চুয়াডাঙ্গার
দর্শনায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের
কার্যালয় ও পরীক্ষাগার ভবন নির্মাণে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করার মামলার ১
নম্বর আসামি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জয় ইন্টারন্যাশনালের মালিক মনি সিংকে
(৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র্যাব-৪ ঢাকা ও দুদক কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা
কার্যালয়ের যৌথ দল অভিযান চালিয়ে ঢাকার মিরপুর পল্লবী বটতলা এলাকার একটি
বাসা থেকে আজ শুক্রবার বেলা ১০টায় গ্রেপ্তার করে। দুর্নীতি দমন কমিশন
(দুদক) কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির
উপপরিচালক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আবদুল গাফ্ফার এবং র্যাব-৪–এর
সহকারী পরিচালক কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। কৃষি
সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ফাইটোস্যেনেটারি শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় ২
কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে গত বছরের ডিসেম্বরে জেলার দামুড়হুদা উপজেলার
দর্শনায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের কার্যালয়
ও পরীক্ষাগার ( অফিস কাম ল্যাবরেটরি) ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
ইতিমধ্যে প্রকল্পের কাজের ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে। ভবনটির লুভার নির্মাণে
‘রডের বদলে বাঁশ ও খোয়ার বদলে সুরকি’ ব্যবহারের অভিযোগ পেয়ে কৃষি
সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি প্রতিনিধিদল ৭ এপ্রিল সরেজমিন পরিদর্শন করে এবং
অভিযোগের সত্যতা পায় এবং ওই দিনই তারা নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। এরপর
পর্যায়ক্রমে ৮ এপ্রিল প্রকল্পের ক্রয় বিশেষজ্ঞ মো. আইয়ুব হোসেনের
নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ৯ এপ্রিল
ফাইটোস্যেনেটারি শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের পরিচালক ( উইং) সৌমেন সাহার
নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি এবং ১১ এপ্রিল কৃষি মন্ত্রণালয়ের
উপপ্রধান মাহবুবুল হক পাটোয়ারীর নেতৃত্বে আরও একটি দল সরেজমিন যায়। কৃষি
সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিনিয়র মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন কর্মকর্তা ও
প্রকল্প পরিচালক ( দায়িত্বপ্রাপ্ত ) মেরিনা জেবুন্নাহার বাদী হয়ে গত ১১
এপ্রিল দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় ঠিকাদারি
প্রতিষ্ঠান জয় ইন্টারন্যাশনালের মালিক মনি সিং, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান
ইঞ্জিনিয়ারিং কনসোর্টিয়াম লিমিটেডের (ইসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস
সাত্তার, প্রকল্পের ক্রয় বিশেষজ্ঞ মো. আইয়ুব হোসেন ও কৃষি সম্প্রসারণ
অধিদপ্তরের উপসহকারী পরিচালক মো. কামাল হোসেনকে আসামি করা হয়। ১৩ এপ্রিল
চুয়াডাঙ্গার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. আবদুল হালিম মামলাটিকে দুদক
কুষ্টিয়া জেলা সমন্বয় কার্যালয়ের কাছে হস্তান্তরের আদেশ দেন। সর্বশেষ ২৯
এপ্রিল কৃষি মন্ত্রণালয়–সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাংসদ
মকবুল হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
সাংসদ মকবুল হোসেন ওই দিন সাংবাদিকদের জানান, জড়িত ব্যক্তিদের কাউকে ছাড়
দেওয়া হবে না।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment