Sunday, May 22, 2016

রাঙামাটির ইউপি নির্বাচনে সেনাবাহিনী চায় আ.লীগ

সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ
রাঙামাটিতে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনী কার্যক্রমে সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে দাবি জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। গতকাল শনিবার সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ দাবি জানানো হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ উপস্থিতি ছিলেন। তবে তিনি আওয়ামী লীগের দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। আগামী ৪ জুন ষষ্ঠ ধাপে রাঙামাটি জেলার সব কটি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গতকালের সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার বলেন, সেনাবাহিনীকে নির্বাচনী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে হবে। নির্বাচনের পরও রাঙামাটিতে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানান তিনি। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মুছা মাতব্বর বলেন, ‘আমাদের প্রার্থীদের এলাকা ছেড়ে শহরে এসে থাকতে হচ্ছে। গত সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনে সন্ত্রাসীরা ভোটারদের হুমকি দিয়ে প্রভাবিত করেছে। এবার আর এসব কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না।’ সভায় আওয়ামী লীগের পাঁচজন চেয়ারম্যান প্রার্থী এলাকায় থাকতে না পারার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা প্রচারণা চালাতে পারছি না। নির্বাচনের সময় পোলিং এজেন্টও দিতে পারব বলে মনে হয় না।’ তবে এই সভায় আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন না। আওয়ামী লীগের নেতা ও প্রার্থীরা আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের প্রতি ইঙ্গিত করে নির্বাচনকে ঘিরে সশস্ত্র তৎপরতা চালানো ও প্রার্থীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন। আর বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী ও নেতারা দুর্গম এলাকায় সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র তৎপরতা এবং শহরে ক্ষমতাসীন দলের দাপটের অভিযোগ করেন। সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘নির্বাচন এক দিনের। আপনারা যাঁরা প্রার্থী, তাঁরা সবাই একে অপরের প্রতিবেশী, সারা জীবন পাশাপাশি থাকবেন। একজনের মাথায় লাঠি মেরে কেউ এগিয়ে যেতে পারবেন না। জনগণ একদিন এর বিচার করবে। ভোটাররা যাঁকে যোগ্য মনে করবেন, তাঁকে ভোট দেবেন। ভোটারদের রায় মেনে নেবেন।’ সিইসি আরও বলেন, রাঙামাটি জেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। নির্বাচনে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা তৎপর থাকবেন। সেনাবাহিনী টহল জোরদার করবে। তিনি বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সভায় চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এখানকার (রাঙামাটি) মানুষ সন্ত্রাসীদের ভয়ে থাকে তা সব সত্য নয়। সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে অস্ত্র দিয়ে হাঁটে বলে যে অভিযোগ করা হয়, তা-ও ঠিক নয়। কখন কোথায় সন্ত্রাসীদের অস্ত্র নিয়ে হাঁটতে দেখা যাচ্ছে, তা কিন্তু কেউ বলেন না। সভায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দীপন তালুকদার অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন দলের বাধার কারণে বিএনপির অনেক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি। স্থানীয় প্রশাসনকে সেটা জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহ আলম বলেন, তৃতীয় ধাপ থেকে ষষ্ঠ ধাপে নির্বাচন পেছালেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। যার জোর যেখানে, সে সেখানে শক্তি প্রয়োগ করছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে সন্ত্রাসীরা আর শহর অঞ্চলে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন দলের প্রার্থীদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিনের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় নির্বাচন কমিশনের সচিব সিরাজুল ইসলাম, বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ওসিসহ পুলিশ, বিজিবি, আনসার বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

No comments:

Post a Comment