জামায়াতের
আমীর মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসিতে উদ্বেগ জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করেছে
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ। রেডিও পাকিস্তান অনলাইনের এক রিপোর্টে বলা হয়,
প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন পাকিস্তানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী
রানা তানভির হুসেইন। প্রস্তাবে বিচারিক প্রক্রিয়াকে আইন, ন্যায়বিচার ও
মানবাধিকার বিরুদ্ধ আখ্যা দিয়ে নিন্দা প্রকাশ করা হয়। পরিষদে নিজামীর জন্য
ফাতেহা পাঠও করা হয়। পরিষদের অন্য আইনপ্রণেতারা ফাঁসির নিন্দা জানিয়ে
বিষয়টি জাতিসংঘে উত্থাপন করা উচিত বলে মন্তব্য করেন।
ওদিকে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে। সেখানে নিজামীর ফাঁসিতে পাকিস্তান ‘মর্মাহত’ উল্লেখ করে বলা হয়, ত্রুটিপূর্ণ বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিরোধী দলের নেতাদের হত্যা করে দমন করা হচ্ছে, যা গণতন্ত্রের মূল্যবোধ বিরুদ্ধ। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়- এই ফাঁসি বাংলাদেশের সেই নাগরিকদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক, যারা নিজামীকে সংসদে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন। বিচারকাজ শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন ও মানবাধিকার সংস্থা আদালতের কর্ম-প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি উত্থাপন করেছে বলে ইসলামাবাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। সেখানে চুয়াত্তরের চুক্তির পুনরুল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে নিজামীর পরিবারের সদস্য ও তার অনুসারীদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়। ইসলামাবাদের এ আচরণকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘অহেতুক হস্তক্ষেপ’ এবং ‘বাড়াবাড়ি’ হিসেবে দেখছে ঢাকা। এ নিয়ে সর্বমহলে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হলেও দেশটির নেতৃত্ব তা কানে তুলছে না। তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে তিক্ততার পথে নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বহাল থাকার পরও পাকিস্তান আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে উদ্বেগ জানিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ঢাকাস্থ পাকিস্তানের হাইকমিশনার সুজা আলমকে তলব করে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিবৃতি-মন্তব্য বন্ধের পাশাপাশি ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তির অপব্যাখ্যা না করতে দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল ঢাকা। এ নিয়ে একটি প্রতিবাদ নোটও পাকিস্তান দূতের হাতে ধরিয়ে দিয়েছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও কনস্যুলার) মিজানুর রহমান। তলবকালে পাকিস্তান দূত বিষয়টি তার সরকারের বিবেচনায় উপস্থাপন করবেন বলে অঙ্গীকার করে গেছেন। সোমবারের ওই তলবের পরও পাকিস্তানের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি, তারা বিবৃতিতে ফের ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তির ‘অপব্যাখ্যা’ই দিয়েছে বলে মনে করে ঢাকা। উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দণ্ডকে ঘিরে ২০১৩ সালের নভেম্বর থেকে অন্তত ৭ বার বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের এ নিয়ে প্রস্তাব আনা হয়েছে, উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবারই পাকিস্তানের আচরণের কড়া প্রতিবাদ করেছে ঢাকা। বেশ ক’বার দেশটির হাইকমিশনারকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাকিস্তানও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে একাধিকবার বাংলাদেশের দূতকে তলব করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রায় তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। নিজামীর ফাঁসির প্রশ্নে পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া বিষয়ে গতকাল সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। আগে অবশ্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন- পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশকে হতাশ করেছে। কখনোই আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমরা কারও উদ্বেগকে স্বাগত জানাই না। বারবার মনে করিয়ে দেয়ার পরও তারা এটি করছে। তারা বলছে ব্যথিত হয়েছে, কিন্তু এখানে যাদের বিচার হচ্ছে তারা বাংলাদেশের নাগরিক। তারা পাকিস্তানের হয়ে কাজ করেছেন বলেই তাদের জন্য পাকিস্তান ব্যথিত। প্রতিমন্ত্রী মনে করেন, পাকিস্তানের এ অবস্থান বিপজ্জনক, কারণ মানবতাবিরোধী বা যুদ্ধাপরাধীদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তারা আশ্বস্ত করার জায়গা খুঁজছে। পাকিস্তান রাষ্ট্র তাদের পাশে থাকবে এ রকম একটি বার্তা তারা দিতে চাইছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ওদিকে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে। সেখানে নিজামীর ফাঁসিতে পাকিস্তান ‘মর্মাহত’ উল্লেখ করে বলা হয়, ত্রুটিপূর্ণ বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিরোধী দলের নেতাদের হত্যা করে দমন করা হচ্ছে, যা গণতন্ত্রের মূল্যবোধ বিরুদ্ধ। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়- এই ফাঁসি বাংলাদেশের সেই নাগরিকদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক, যারা নিজামীকে সংসদে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন। বিচারকাজ শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন ও মানবাধিকার সংস্থা আদালতের কর্ম-প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি উত্থাপন করেছে বলে ইসলামাবাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। সেখানে চুয়াত্তরের চুক্তির পুনরুল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে নিজামীর পরিবারের সদস্য ও তার অনুসারীদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়। ইসলামাবাদের এ আচরণকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘অহেতুক হস্তক্ষেপ’ এবং ‘বাড়াবাড়ি’ হিসেবে দেখছে ঢাকা। এ নিয়ে সর্বমহলে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হলেও দেশটির নেতৃত্ব তা কানে তুলছে না। তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে তিক্ততার পথে নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বহাল থাকার পরও পাকিস্তান আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে উদ্বেগ জানিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ঢাকাস্থ পাকিস্তানের হাইকমিশনার সুজা আলমকে তলব করে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিবৃতি-মন্তব্য বন্ধের পাশাপাশি ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তির অপব্যাখ্যা না করতে দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল ঢাকা। এ নিয়ে একটি প্রতিবাদ নোটও পাকিস্তান দূতের হাতে ধরিয়ে দিয়েছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও কনস্যুলার) মিজানুর রহমান। তলবকালে পাকিস্তান দূত বিষয়টি তার সরকারের বিবেচনায় উপস্থাপন করবেন বলে অঙ্গীকার করে গেছেন। সোমবারের ওই তলবের পরও পাকিস্তানের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি, তারা বিবৃতিতে ফের ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তির ‘অপব্যাখ্যা’ই দিয়েছে বলে মনে করে ঢাকা। উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দণ্ডকে ঘিরে ২০১৩ সালের নভেম্বর থেকে অন্তত ৭ বার বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের এ নিয়ে প্রস্তাব আনা হয়েছে, উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবারই পাকিস্তানের আচরণের কড়া প্রতিবাদ করেছে ঢাকা। বেশ ক’বার দেশটির হাইকমিশনারকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাকিস্তানও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে একাধিকবার বাংলাদেশের দূতকে তলব করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রায় তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। নিজামীর ফাঁসির প্রশ্নে পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া বিষয়ে গতকাল সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। আগে অবশ্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন- পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশকে হতাশ করেছে। কখনোই আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমরা কারও উদ্বেগকে স্বাগত জানাই না। বারবার মনে করিয়ে দেয়ার পরও তারা এটি করছে। তারা বলছে ব্যথিত হয়েছে, কিন্তু এখানে যাদের বিচার হচ্ছে তারা বাংলাদেশের নাগরিক। তারা পাকিস্তানের হয়ে কাজ করেছেন বলেই তাদের জন্য পাকিস্তান ব্যথিত। প্রতিমন্ত্রী মনে করেন, পাকিস্তানের এ অবস্থান বিপজ্জনক, কারণ মানবতাবিরোধী বা যুদ্ধাপরাধীদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তারা আশ্বস্ত করার জায়গা খুঁজছে। পাকিস্তান রাষ্ট্র তাদের পাশে থাকবে এ রকম একটি বার্তা তারা দিতে চাইছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

No comments:
Post a Comment