Sunday, May 15, 2016

জোড়া খুনে গ্রেপ্তার ব্যক্তি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ তথ্য দিয়েছেন

রাজধানীর কলাবাগানে জোড়া খুনের ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খুনের ঘটনায় জড়িতদের সম্পর্কে তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে পুলিশের দাবি। আজ রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন। ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। ডিএমপির ভাষ্যমতে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম শরিফুল ইসলাম ওরফে শিহাব (৩৭)। তিনি আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের একজন সদস্য। ডিএমপির নবগঠিত কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের একটি দল কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ছয় রাস্তা মোড় এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, শিহাব প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কলাবাগানে জোড়া খুনের ঘটনায় জড়িতদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। ওই ঘটনায় জব্দ ব্যাগে পাওয়া দুটি অস্ত্রের মধ্যে একটি নিজের বলে জানিয়েছেন শিহাব। আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের বিভিন্ন ঘটনায় অস্ত্র ও বোমা দিয়ে সহায়তা করারও কথাও জানিয়েছেন তিনি। গত ২৫ এপ্রিল কলাবাগানের একটি বাসায় ঢুকে জুলহাজ মান্নান ও তাঁর বন্ধু মাহবুব তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। জুলহাজ যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য সংস্থা ইউএসএআইডিতে চাকরি করতেন। তিনি সমকামীদের অধিকার-বিষয়ক সাময়িকী ‘রূপবান’ সম্পাদনা ও প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
মাহবুব ছিলেন নাট্যকর্মী। দুর্বৃত্তরা ওই বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীকেও কোপায়। পরে কলাবাগানের ডলফিন গলি দিয়ে পালানোর সময় কলাবাগান থানার পুলিশের এক সদস্য এক দুর্বৃত্তকে জাপটে ধরেন। দুর্বৃত্তরা তাঁকেও কুপিয়ে আহত করে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় এক দুর্বৃত্তের কাছ থেকে একটি ব্যাগ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ব্যাগে আগ্নেয়াস্ত্রসহ নয় ধরনের আলামত পাওয়া যায়। জুলহাজ মান্নান ও মাহবুব তনয়কে হত্যার দায় স্বীকার করে আল-কায়েদা ভারতীয় উপমহাদেশের (একিউআইএস) কথিত বাংলাদেশ শাখা ‘আনসার আল ইসলাম’। জুলহাজ ও মাহবুব হত্যার ঘটনায় কলাবাগান থানায় দুটি মামলা হয়েছে। একটি হত্যা মামলা, অন্যটি অস্ত্র আইনে। নিহত জুলহাজ মান্নানের ভাই মিনহাজ মান্নান হত্যা মামলাটি করেছেন। সরকারি কাজে বাধা ও অস্ত্র আইনে মামলা করেছেন ঘটনার সময় ঘটনাস্থলের কাছে দায়িত্ব পালন করা পুলিশের উপপরিদর্শক শামীম আহমেদ। দুটি মামলাতেই অজ্ঞাতনামা পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা দুটি পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

No comments:

Post a Comment