Tuesday, May 3, 2016

ওরা পেরেছে!

উই ক্যান-ড্যাফোডিল অ্যাপস ফেলোশিপ ২০১৬ জিতেছে
ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের দলটি।
যেখানে পরীক্ষা শেষ করে অনেকেই ঘুরে বেড়িয়েছে, সেখানে ওরা চর্চা করেছে প্রোগ্রামিংয়ের। ওরা হচ্ছে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শাওন চৌধুরী, রাফাতুল ইসলাম, সেজান মাহমুদ প্রান্ত, তাহজিদ তাসনিফ রিহাত ও এহসানুল হক ফাহাদ। সম্প্রতি ‘উই ক্যান-ড্যাফোডিল অ্যাপস ফেলোশিপ ২০১৬’ জিতেছে ঢাকা পাঁচজনের এ দল। এ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের দলকেও হারিয়েছে ওরা। পুরস্কার হিসেবে পেয়েছে দুই লাখ টাকা। কীভাবে প্রোগ্রামিংয়ে এল ওরা? শুরুটা ২০১৫ সালে। এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে ঘুরে বেড়ানোর সময় শাওন উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ‘তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি’ বইটি পড়তে শুরু করে। শুরু হয় তার প্রোগ্রামিং শেখার জল্পনাকল্পনা। ওই বছরের এপ্রিল মাসে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে শুরু হয় জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা।
‘আবেগী তিমির’ অ্যাপ নির্মাতা দলের সদস্য শাওন চৌধুরী।
সেখানে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা থেকেই আগ্রহী হয়ে প্রোগ্রামিংয়ে হাতেখড়ি। ইন্টারনেটে ব্লগ, প্রোগ্রামিং শেখার সাইট এবং ফেসবুকে নানা গ্রুপের মাধ্যমে শুরু হয় শেখা। ইউটিউবে টিউটোরিয়াল দেখে হাতেখড়ি হয় সি প্রোগ্রামিং ভাষায়। এরপর হার্বার্ড শিল্ডের ‘সি/সি++’ বইটিও পড়া শুরু করে শাওন। এ বছরের শুরুতে এসে শাওন প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আগ্রহী হয়। গত ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় ‘আমরাই পারি’ নামের একটি উদ্যোগের জন্য অ্যাপ বানানোর প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে প্রতিযোগীদের নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ এবং নারী নির্যাতনবিরোধী অ্যাপ তৈরি করতে বলা হয়। দলে যোগ দেয় রাফাতুল ইসলাম, সেজান মাহমুদ প্রান্ত, তাহজিদ তাসনিফ রিহাত ও এহসানুল হক ফাহাদ। দল দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে কাজ শুরু করে। তিনজনের দায়িত্ব তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণা আর দুজন শিখতে শুরু করে জাভাস্ক্রিপ্ট। প্রতিযোগিতায় ‘আবেগী তিমির’ নামের একটি অ্যাপ তৈরির ধারণাপত্র জমা দেয় দলটি। এটি একটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম। এখানে মেয়েরা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতে পারে। এ ছাড়া ‘আমরাই পারি’ স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার সুবিধাও রয়েছে। প্রতিযোগিতায় মোট ৯৬টি ধারণাপত্র থেকে মোট ২৪টি প্রথম বাছাইপর্বে উত্তীর্ণ হয়। গত ৩১ মার্চ ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা হয়। প্রতিযোগিতার বিচারক সিওরক্যাশ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের প্রধান নির্বাহী শাহাদত উল্লা বলেন, অ্যাপের জন্য প্রয়োজনীয় গবেষণা কাজ ভালো হয়েছে। খুঁটিনাটি বিষয়গুলোও খুব ভালোভাবে সামাল দিয়েছে দলটি। ‘আবেগী তিমির’ অ্যাপটি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উন্মুক্ত করতে চায় দলটি। ভবিষ্যতে এআইবিডি নামের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চিন্তা করছে তারা।

No comments:

Post a Comment