Thursday, May 12, 2016

বরিশালে এবারও মেয়েরা এগিয়ে

বরাবরই ভালো ফল করে আসছে। এবারও ব্যত্যয় ঘটেনি
বরিশালের সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে। সেই
উচ্ছ্বাসে মেতেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা
বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এবারও মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। পাসের হার ও জিপিএ-৫-এ পিছিয়ে পড়ছে ছেলেরা। এ বছর সার্বিকভাবে পাসের হারে ১ দশমিক ৩৩ ভাগ পিছিয়ে পড়েছে ছেলেরা। মোটের ওপর বরিশাল বোর্ডে এ বছর পাসের হারও কমেছে। এ বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের দাবি, গণিতের সৃজনশীল নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন জটিল করা এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক না থাকায় ফলাফলে প্রভাব পড়েছে। ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ শাহ আলমগীর বলেন, এবার গণিতের ফল কিছুটা বিপর্যয়ের হলেও ধারাবাহিকভাবে মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ, তারা বেশি মনোযোগী। ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের একাগ্রতাও বেশি। তা ছাড়া মেয়েদের ব্যাপারে অভিভাবকেরাও দিন দিন সচেতন হচ্ছেন।
ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এ বছর বোর্ডে মেয়েদের পাসের হার ৮০ দশমিক শূন্য ৮। ছেলেদের পাসের হার ৭৮ দশমিক ৭৫। মেয়েরা জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৬০৯, ছেলেরা ১ হাজার ৫০৪ জন। অর্থাৎ ছেলেদের চেয়ে ১০৫টি জিপিএ-৫ বেশি পেয়েছে মেয়েরা। এ বছর বোর্ডে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮৮ দশমিক ৬৯। ১৯ হাজার ৯০৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৭ হাজার ৬৫৬ জন। বিভাগে ৮ হাজার ৮০৭ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৭ হাজার ৮৫১ জন। পাসের হার ৮৯ দশমিক ১৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৩৩২ জন। এবার মানবিক বিভাগে পাসের হার ৭৩ দশমিক ৩৩। বিভাগ থেকে মোট ৩৩ হাজার ৬০৬ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। পাস করেছে ২৪ হাজার ৬৪২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০৫ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে মোট পাসের হার ৮০ দশমিক ১২। বিভাগ থেকে ২৮ হাজার ২১৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ২২ হাজার ৬০৪ জন।
গত বছর মেয়েদের পাসের হার ছিল ৮৪ দশমিক ৮৪ ও ছেলেদের ৮৩ দশমিক ৯০। ওই বছর মেয়েরা জিপিএ-৫ পায় ১ হাজার ৬২৫ জন এবং ছেলেরা ১ হাজার ৫৪৬ জন। ২০১৪ সালে বিজ্ঞানে ছেলেরা এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষায় মেয়েরা এগিয়ে ছিল। মেয়েরা জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২ হাজার ৪২৪ জন এবং ছেলেদের মধ্যে ২ হাজার ৩৩৮ জন। কমেছে পাসের হার: এ বছর ৮১ হাজার ৭২৮ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৬৪ হাজার ৯০২ জন। পাসের হার ৭৯ দশমিক ৪১। গত বছরের চেয়ে যা ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ কম। গত বছর ৭০ হাজার ৪৫৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয় ৫৯ হাজার ৪৪৬ জন। পাসের হার ছিল ৮৪ দশমিক ৩৭। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ১১৩ জন। আর গত বছর পেয়েছিল ৩ হাজার ১৭১ জন।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ শাহ আলমগীর বলেন, গণিতে দুই বছর ধরে সৃজনশীল পদ্ধতি চালু হয়েছে। কিন্তু এই বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক নেই। সৃজনশীল বিষয়ে মাত্র তিন দিনের একটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে গণিতের শিক্ষকদের। আর মাস্টার প্রশিক্ষককে মাত্র ১২ দিন, যা মোটেও যথেষ্ট নয়। এর প্রভাব পড়েছে ফলাফলে। তিনি বলেন, এখান থেকে বের হতে হলে গণিতে সৃজনশীল বিষয়ে আরও প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা যাতে সহজে গণিতের নৈর্ব্যক্তিক উত্তর দিতে পারে, সে রকম প্রশ্ন করতে হবে।

No comments:

Post a Comment