অনিয়ন্ত্রিত
ইন্টারনেটের দামকে এবার নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে
ইন্টারনেটের দামও কমানো হবে। এ দুটি বিষয় নিয়ে কাজ করছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ
মন্ত্রণালয় ও নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন
(বিটিআরসি)। বর্তমানে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫ কোটি ৮৩ লাখ।
এর মধ্যে মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সাড়ে ৫ কোটির বেশি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে দফায় দফায় ব্যান্ডউইথের দাম কমানো হলেও গ্রাহক
পর্যায়ে ইন্টারনেটের দাম কমেনি। উল্টো নানা রকম প্যাকেজ আর অফারের পসরা
সাজিয়ে গ্রাহকের পকেট কাটছে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। এমন
পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট সেবার ক্ষেত্রে দাম নির্ধারণ করতে যাচ্ছে বিটিআরসি।
দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যাপারে কাজও করছে সংস্থাটি। এ প্রসঙ্গে সংস্থাটির
চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। শিগগিরই
সবকিছু নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনা হবে। আমাদের কাছে গ্রাহক সন্তুষ্টি সবার আগে।
বিটিআরসিতে অনেক গ্রাহক ইন্টারনেটের দাম নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। অন্যদিকে
ইন্টারনেটের দাম কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। এ
প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম জানান, ব্যান্ডউইথের দাম কমানোর পর
অনেকে জানিয়েছেন ইন্টারনেটের দাম কমাতে। আমরা চেষ্টা করছি। এরই মধ্যে অর্থ
মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে দ্রুত ইন্টারনেটের দাম
কমানো সম্ভব হবে। মোবাইল অপারেটররা জানিয়েছেন, ভয়েস কল থেকে তাদের আয়
কমছে। তবে ইন্টারনেট ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে এ খাত থেকে আয় দিন দিন বাড়ছে।
নতুন বছরে এ খাত থেকে মুনাফা অর্জন করাকেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছেন
তারা। সম্প্রতি ফেসবুক, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ, লাইন, স্কাইপ ইত্যাদির
ব্যবহার বেড়ে চলেছে। ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই এসবের মাধ্যমে বিনা খরচে তথ্য
আদান-প্রদান করতে পারছেন গ্রাহকরা। আগে বিদেশ থেকে যে পরিমাণ কল আসতো এখন
তা কমেছে এসব অ্যাপসের ব্যবহার বাড়ার কারণে। ইন্টারনেট ডেটা ব্যবসায়
পাইকারি বিক্রেতা হিসেবে কাজ করা আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়ে অপারেটরদের
হিসাব অনুযায়ী, দেশে এখন প্রতিদিন গড়ে ২৫০ জিবিপিএস (গিগাবাইট প্রতি
সেকেন্ড) ব্যান্ডউইথ ব্যবহৃত হয়। দুই বছর আগে দৈনিক ব্যান্ডউইথের চাহিদা
১০০ জিবিপিএসের কম ছিল। মোবাইল অপারেটররা পাইকারি হিসেবে আইআইজি
প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ব্যান্ডউইথ কেনে। এরপর গিগাবাইট বা মেগাবাইটের হিসাবে
নির্দিষ্ট মূল্যে খুচরা পর্যায়ে গ্রাহকের কাছে তা বিক্রি করা হয়। এদিকে
বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাত নিয়ে সুইডেনের বহুজাতিক টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো
সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এরিকসনের বাজার গবেষণায় বলা হয়েছে, তৃতীয় প্রজন্মের
(থ্রিজি) টেলিযোগাযোগ সেবা ও স্মার্টফোনের ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে দেশে
পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ইন্টারনেট ডেটার ব্যবহার। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ব্যবহৃত
হচ্ছে ৩০০ টেরাবাইট ডেটা, যা দুই বছর আগেও ছিল মাত্র ৫০ টেরাবাইট। অর্থাৎ
দুই বছরে ইন্টারনেট ডেটার ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে ৬০০ শতাংশ বা ৬ গুণ।
চতুর্থ প্রজন্মের (ফোরজি) টেলিযোগাযোগ সেবা চালু হলে ইন্টারনেট ডেটার এ
ব্যবহার সামনের বছরে আরও বাড়বে বলে মনে করে প্রতিষ্ঠানটি। গ্রাহক পর্যায়ে
ইন্টারনেট ডেটার ব্যবহার পরিমাপ করতে টেরাবাইট, গিগাবাইট ও মেগাবাইটের মতো
একক ব্যবহার করা হয়। ১ হাজার ২৪ গিগাবাইটে ১ টেরাবাইট হিসাব করা হয়,
একইভাবে ১ হাজার ২৪ মেগাবাইটে ১ গিগাবাইট ধরা হয়। ব্যবহারকারীরা সাধারণত
মেগাবাইট বা গিগাবাইটের হিসাবে ইন্টারনেট ডেটা প্যাকেজ কেনেন। বিটিআরসি
জানিয়েছে, বাংলাদেশে প্রথম ইন্টারনেট ব্যবহার চালু হয় ১৯৯৩ সালে। তবে তখন
সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল না। ১৯৯৬ সালের ৬ই জুন বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহার
সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। তখন প্রতি এমবিপিএস ইন্টারনেটের জন্য
ব্যয় হতো ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। কিন্তু সে সময় সরকারিভাবে বিটিসিএল কোনো
ব্যান্ডউইথ বিক্রি করতো না। ২০০৮ সালে দেশে প্রতি মেগাবাইটস পার সেকেন্ড
(এমবিপিএস) ব্যান্ডউইথের দাম ছিল ৭২ হাজার টাকা। বর্তমানে ১ এমবিপিএস
ব্যান্ডউইথের দাম হাজার টাকার নিচে। বিটিআরসি জানিয়েছে, ইন্টারনেট সেবার
দাম নির্ধারণ করলে ব্যবহারকারীদের খরচ সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে।
Sunday, April 17, 2016
ইন্টারনেট সেবার মূল্য কমছে by কাজী সোহাগ
সূত্র ও লেখক @Source and Writer:
কাজী সোহাগ,
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার,
মানবজমিন
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment