![]() |
| কংগ্রেসের প্রধান সোনিয়া গান্ধীকে আটক করতে পুলিশের তৎপরতা। ছবি: এএফপি |
গণতন্ত্র
রক্ষায় ভারতের পার্লামেন্ট ঘেরাও কর্মসূচি পালনের সময় কংগ্রেসের প্রধান
সোনিয়া গান্ধী, সহসভাপতি রাহুল গান্ধী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে
আটক করে পুলিশ। তবে কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের প্রতিরোধের মুখে কিছুক্ষণ পরেই
তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। আজ শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। অগাস্টা
ওয়েস্টল্যান্ড কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে বিজেপি সরকার ও কংগ্রেসের
সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের শুরু হয়। এ নিয়ে ভারতের চলতি অধিবেশন শুরু থেকেই
উত্তাল। ভারতের বর্তমান শাসক দল বিজেপির অভিযোগ, এ কেলেঙ্কারিতে সোনিয়া
গান্ধীসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা জড়িত। তবে গান্ধী পরিবার এমন অভিযোগ
অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ করে বলছে, বিজেপি সরকার দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস
করে দিচ্ছে। ‘গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার’ প্রতিবাদে শুক্রবার সকালে
পার্লামেন্ট ভবন থেকে কিছুটা দূরত্বে যন্তর মন্তরে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে
বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সোনিয়া ও রাহুল গান্ধী ছাড়াও সেই
সমাবেশে যোগ দেন মনমোহন সিং, মল্লিকার্জুন খাগড়ে, গুলাম নবী আজাদ, আহমেদ
প্যাটেল, অম্বিকা সোনিসহ দলের অধিকাংশ শীর্ষ নেতা। বিক্ষোভ সমাবেশের মূল
স্লোগান ছিল ‘গণতন্ত্র রক্ষা’। সোনিয়া, মনমোহন সিংয়ের ভাষণেও ছিল
গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষার সংকল্প। তিনি বলেন, ‘নাগপুর
থেকে আরএসএসের ইশারায় মোদি সরকার চালিত হচ্ছে। সরকারের সুরে যারা সুর
মেলাচ্ছে না, তাদের হয়রানি করা হচ্ছে। মানহানি করা হচ্ছে। আমরা এটা হতে
দেব না।’
![]() |
| সোনিয়া গান্ধীর ছেলে ও কংগ্রেসের সহ সভাপতি রাহুল গান্ধীকে আটক করা হচ্ছে। ছবি: এএফপি |
কেলেঙ্কারির
প্রসঙ্গ সরাসরি উল্লেখ না করে বিজেপির উদ্দেশে সোনিয়া বলেন, ‘জীবন আমাদের
লড়াই করতে শিখিয়েছে। এখান থেকে শাসকদের এই বার্তাই দিতে চাই যে তোমাদের
দিন শেষ হয়ে এসেছে। এভাবে চললে মানুষই তাদের উচিত শিক্ষা দেবে।’ একেবারে
সরাসরি বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সমাবেশ শেষে সোনিয়া, মনমোহন, রাহুলসহ
সব নেতা পার্লামেন্ট ভবন অভিযান শুরু করেন। পার্লামেন্ট মার্গে ছিল ব্যাপক
পুলিশি প্রহরা। নিয়ম অনুযায়ী ওই অঞ্চলে চব্বিশ ঘণ্টাই ১৪৪ ধারা জারি
থাকে। আইন অমান্যের দরুন পুলিশ সোনিয়াদের আটক করে পার্লামেন্ট ভবন থানায়
নিয়ে যায়। ১০ মিনিটের মধ্যেই অবশ্য আটক নেতাদের ব্যক্তিগত জামিনে মুক্তি
দেওয়া হয়। পার্লামেন্ট মার্গ থেকে কংগ্রেসের নেতারা সবাই চলে আসেন
পার্লামেন্ট ভবনে। সেখানেও শুরু হয় কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপি সদস্যদের তীব্র
বাদানুবাদ। লোকসভায় অগাস্ট ওয়েস্টল্যান্ড কেলেঙ্কারি নিয়ে বলতে ওঠেন
প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকর। তাঁর আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল কংগ্রেস।
তিনি বলেন, ‘বিমানবাহিনীর সাবেক সেনাপ্রধানসহ যাঁদের সিবিআই জেরা করছে,
তাঁরা সবাই ক্ষুদ্র মানুষ। গঙ্গা দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রবাহে তাঁরা হাত
ধুয়েছেন। গঙ্গার প্রবাহ কোন খাতে গড়িয়েছে আমাদের সরকার সেটাই তদন্ত
করছে।’ কংগ্রেসিদের তীব্র বিরোধিতার মুখে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমি তো
কারও নাম করিনি। আপনারা তা হলে কেন উত্তেজিত? তার মানে আপনারা জানেন,
গঙ্গার প্রবাহ কোন দিকে বয়েছিল। এই গোলমালের মধ্যেই কংগ্রেস সদস্যরা ওয়াক
আউট করেন।’ প্রসঙ্গত, ভারতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ব্যবহারের
জন্য অ্যাংলো ইতালিয়ান সংস্থা অগাস্টা ওয়েস্টল্যান্ডের কাছ থেকে কয়েকটি
হেলিকপ্টার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তৎকালীন কংগ্রেস সরকার। সেই চুক্তিতে
মোটা অঙ্কের ঘুষ লেনদেন হয়েছিল বলে সম্প্রতি ইতালির একটি আদালত রায়
দিয়েছেন। এটি ভারতে অগাস্টা ওয়েস্টল্যান্ড কেলেঙ্কারি বা চপারকাণ্ড নামে
পরিচিত।


No comments:
Post a Comment