বাংলাদেশ
ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ
ব্যাংক অব নিউইয়র্ক (নিউইয়র্ক ফেড) কর্তৃপক্ষ আর্থিক লেনদেনের ঝুঁকি নিয়ে
বেশ উদ্বিগ্ন ছিল। আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে নিউইয়র্ক ফেডের কাছে
যতগুলো দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ ছিল, তার মধ্যে ‘সুইফটও’ একটি। সুইফট হচ্ছে
আন্তর্জাতিকভাবে অর্থ লেনদেনের বার্তা আদান-প্রদানের একটি মাধ্যম। সোসাইটি
ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টার ব্যাংক ফিন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন বা সুইফটের
সদর দপ্তর বেলজিয়ামে। সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকির বিষয়টি ফেডের কর্মকর্তারা
আগে থেকে ধারণা করলেও সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থা নেননি। সুইফটের
নিরাপত্তাব্যবস্থা কখনো বিঘ্নিত হবে না, এমন ধারণা থেকে তাঁরা অনেকটা
স্বাচ্ছন্দ্যে ছিলেন। তাই সাইবার নিরাপত্তার চেয়ে মানি লন্ডারিংসহ অন্যান্য
ইস্যুকে বেশি গুরুত্ব দেন। সুইফট-ব্যবস্থা নিয়ে যে ঝুঁকির আশঙ্কা আগে
থেকে করা হয়েছিল, সেটিই ঘটেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরিতে। গত
ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সাইবারের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে নিউইয়র্ক ফেডে
রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরির
ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ২ কোটি ডলার চলে যায় শ্রীলঙ্কায় আর বাকি ৮ কোটি ১০ লাখ
ডলার গেছে ফিলিপাইনে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কা
থেকে ২ কোটি ডলার ফেরত পাওয়া গেছে। তবে ফিলিপাইনে যাওয়া অর্থ এখনো ফিরে
পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির বছর খানেক আগে
নিউইয়র্ক ফেডের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সাইবার হামলার ঝুঁকিগুলো পরীক্ষা করে
দেখেন। ফেডের দুর্বলতায় সাইবার হামলা হতে পারে, এমনটি তখন তাদের মনে হয়নি।
তবে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লেনদেন-ব্যবস্থার দুর্বলতা ছিল
নিউইয়র্ক ফেডের কাছে উদ্বেগের ও ঝুঁকির কারণ। ফেডের সঙ্গে লেনদেনে যুক্ত এ
রকম বেশ কিছু বিদেশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক দুর্বল ও মেয়াদোত্তীর্ণ
তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করত, যেগুলোর নিরাপত্তা ভেদ করা সাইবার অপরাধীদের
জন্য খুব কঠিন কিছু ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের সরকার এবং ফেড নিউইয়র্কের সাবেক
ও বর্তমান সাতজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ
ছাড়া, আর্থিক লেনদেনে ব্যবহৃত সুইফটকে ব্যবহার করে সাইবার হামলা হতে পারে,
এমন আশঙ্কার বিষয়ে নিউইয়র্ক ফেড ও ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের
(এফবিআই) মধ্যে আলাপ-আলোচনাও হয়েছে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment