Monday, April 11, 2016

দুঃখিত বিছানা খালি নেই ৬০ দিন পরে আসেন by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

নাকের রোগে ভুগছেন রাজু আহমেদ। তিনি সকাল ১০টায় কামরাঙ্গীরচর থেকে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু বেলা দেড়টা পর্যন্ত ডাক্তার দেখাতে না পেরে বিরক্ত হয়ে হাসপাতাল থেকে চলে যান। তিনি অভিযোগ করেন, ডাক্তাররা ইচ্ছা করে এমন করছেন, যাতে রোগীরা অন্যত্র চলে যায়। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগের ২২১ (আরএস, ইএনটি) কক্ষের সামনে ব্যাপক জটলা। বিশৃঙ্খলা। দুপুর তখন সোয়া একটা। রোগীরা কেউ সকাল ৯টা, কেউবা সকাল ১০টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। ডাক্তারের জন্য অপেক্ষা করছেন শতাধিক রোগী। কিন্তু ওই কক্ষের ডাক্তারের দেখা নেই। নির্ধারিত কক্ষের ডাক্তার মোহাম্মদ ওবায়দুল ইসলাম। রোগীরা অভিযোগ করেন ডাক্তার রুমে ঢুকেছেন সাড়ে ১২টার দিকে। এরপর সবাই স্লিপ হাতে নিয়ে রুমে ঢোকার চেষ্টা করেন। তখন অফিস সহায়ক আনিছ ভূঁইয়া তইফুর ও মিন্টু পেছনের কিছু রোগীর স্লিপ ডাক্তারের রুমে পাঠান। রোগীদের ধমকে দেন তারা। রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করেন। এতে ক্ষিপ্ত হন রোগীরা। এক রোগীর মা বকুল বেগম বলেন, সামনের রোগী রেখে পিয়নরা সুবিধা নিয়ে পেছনের রোগীকে এগিয়ে দিচ্ছেন। একই অভিযোগ করলেন জ্যোৎস্না বিবিও। আরেক রোগী শাহ আলম। বয়স ৩৫। কানের সমস্যায় ভুগছেন। বলেন, দীর্ঘ লাইনে থাকার পর ডাক্তারের দেখা মিলছে। কিন্তু স্লিপে সিল মেরে দিয়েছে ‘দুঃখিত বিছানা খালি নেই।’ ৬০ দিন পরে আসেন। সূত্র জানায়, ওই কক্ষের ডাক্তার প্রায়ই দেরি করে আসেন। প্রায় দিনই ২২১, ২২২ ও ২২৩ কক্ষের সামনে রোগীদের এরকম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং এরপর রোগীরা বিরক্ত হয়ে ডাক্তার না দেখিয়েই চলে যান হাসপাতাল থেকে।
শুধু রাজু বা বকুল বেগম নন, প্রতিদিন শত শত লোক স্বাস্থ্যসেবা নিতে এসে এভাবে পদে পদে ভোগান্তিতে পড়েন বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত দেড়শ’ বছরেরও অধিক প্রাচীনতম স্বাস্থ্যসেবার এই হাসপাতালটিতে। পুরান ঢাকার অধিকাংশ রাস্তাগুলো এমনিতেই সুরু। এতে প্রায় দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে। ফলে যেকোনা রোগীকে প্রচণ্ড যানজট ঠেলে আসতে হয় এই হাসপাতালে। এখানে এসেই রোগী ও তার আত্মীয়স্বজনকে আরও বেশি যন্ত্রণার মধ্যে পড়তে হয়। চিকিৎসা নিতে এসে চরম হয়রানির শিকার হন।
এই হাসপাতালে রোগীর চেয়েও বেশি অসুস্থ থাকে হাসপাতালের পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি। ফলে বেশির ভাগ চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসাসেবার নামে রোগীদের বাইরে রেফার করেন। এতে গরিব রোগীরা পড়েন চরম ভোগান্তিতে। আর এই সুযোগটা লুফে নেন দালালরা। প্রাইভেট প্যাথলজিক্যাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিনিধিরা এ জন্য হাসপাতালে সারাদিন ঘুরাফেরা করেন। তারা ডাক্তারদের সঙ্গে আঠার মতো লেগে থাকেন হাসপাতালে। ঝোপ বুঝেই প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোর প্রতিনিধিরা রোগীদের ভাগিয়ে নেন। আর তাতে কিছু ডাক্তার তাদের থেকে কমিশন নেন বলে হাসপাতালটিতে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী হাসপাতালটি আজ দালালদের খপ্পরে পড়েছে। তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। হাসপাতালটিতে আগত রোগীকে জিম্মি করে দালালরা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তারা গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে মুহূর্তের মধ্যে কবজা করে ফেলে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তারা তাদের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। গত এক বছর আগে আউট সোর্সিং পদ্ধতিতে ৩০ জন নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ দিয়েও দালাল চক্রের তৎপরতা বন্ধ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তারা প্রভাবশালীদের সখ্যতায় হাসপাতালে এই রকম কর্মকাণ্ড গড়ে তুলেছে। সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে সব সময়ই জটলা পাকিয়ে থাকে তারা। কোনো রোগী এলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে ওই চক্র। জরুরি বিভাগের সামনে থেকে টাকার বিনিময়ে রোগী ভর্তি থেকে শুরু করে সব বিষয়ে হাত বাড়াতে ওরা সদা প্রস্তুত।
হাসপাতালে ভাসমান দালাল হিসেবে মিটফোর্ড রোডস্থ ‘বাঁধন’ ক্লিনিকের ওয়াসিম, আলমগীর, হেনা আর ‘ডক্টরস’ ক্লিনিকের রুবেল, মোস্তফাসহ অন্য দালালরা হাসপাতালে বেশি ঘুরাফেরা করছে। ডাক্তাররা তাদের সহকারীদের মাধ্যমে বহির্বিভাগে দালালদের সঙ্গে রোগীদের দরকষাকষি করে। এখানে ডাক্তারদের কক্ষের সামনেই তারা তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে থাকেন ডাক্তাররা রোগীকে কোন্‌ ধরনের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ দিচ্ছেন। রোগী ডাক্তারদের কক্ষ থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রোগীর স্লিপ দেখার জন্য দালালরা হুমড়ি খেয়ে পড়ে। এরকম এক রোগীর স্লিপ নিয়ে কয়েকজন দালালকে টানাহেঁচড়া করতেও দেখা গেছে। শুধু তাই নয়, এ নিয়ে কয়েকজন ডাক্তারের সহকারীকে দালালদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে নিচ তলায়।
রোগীদের যত অভিযোগ: রোগীরা অভিযোগ করেন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা অনেক সময় রোগীকে দেখার সময়ই চিকিৎসকদের কক্ষে ঢুকে পড়েন। এসময় তারা চিকিৎসকদের মনোযোগ কেড়ে নেন। ফলে ডাক্তাররা কখনো কখনো মনোযোগ হারিয়ে ফেলেন। তখন ডাক্তাররা কোনো রকম রোগী দেখেই বিদায় করেন। সকাল থেকেই হাসপাতালের বহির্বিভাগে ওষুধ কোম্পানির লোকেরা বড় বড় ব্যাগ নিয়ে ঘুরঘুর করেন। অথচ সপ্তাহে দুইদিন ডাক্তার ভিজিট করার নিয়ম থাকলেও তারা শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিনই আসছেন হাসপাতালে। হাসপাতাল থেকে ডাক্তাররা রোগীকে যে ওষুধ লিখে দেন তা ঠিক মতো না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এরকম একজন আসমা জাহান। বহির্বিভাগ থেকে ডাক্তার তাকে তিনটি ওষুধ লিখে দেন। ওষুধের ব্যবস্থাপত্র দেখিয়ে ওই প্রতিবেদককে বলেন, একটিও পাননি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকার কী আমাদের জন্য কোনো ওষুধ রাখেনি।
হাসপাতালটিতে বিনামূল্যে চিকিৎসা পাওয়ার কথা থাকলেও এক শ্রেণির অসাধু কর্মচারীর জন্য পদে পদে রোগীকে টাকা গুনতে হয়। রোগীকে জরুরি বিভাগের সামনে থাকা ট্রলি দিয়ে ওয়ার্ডে পৌঁছানোর জন্য গুনতে হয় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে সব সময়ই চাপ থাকে। তবে, টাকা দিলে সহজেই দ্রুত কাজ সমাধা করা যায়। এক্সরের জন্য ওয়ার্ড বয়দের ২০-৩০ টাকা দিতে হয়। টাকা ছাড়া ঠিকমতো এসব সেবা পাওয়া দুরূহ। প্রসঙ্গত, ঘুষ নেয়ার অভিযোগে গত বছর সোহরাব নামের এক কর্মচারীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। নাম না প্রকাশ করার শর্তে এক কর্মচারী বলেছেন, আগে তারা বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে সেলাইনসহ রোগীর ওষুধ চুরি করলেও এখন আর করছেন না।
প্রসূতি বিভাগ (লেবার ওয়ার্ডে) বিকাল ৪টার পর প্রায় সময় রোগী ভর্তি না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এখানে আসলে রোগীদের অন্যত্র চলে যেতে বলে চিকিৎসকরা। এতে অনেক সময় গর্ভবতী মায়েদের রাস্তায় বাচ্চা প্রসব হয়ে যায়। সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহ আগে কেরানীগঞ্জ থেকে আগত এরকম এক রোগী আসেন হাসপাতালে। রোগীকে চিকিৎসকরা বলেছিলেন আপনার আরও এক সপ্তাহ পরে বাচ্চা হবে। আপনি চলে যান। এরপর তিনি নৌকায় চরে ওপারে যাওয়ার আগেই নৌকায় তার বাচ্চা প্রসব করেন। অভিযোগ আছে সিজার ওটিতে আগে ২০০ থেকে ৩০০ টাকার ওষুধ লাগলেও এখন সেখানে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে। জরুরি ওটি রোগীদের গজ-ব্যান্ডেজও কিনতে হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম্‌স (এমআইএস) বিভাগের (স্বাস্থ্য বুলেটিন) ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে নারী, পুরুষ ও শিশু মিলে প্রায় ১৬২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। গড়ে মারা গেছেন প্রায় ৫ জন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জরুরি বিভাগে দিনে ২০০ থেকে ৩০০ রোগী চিকিৎসা নিয়ে ফিরে যান। হাসপাতালে নিয়মিত ৮০০ থেকে ৯০০ রোগী থাকছেন। বহির্বিভাগে দৈনিক এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার রোগী চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষকে। বেড সংখ্যা মাত্র ৬০০ হলেও গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ রোগী হাসপাতালে অবস্থান করছে। বাকি প্রায় ২শ’ থেকে ৩শ’ রোগীকে প্রতিদিন গাদাগাদি করে মেঝেতে শুয়েই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।
সূত্র মতে, চিকিৎসক আছেন ৩৫০ জন। এর মধ্যে হাসপাতালে কর্মরত পদ ২৩৩ জন এবং মেডিকেল কলেজের ১৩০ জনের মতো ডাক্তার চিকিৎসা সেবা দেন। ফলে রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। হাসপাতালটিতে ৩৩২ জন নার্স, ২ জন সেবা ও উপসেবা তত্ত্বাবধায়ক এবং এমএলএসএস ২৫০ জন।
প্যাথলজি বিভাগের যন্ত্রপাতি কখনও সচল কখনও অচল: হাসপাতালের এক্সরে মেশিনসহ অন্যান্য সব মেশিন ডিজিটাল হলেও সেগুলো অনেক আগের। এর মধ্যে কিছু কিছু যন্ত্রাংশ মাঝে মাঝে নষ্ট থাকে। অভিযোগ আছে, হাসপাতালের বেশির ভাগ চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসাসেবার নামে হাসপাতালের বাইরের প্যাথলজিক্যাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোয় রোগীদের রেফার করেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ওই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন পেয়ে থাকেন। হাসপাতালে সরকারি খরচে এমআরআই পরীক্ষা করাতে খরচ হয় আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। একই পরীক্ষা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে করালে খরচ পড়ে দশ থেকে ১২ হাজার টাকা। হাসপাতালের এমআরআই মেশিনটি বছরের পর বছর ধরে নষ্ট থাকে বলে কর্মচারীরা জানিয়েছেন। বর্তমানে ক্যাথল্যাব মেশিনটিও বিকল। সরকারি হাসপাতাল হওয়া সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থার জন্য এসব দামি মেশিন বছর বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। আর রোগীরা আধুনিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। হাসপাতালটিতে ক্যাথল্যাব বা এনজিওগ্রাম গত তিন বছর ধরে অব্যবহৃত হয়ে পড়ে আছে। এগুলো দামি মেশিন। কিন্তু এই মেশিনগুলো প্রায় নষ্ট। ইকো, এন্ড্রোসকপি, আলট্রাসনোগ্রাম করা হয়। অর্থাৎ আধুনিক চিকিৎসা সেবা নেই হাসপাতালটিতে। হাসপাতালে ৩০টি ওয়ার্ড এবং ৩৭টি বিভাগ রয়েছে।  