Thursday, May 12, 2016

ভিকারুননিসায় নেচে–গেয়ে ফল উদ্যাপন

উল্লাসে মেতেছে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা
ফল উদ্যাপনের জন্য তৈরি করা হয়েছে মঞ্চ। বেলা দেড়টা। কিছুক্ষণ পরই ঘোষণা করা হবে জীবনের অন্যতম বড় পাবলিক পরীক্ষা এসএসসির ফল। মধ্য দুপুরের সূর্যের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে খুব কম ছাত্রীই মাঠে জড়ো হয়েছে। অবশ্য দৃশ্যপট বদলে যেতে বেশি সময় লাগল না। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাদ্যের তালে তালে নেচে-গেয়ে নিজেদের সাফল্য উদ্যাপন শুরু করল ছাত্রীরা। এই চিত্র রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বেইলি রোডের মূল ক্যাম্পাসে। এই স্কুলের ছাত্রী মুনতাহা জামান স্কুল থেকে ফল ঘোষণা করার আগেই সেলফোনে এসএমএসের মাধ্যমে নিজের ফল পেয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তারপরও স্কুলে এসেছে বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে। তার বন্ধুদেরও বেশির ভাগ জিপিএ-৫ পেয়েছে। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, স্কুলের নয়টি শাখা থেকে মোট ১ হাজার ৬২৯ জন পরীক্ষা দেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ৬২২ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৪২০ জন। এদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১ হাজার ৪০৩ জনের মধ্যে ১ হাজার ৩৬০ জন, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ২০৭ জনের মধ্যে ৫৯ জন এবং মানবিকের ১৭ জনের মধ্যে দুজন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এই ফলে খুশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা। বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাজনীন ফেরদৌস গতকাল ফল তুলে ধরে সাংবাদিকদের বলেন, এই ফলে তাঁরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দ্বিমুখী প্রচেষ্টায় এই ফল সম্ভব হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, অন্যবারের চেয়ে এবার উদ্যাপনের মাত্রা কিছুটা কম। তুলনামূলক কমসংখ্যক ছাত্রী এবার ক্যাম্পাসে এসেছে। তাদের ধারণা, ফল যেহেতু ঘরে বসেই পাওয়া যাচ্ছে, তাই গরমের কারণে অনেকে আসেনি। কিন্তু তাই বলে উৎসবের কমতি ছিল না। মেয়েরা আনন্দ করেছে যে যার মতো করে। প্রতিষ্ঠানটির অন্য শাখাগুলো থেকেও অনেক শিক্ষার্থী উদ্যাপনের জন্য চলে এসেছিল মূল ক্যাম্পাসে। তেমনই একজন ভিকারুননিসার বসুন্ধরা শাখা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নাহরা নূর। ফল ভালো হবে—এমন বিশ্বাস ছিল, তাই উদ্যাপন করতে আগেই বন্ধুদের নিয়ে সে চলে আসে ভিকারুননিসার মূল ক্যাম্পাসে। নাহরা প্রথম আলোকে বলে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে তার খুব খুশি লাগছে। দুই বছর কষ্টের ফল সে পেয়েছে। কিন্তু কাজ শেষ হয়ে যায়নি। তার ইচ্ছা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) স্থাপত্য বিষয়ে পড়া।

No comments:

Post a Comment