কলকাতায়
উড়ালসড়ক ধসে হতাহত ব্যক্তিদের জন্য আমার আন্তরিক সমবেদনা রইল। তবে এরই
মধ্যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়েস্ট
ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড। ক্রীড়াপাগল এই শহরে দুঃখজনক এ দুর্ঘটনা অনেক মানুষের
প্রাণ নিয়েছে। এর মধ্যেও দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে চলছে শিরোপা জয়ের
উৎসবের প্রস্তুতিও। কিন্তু দুই দলই তো আর জিতবে না। ইডেনে আজ রাতে একটি
দলকে হারতেই হবে। আমরা শুধু আশা করতে পারি দর্শকেরা যেন দুর্দান্ত একটা
ম্যাচের সাক্ষী হয়। যে ম্যাচ শেষে দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের
ট্রফি উঠবে ইংল্যান্ড বা ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে। সাবেক চ্যাম্পিয়ন হিসেবে
ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুই দলই জানে শিরোপা জিততে হলে নির্দিষ্ট দিনে
ভালো খেলতে হবে। ফাইনাল পর্যন্ত আসার পথে দুই অধিনায়কই কিছু না কিছু
শিখেছে। এখন সময় সেই শিক্ষা কাজে লাগিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার। টি-টোয়েন্টি
ম্যাচ মানে এখানে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ খুব কম। সুতরাং এমন মুহূর্ত আসতে
পারে, যেখানে অভিজ্ঞতাই বড় ব্যবধান গড়ে দেবে। দুই দলেরই লক্ষ্য থাকবে যতটা
পারা যায় কম ভুল করার। একেবারে নির্ভুল খেলা হয়তো সব সময় সম্ভব নয়, কিন্তু
অভিজ্ঞতার আলোকে পরিকল্পনা তো করে রাখাই যায়। এ টুর্নামেন্টে দেখার মতো যদি
কোনো দল থাকে, তবে সেটি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অনেক আগ থেকেই তারা বিশ্ব
ক্রিকেটের সবচেয়ে বিনোদনদায়ী দল। ড্যারেন স্যামির নেতৃত্বে এই দলটার সময়টাও
বেশ দারুণ যাচ্ছে ইদানীং। কিছুদিন আগে ঢাকায় ওদের যুবদল ভারতকে হারিয়ে
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে। এই বিশ্বকাপে আজ ওদের মেয়েদের দলটাও
ফাইনাল খেলবে। একই দিনে দুটি শিরোপা জেতা মানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে
বিশ্বজয় করে ফেলার মতোই হবে। ট্রফি হাতে ক্লাইভ লয়েডের সেই হাস্যোজ্জ্বল
ছবিটা নিশ্চয়ই আজও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বড় প্রেরণা হয়ে থাকবে। তবে ইংল্যান্ডের
ভালোই সামর্থ্য আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে থামানোর। বড় আসরে ওরা বারবার হতাশ
করেছে, যদিও এবার গল্পটা অন্য রকম মনে হচ্ছে। এই ইংল্যান্ডের মধ্যে আমি
প্রবল শিরোপা-ক্ষুধা দেখতে পাচ্ছি। এ মাঠেই ১৯৮৭ বিশ্বকাপের ফাইনালে মাইক
গ্যাটিংয়ের সেই রিভার্স সুইপ হয়তো ওদের তাড়িয়ে বেড়াবে। কিন্তু শটটা তো এখন
টি-টোয়েন্টিতে নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে গেছে। তবে ইংল্যান্ড ওসব না করে শুধু
ক্রিকেটিং শট খেলেও যে ম্যাচ বের করে আনতে পারে, সেটা তো দক্ষিণ আফ্রিকার
বিপক্ষে জো রুটই দেখিয়েছে। দুটি দলই দারুণ ভারসাম্যপূর্ণ। কোনো দলই এককভাবে
কোনো খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীল নয়। তবে অনেকেই এটাকে ক্রিস গেইল আর জেসন
রয়ের লড়াই বলছেন। কিন্তু আমরা মুম্বাইয়েই দেখেছি, গেইলের অবদান ছাড়াই
ওয়েস্ট ইন্ডিজ কীভাবে ম্যাচ বের করে নিয়েছে। ইংল্যান্ডের সাফল্যেও ব্যাট
হাতে ওপরের দিকের ছয়জন ব্যাটসম্যানই অবদান রেখেছে। তবে এটা সত্যি, গেইল
একবার ঝড় তুললে একা হাতেই ম্যাচ বের করে নিতে পারে। তবে আন্দ্রে রাসেল আর
লেন্ডল সিমন্সরাও বা কম কিসে! উইকেট অনেক বড় নিয়ামক হতে পারে। আমি নিশ্চিত,
ইডেনের কিউরেটর ভালো উইকেটই উপহার দেবেন। শিশিরের প্রভাব তো আর খেলোয়াড়দের
হাতে নেই। ওটা যদি বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়, তবে খুবই দুঃখজনক হবে। দর্শকদের
একটা জমজমাট ফাইনাল প্রাপ্য, আর আমারও সেই প্রত্যাশা। সেরা দলটাই জিতুক।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment