Monday, May 9, 2016

ডিএসই আরও পাঁচ বছর কর অবকাশসুবিধা চায়

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ডিএসইর সভাপতি বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান
মিয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন (বাঁ থেকে) ডিএসইর পরিচালক রুহুল
আমিন ও শাকিল রিজভী এবং ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক
আবদুল মতিন পাটোয়ারী l ছবি: ডিএসইর সৌজন্যে
আগামী পাঁচ বছর সম্পূর্ণভাবে কর অবকাশসুবিধা চেয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। ২০১৩ সালে স্টক এক্সচেঞ্জের মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা আলাদা (ডিমিউচুয়ালাইজেশন) হওয়ার পর স্টক এক্সচেঞ্জটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধিত হয়। ডিমিউচুয়ালাইজেশনের আগে ডিএসইর নিবন্ধন ছিল অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে। ডিমিউচুয়ালাইজেশনের পর লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ায় সরকার ডিএসইকে ক্রমহ্রাসমান হারে প্রাতিষ্ঠানিক করের আওতাভুক্ত করে। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছর পর্যন্ত ডিএসই শতভাগ কর অবকাশসুবিধা ভোগ করছে। আগামী অর্থবছর থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর নির্ধারিত করের ওপর ডিএসইকে যথাক্রমে ৮০, ৬০, ৪০ ও ২০ শতাংশ হারে কর অব্যাহতি সুবিধা দেওয়া হয়। কিন্তু আগামী অর্থবছর শুরুর আগে এসে ডিএসই আরও পাঁচ বছরের জন্য শতভাগ কর অবকাশসুবিধা চেয়েছে। গতকাল রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তুলে ধরেন সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মতিন পাটোয়ারী। সংবাদ সম্মেলনের আগে ডিএসইর প্রতিনিধিরা বাজেট সামনে রেখে বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রাতিষ্ঠানিক কর অবকাশসুবিধা ছাড়াও শেয়ারবাজারের জন্য আরও বেশ কয়েকটি সুবিধা চেয়েছে ডিএসই। তার মধ্যে বিনিয়োগকারীদের করমুক্ত লভ্যাংশ আয়ের সীমা ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন ট্রেক হোল্ডার বা ব্রোকারেজ হাউসের লেনদেনের ওপর আরোপিত দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ উৎসে কর কমিয়ে দশমিক শূন্য ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার সুপারিশ করেছে ডিএসই। বর্তমানে কোনো একজন বিনিয়োগকারী শেয়ার লেনদেন বা কেনাবেচা করলে প্রতি ১০০ টাকার লেনদেনের জন্য ৫ পয়সা হারে উৎসে কর দিতে হয়। শেয়ার কেনা বা বেচার ক্ষেত্রে আলাদাভাবে এ উৎসে কর কর্তন করা হয়। আর ডিএসই এখন দাবি করছে লেনদেনের ক্ষেত্রে সেই উৎসে করহার দেড় পয়সায় নামিয়ে আনতে। ডিএসই মনে করছে, এতে বাজারে লেনদেন বাড়বে। আর তাতে সরকারের আয়ও বেড়ে যাবে। ডিমিউচুয়ালাইজেশন-পরবর্তী আরও পাঁচ বছরের জন্য কর অবকাশসুবিধার দাবির যৌক্তিকতা সম্পর্কে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত এমডি বলেন, ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিমের আওতায় স্টক এক্সচেঞ্জের যে সংস্কার চলছে তা চলমান রাখতে ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে বাড়াতে ডিএসইর আরও কয়েক বছর কর অবকাশসুবিধা দরকার। এ ছাড়া ডিমিউচুয়ালাইজড স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে স্ট্যাম্প ডিউটি প্রত্যাহার এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানির অভিন্ন হিসাববছর চালুর বিধানটি বাধ্যতামূলক না করে ঐচ্ছিক করারও দাবি জানিয়েছে ডিএসই। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ডিএসইর সভাপতি বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া, পরিচালক রুহুল আমিন ও শাকিল রিজভী। বাজার পরিস্থিতি: এদিকে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে গতকাল দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেন কমলেও সূচক বেড়েছে। প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এদিন ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৪০ পয়েন্টে। দিন শেষে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৯৭ কোটি টাকা, যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৮১ কোটি টাকা কম। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচকটি গতকাল দিন শেষে প্রায় ৯৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৩৪২ পয়েন্টে। এদিন সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় সাড়ে ২৩ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে দেড় কোটি টাকা কম।

No comments:

Post a Comment