অনেক যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় রোগীরা আধুনিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এক্স-রে তিনটি মেশিনের মধ্যে দু’টি নষ্ট দেড় মাস ধরে। একটি মেশিন দিয়ে প্রতিদিন ২০ শতাংশ রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা দুরূহ। হাসপাতালটিতে আইসিইউতে ৮টি এবং সিসিইউ’তে ৩০টি শয্যা রয়েছে। অভিযোগ আছে স্থানীয় এমপির প্রভাব খাটিয়ে ‘ম’ আদ্যাক্ষরের কর্মচারীদের এক নেতা আইসিইউ বাণিজ্য করেন হাসপাতালে। তার নেতৃত্বে একটি দালাল চক্র হাসপাতালে খবরদারি করে বেড়ান। ওই নেতার ছত্রছায়ায় সন্ধ্যার পরপরই কিছু বখাটে হাসপাতালের ৩ নম্বর গেইট, মেন্টাল ওয়ার্ড, নার্সিং ও লেডিস হোস্টেলের সামনে গাঁজা, হেরোইন খায় এবং নারীদের উত্ত্যক্ত করে। এতে নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
তিনটি অ্যাম্বুলেন্সের দুটিই নষ্ট: সরকারিভাবে হাসপাতালে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও সচল রয়েছে মাত্র একটি। যা কোনো রকম চলছে। এই একটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে হাজার হাজার রোগীর সেবা করাটা অসম্ভব। ফলে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের একটি বড় সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে হাসপাতালে। এই সিন্ডিকেট চক্র অসহায় রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেন। হাসপাতালের নির্দেশনায় হাসপাতাল চত্বরে যত্রতত্র রিকশা, ভ্যান, মোটরগাড়ি, মাইক্রো, অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং না করার নির্দেশনা থাকলেও হাসপাতাল চত্বরে সবসময়ই এলোমেলোভাবে অ্যাম্বুলেন্স, রিকশা পার্কিং করতে দেখা যায়।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের নানা অনিয়ম আর অবহেলার ব্যাপারে কথা হয় প্রতিষ্ঠানটির উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আবদুস সালামের সঙ্গে। তিনি মানবজমিনকে বলেন, দালাল আছে। এটি জটিল বিষয়। এরা স্থানীয়। মাঝে মাঝে ব্যবস্থাও নেয়া হয়। যন্ত্রপাতির মধ্যে দামি এমআরআই, এক্স-রে মেশিন, এনজিওগ্রাম নষ্ট থাকার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন এনজিওগ্রাম মেশিন বসানো হবে। এক্স-রে মেশিন ঠিক করার জন্য যোগাযোগ করা হচ্ছে। আমাদের এখানে রোগী অনেক আসে। তাই চিকিৎসা করতে গিয়ে ডাক্তারদের হিমশিম খেতে হয়। কোনো রোগীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলে লিখিত দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইসিইউ বাণিজ্য বিষয়ে তার জানা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে সিট খালি না হলে কাউকে ভর্তি করা হয় না। হাসপাতালে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স কয়টি এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমাদের এখানে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স আছে তিনটি। এর মধ্যে একটি নষ্ট বলে তিনি উল্লেখ করেন। রোগীকে ওষুধ কম বা না দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি সঠিক। কারণ বাজেট কম। সীমিত। ফলে রোগীর প্রয়োজনীয় ওষুধ দেয়া সম্ভব হয় না।

No comments:

Post a Comment