ডোনাল্ড
ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সঙ্গে সাক্ষাত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন কয়েকদিন আগে।
এর জবাবে কিম জং-উন বলেছেন, তার এ প্রস্তাব অর্থহীন। এটা তার রাজনৈতিক
প্রচারণার অংশ। যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৮ই নভেম্বর অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট
নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের ‘গৃহীত মনোনীত’ প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি
সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার এই নেতার সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা বলেন। বলেন, আলোচনার
মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সমস্যার সমাধান করা হবে। এর মাধ্যমে
পিয়ংইয়ংকে পারমাণবিক কর্মসূটি থেকে বিরত রাখা হবে। কিন্তু জাতিসংঘে নিযুক্ত
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত সো সি পিয়ং বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে
সাক্ষাত করবেন কিনা সে সিদ্ধান্ত একান্তই আমাদের সুপ্রিম নেতার সিদ্ধান্ত।
তবে আমি মনে করি ট্রাম্পের ধারণা বা তার কথা অর্থহীন। এ খবর দিয়েছে একটি
বৃটিশ মিডিয়া। তাতে বলা হয়, ওই রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ট্রাম্পের এসব কথা বলার
অর্থ হলো আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এ প্রচারণাকে ব্যবহার করা। এর বাইরে
আর কিছু নেই। এটা তার এক রকম প্রচারণা বা বিজ্ঞাপন। এর কোন অর্থ হয় না। এর
মধ্যে কোন আন্তরিকতা নেই। তিনি আরও বলেন, এর আগে বারাক ওবামাও প্রতিশ্রুতি
দিয়েছিলেন ডেমোক্রেটিক পিপলস রিপাবলিক অব কোরিয়ার নেতার সঙ্গে সাক্ষাতের।
কিন্তু তার সেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করেন নি। উল্লেখ্য, জানুয়ারিতে
উত্তর কোরিয়া চতুর্থ পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে উৎক্ষেপণ
করেছে দূরপাল্লার রকেট। এতে আন্তর্জাতিক অবরোধ কড়াকড়ি করা হয়। দক্ষিণ
কোরিয়া এ ইস্যুতে আরও কঠোর অবস্থান নেয়। জাতিসংঘ সমর্থিত নিরস্ত্রীকরণ
বিষয়ক কনফারেন্স অন ডিজআর্মামেন্ট সমর্থন করেন উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত।
তিনি আবারও বলেন, তার দেশ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সিক্স-পার্টির (শক্তিধর
ছয়টি দেশ) সঙ্গে আলোচনায় ফিরতে প্রস্তুত। এ ধারণাকে সমর্থন করে চীন ও
রাশিয়া। তবে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দক্ষিণ
কোরিয়া ও জাপান। ফলে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেন, একটি পারমাণবিক
অস্ত্রধার দায়িত্বশীল দেশ হিসেবে তার দেশ কখনোই প্রথম এ অস্ত্র ব্যবহার
করবে না। যদি যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে তাদের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার
করে, তবেই উত্তর কোরিয়াও তা ব্যবহার করবে। তিনি আরও বলেন, যদি
যুক্তরাষ্ট্র তার শত্রুতাপূর্ণ নীতি পরিবর্তন করে, তাদের উদ্দেশ্য পরিবর্তন
করে তাহলে উত্তর কোরিয়াও একটি স্বাভাবিক দেশ হিসেবে সম্পর্ক বজায় রাখবে।
ওদিকে উত্তর কোরিয়া সামরিক বিষয়ে আলোচনার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে যে
প্রস্তাব পাঠিয়েছে তা প্রত্যাখ্যান করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। তারা বলেছে, এটা
একটি ভুয়া শান্তি প্রক্রিয়া।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment