‘বেগম’
সম্পাদক প্রয়াত নূরজাহান বেগমের মরদেহ শহীদ মিনারে আনা হয়েছে।
সর্বসাধারণের শ্রদ্ধাজানানোর জন্য বিকাল চারটার দিকে তার লাশ সেখানে আনা
হয়। সন্ধ্যায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। আজ
সোমবার সকালে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। সর্বজন শ্রদ্ধেয় এই সম্পাদক
রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বেশ কিছু দিন ধরে। গত ৫ই মে
অসুস্থ অবস্থায় তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার
অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ৭ই মে তাঁকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা
কেন্দ্রে (আইসিইউ) নিয়ে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। তিনি চিকিৎসক জাহাঙ্গীর
আলমের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় নূরজাহান বেগমের চিকিৎসার
যাবতীয় দায়িত্ব নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নূরজাহান বেগমের
মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করেছেন। শোক জানিয়েছেন
সেন্ট্রাল উইমেন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. পারভিন হাসান ও অধ্যাপক মালেকা
বেগম। বাংলাদেশে নারী সাংবাদিকতার অগ্রদূত ও সাহিত্যিক নূরজাহান বেগম ১৯২৫
সালের ৪ জুন চাঁদপুর জেলার চালিতাতলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার মায়ের নাম
ফাতেমা বেগম। নূরজাহান বেগম বিয়ে করেন কচিকাঁচার মেলার প্রতিষ্ঠাতা
সাংবাদিক রোকনুজ্জামান খান দাদাভাইকে। তাঁদের দুই সন্তান- ফ্লোরা নাসরীন
খান ও রীনা ইয়াসমিন খান। ১৯৪৭ সালে ‘বেগম পত্রিকার’ ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন নূরজাহান বেগম। জীবদ্দশায় অনেক সম্মাননায়
ভূষিত হয়েছেন নূরজাহান বেগম। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৯৬ সালের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব
হিসেবে নন্দিনী সাহিত্য ও পাঠচক্র সম্মাননা, ১৯৯৭ সালে রোকেয়া পদক, ২০০২
সালে অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার, ২০০৩ ও ২০০৫ সালে নারীপক্ষ দূর্বার
নেটওয়ার্ক ও কন্যা শিশু দিবস উদযাপন কমিটির সংবর্ধনা। এছাড়া ২০১০ সালে
পত্রিকা শিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক নারী সংগঠন ইনার হুইল
ডিস্ট্রিক্ট সম্মাননাসহ বাংলাদেশ মহিলা সমিতি, মহিলা পরিষদ, লেখিকা সংঘের
স্বর্ণপদকও পেয়েছেন নূরজাহান বেগম।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment