তামিলনাড়ুর
তিরুপুর জেলায় নির্বাচন কমিশন গতকাল শনিবার তিনটি ট্রাক আটক করেছে। কারণ,
ট্রাকগুলোতে পাওয়া গেছে মোট ৫৭০ কোটি টাকা। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই
বিপুল পরিমাণ মুদ্রা কোথা থেকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ট্রাকের লোকজন তার
কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। বিশ্বাসযোগ্য কোনো নথিও দেখাতে পারেননি।
তাই ট্রাকগুলো আটক করা হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন অফিসার রাজেশ লাখোনি
সংবাদমাধ্যমগুলোকে জানিয়েছেন, টাকার হদিস পেতে কমিশন একটা তদন্ত কমিটি গঠন
করেছে। তিনি জানান, মুদ্রাগুলো বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। মুদ্রার বাক্সও খোলা
হয়নি। তাঁরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অপেক্ষায় রয়েছেন। ব্যাংকের কর্তাদের খবর
দেওয়া হয়েছে। টাকা ছড়িয়ে নির্বাচনে জেতা, বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের
তামিলনাড়ু রাজ্যে, একটা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। সারা দেশেই কমবেশি এই প্রবণতা
রয়েছে। টাকা ও মদ ছাড়াও ভোটারদের নানা ধরনের জিনিস উপঢৌকন দেওয়া
তামিলনাড়ুসহ অনেক রাজ্যেই রীতিমতো দস্তুর। এই বছরেও শাসকদল এআইএডিএমকে
মুঠোফোন থেকে শুরু করে ল্যাপটপ, বিভিন্ন ধরনের ঋণ মওকুফ, মাতৃত্বকালীন
ভাতা ১৮ হাজার টাকা, স্কুটার বা মোপেড কেনার জন্য নারীদের ৫০ শতাংশ ভর্তুকি
দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। এমনকি, জয়ললিতা এই ঘোষণাও করেছেন যে, যেকোনো
নারীর বিয়ে হলে সরকার তাঁকে আট গ্রাম ওজনের সোনার মুদ্রা দেবে। তাঁর প্রবল
প্রতিপক্ষ ডিএমকেও ভোট পেতে এই ধরনের পাল্টা প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে
দিয়েছে। এর বাইরে রয়েছে কাঁচাটাকা বিলির চিরায়ত প্রথা। ভারতের প্রায় সব
রাজ্যেই কমবেশি এই প্রথা চালু। এই প্রবণতা রুখতেই নির্বাচন কমিশন এত কড়া।
কমিশনের নির্দেশ, নির্বাচনের দিন ঘোষণার সময় থেকে ফল বেরোনো পর্যন্ত ৫০
হাজার টাকার বেশি কারও কাছে পাওয়া গেলে কমিশনের কাছে তার জবাবদিহি করতে
হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তিনটি বিষয়ের তথ্যপ্রমাণ দেখাতে হবে। প্রথমত,
টাকাটা বৈধভাবে তোলা কি না। দ্বিতীয়ত, কী কারণে ওই টাকা সঙ্গে রাখতে হয়েছে।
তৃতীয়ত, কাকে দেওয়ার জন্য টাকাটা সঙ্গে রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন
জানিয়েছে, যদি ধরে নেওয়া যায়, ব্যবসায়ের প্রয়োজনে ওই টাকা সঙ্গে নিয়ে যেতে
হচ্ছে, তাহলে এই তিনটি প্রমাণ না দিতে পারলে টাকা বাজেয়াপ্ত করা হবে।
তামিলনাড়ুতে ইতিমধ্যেই ১০০ কোটিরও বেশি টাকা কমিশন বাজেয়াপ্ত করেছে। মজার
কথা, বাজেয়াপ্ত করা টাকার দাবিও কেউ জানায়নি। আটক হওয়া এই তিন ট্রাকের
সঙ্গীদের দাবি, পুরো টাকাটাই স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার। এই অর্থ অন্ধ্র
প্রদেশের বিজয়ওয়াড়ায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ট্রাকের
লোকজন এই দাবির সমর্থনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। ট্রাকগুলোর
সঙ্গে ব্যাংকের কর্মী ও সাদাপোশাকের পুলিশও রয়েছেন। তাঁরাও বিশ্বাসযোগ্য
প্রমাণ ও সদুত্তর দিতে পারেননি। ভোটে টাকার বোলবোলাও রুখতে নির্বাচন কমিশন
শুধু তামিলনাড়ুর জন্যই ১ হাজার ১৪০টি ‘ফ্লাইং স্কোয়াড’ গঠন করেছে।
স্কোয়াডগুলোয় পুলিশ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দারাও আছেন। এই রকম একটি
স্কোয়াডই এই ট্রাকগুলো আটক করে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment