। সেই আদালতে সবাইকে সত্য কথা বলতে হবে। কেউ পালিয়ে থাকতে পারবে না। সেখানে এসে হাজির হতেই হবে।
বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় দেখলাম ডিএনএ পরীক্ষা, সুরতহাল প্রস্তুতসহ পুনঃময়নাতদন্তের জন্য বুধবার কবর থেকে আমার লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। কষ্ট পেতে পেতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে হয়েছে আমাকে। এখনো কষ্ট শেষ হয়নি। আর কত কষ্ট সহ্য করতে হবে, বলতে পারো তোমরা?
পরিশেষে একটা কথাই বলতে চাই, বাংলার মাটিতে এ রকম ঘটনা আর যেন না ঘটে। স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা চাই। সারা জীবনের জন্য এ রকম ঘটনার বিলুপ্ত ঘটুক।’
উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ সন্ধ্যায় টিউশনি করে বাসায় ফেরার পথে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয় তনুকে। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ময়নামতি সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজের পানির ট্যাংকিসংলগ্ন স্থানে তার মৃতদেহ পাওয়া যায়। সেই ঘটনার আলোকে তনুকে নিয়ে এই খোলা চিঠিটি লেখা হয়েছে। তবে এই চিঠিতে তনুর কথাগুলো সম্পূর্ণ কাল্পনিক।
লেখক: সাংবাদিক
পড়ালেখা ও নাচ-গানের মধ্যে নিজের জীবন গড়েছিলম। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলাম। পাশাপাশি নাচ-গান শিখতাম ও নাট্যমঞ্চে অভিনয় করতাম। সহপাঠী ও এলাকার লোকজন কেউ কোনো দিন বলেনি তনু খারাপ। কিন্তু আমার অবর্তমানে আমাকে নিয়ে নানা কথা বলা হচ্ছে। দুষ্ট লোকের কুনজরের দূরে থাকতে নিজেকে হিজাবের আড়ালে রাখতাম। কিন্তু আমার হিজাব নিয়েও আজেবাজে কথা বলা হচ্ছে। তোমরা বিশ্বাস করো আমি খারাপ মেয়ে নই।
মা-বাবাকে বলছি, তোমাদের ছেড়ে থাকতে ভালো লাগছে না। তবুও নিয়তির নিয়ম মানতেই হবে। আমি সবসময়ই তোমাদের সাথে আছি। তোমরা আর এক ফোঁটাও চোখের অশ্রু ফেল না। তোমার এক মেয়েকে পৃথিবী থেকে বিদায় করে দিয়েছে ওরা। আজ তোমাদের হাজার হাজার ছেলেমেয়ে এর প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছে। উত্তাল হয়ে উঠেছে সরা দেশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত, গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে ৬৪ জেলায় মানবন্ধন, রাজপথ অবরোধ, প্রতিবাদ সভা-সমাবেশ করছে তোমাদের সন্তানেরা। আমি নেই তাতে কি! তোমাদের হাজার হাজার সন্তান বাংলার মাটিতে আছে। ভেবে নিও ওদের মাঝেই আমি বেঁচে আছি।
আমার হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা কেউ রেহাই পাবে না। পৃথিবীর এই আদালত আমাকে বিচার দিতে পারুক বা নাই পারুক। আমি জানি আমার হত্যার বিচার একটি আদালতে হবেই। সেই আদালতে সবাইকে সত্য কথা বলতে হবে। কেউ পালিয়ে থাকতে পারবে না। সেখানে এসে হাজির হতেই হবে।
বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় দেখলাম ডিএনএ পরীক্ষা, সুরতহাল প্রস্তুতসহ পুনঃময়নাতদন্তের জন্য বুধবার কবর থেকে আমার লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। কষ্ট পেতে পেতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে হয়েছে আমাকে। এখনো কষ্ট শেষ হয়নি। আর কত কষ্ট সহ্য করতে হবে, বলতে পারো তোমরা?
পরিশেষে একটা কথাই বলতে চাই, বাংলার মাটিতে এ রকম ঘটনা আর যেন না ঘটে। স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা চাই। সারা জীবনের জন্য এ রকম ঘটনার বিলুপ্ত ঘটুক।’
উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ সন্ধ্যায় টিউশনি করে বাসায় ফেরার পথে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয় তনুকে। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ময়নামতি সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজের পানির ট্যাংকিসংলগ্ন স্থানে তার মৃতদেহ পাওয়া যায়। সেই ঘটনার আলোকে তনুকে নিয়ে এই খোলা চিঠিটি লেখা হয়েছে। তবে এই চিঠিতে তনুর কথাগুলো সম্পূর্ণ কাল্পনিক।
লেখক: সাংবাদিক

No comments:
Post a Comment